ফিরে যেতে চান

মো. সাইদুর রহমান (বিভাগীয় কমিশনার)

মো. সাইদুর রহমান (বিভাগীয় কমিশনার)

মো.সাইদুর রহমান বিসিএস ক্যাডারের কর্মচারী ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি রাজশাহী বিভাগের কমিশনার হন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভূত্থানের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি সরকারের পতনের পর ৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ তারিখ মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বাবলুর মেয়র পদ থেকে অবসান ঘটে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার রাজশাহী বিভাগের  কমিশনার সাইদুর রহমানকে ১৫ ডিসেম্বর ১৯৯০ তারিখে মেয়রের দায়িত্ব প্রদান করে। তিনি ৮ মে ১৯৯১ তারিখ পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
সাইদুর রহমান ১৯৩৫ সালের ১ মার্চ নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কাউরটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শরীপ উদ্দিন আহমেদ। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সাইদুর রহমান সবার বড়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন। পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। চাকরিতে যোগদানের পর কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, ঢাকায় অবস্থিত গেজেটেড অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্টাফ কোর্সে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৭৯-১৯৮০ সালে বিটিএ’র আওতাধীন বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিপ্লোমা ডিগ্রী লাভ করেন। এছাড়া তিনি পেশাগত কর্মের তাগিদে বিভিন্ন সময়ে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া সফরের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
১৯৬১ সালে এক্সট্রা অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট) পদে যোগদান করেন সাইদুর রহমান। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কালেকটরেটে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন। এরপর ১৯৬৬ সালে ঢাকায় সহকারী ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা, ১৯৭০ সালে টাঙ্গাইলের ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা পদে যোগদান ও দায়িত্ব পালনের পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে সেকশন অফিসার (অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারী)’র দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ সরকারের অধীনে চাকরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করার কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত ও অন্তরীণ করা হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিনি বাংলাদেশের সর্ব প্রথম শুমারীতে সহকারী সেনসাস কমিশনার, ১৯৭৫ সালে বৃহত্তর বরিশাল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ১৯৭৭ সালে খুলনা বিভাগের উপ পরিচালক (স্থানীয় সরকার) এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে পদোন্নতি পেয়ে উপ সচিব হন এবং খুলনা বিভাগ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব ও পরবর্তীতে বন শিল্প কর্পোরেশনের সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে পাবনা জেলা প্রশাসক ও ১৯৮৫ সালে রাজশাহী জেলা প্রশাসক পদে নিয়োজিত হন। এ সময় তিনি বৃহত্তম জেলাসমূহের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান’র অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সালে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হন এবং মৎস্য বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রশাসন, ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিভাগের কমিশনার, ১৯৯১ সালে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজশাহী বিভাগের কমিশনার থাকাকালীন তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরকালীন ছুটিতে যান এবং ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আনজুমান মুফিদুল ইসলামের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সাইদুর রহমানের স্ত্রী গুলশান আরা। এ দম্পতির একমাত্র সন্তান শায়লা রহমান। মা ও কন্যা উভয়ই রাজশাহী মহিলা কলেজের ছাত্রী ছিলেন। শায়লা রহমান পেশাগত জীবনে একজন শিক্ষিকা ও নজরুল সঙ্গীত শিল্পী।
সাইদুর রহমান ছাত্র জীবনে ভালো সাঁতারু ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সাঁতারে কৃতিত্বের জন্য সলিমুল্লাহ মুসলিম হল কর্তৃপক্ষ তাকে ব্লু প্রদান করে।৫৬৮