ফিরে যেতে চান

আলহাজ মো. দুরুল হুদা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ  মো. দুরুল হুদা বাংলা  ১৩৬২ সালের ৮ আষাঢ় অনুসারে  ইংরেজি ১৯৫৫ সালের জুন মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার মোল্লাটোলা  গ্রামে  পিতৃ নিবাসে  জন্ম  গ্রহণ করেন। তবে তাঁর একাডেমিক সার্র্টিফিকেটের জন্ম তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭। পিতা আলহাজ মো. আব্দুল কুদ্দুস। তিনি ৭ ডিসেন্বর ২০০৫ তারিখে মৃত্যু বরণ করেন। মাতা জীবন নেসা ১৯৮৪ সালের ৬ অক্টোবর মৃত্যু বরণ করেন। 
দুরুল হুদা চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করলেও কৈশোর থেকেই তিনি রাজশাহী মহানগরীতে বসবাস করছেন। তিনি এখনও মহানগরীর রানী বাজারে অবস্থিত তার পৈতৃক বাড়িতেই আছেন।
তিনি শিরোইল উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বিজ্ঞান বিভাগে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ৮ম শ্রেণীতে ভাল ফলাফলের উদ্দেশ্যে দুই বছর পড়লেও শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৭৩ সালে কলা বিভাগেই এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৪-১৯৭৫  শিক্ষা বর্ষে রাজশাহী কলেজের আইএ এর ছাত্র ছিলেন। আইএ পাস করার পর তার ৪ বছর লিখা-পড়া বন্ধ ছিল। ১৯৭৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে অনার্স ফাইনাল ইয়ার পরীক্ষাকালীন সময়ে মা জীবন নেসার পরলোক গমন করার কারণে মাত্র ৩টি পত্র পরীক্ষা দিয়ে অবশিষ্ট পত্রগুলোই আর অংশ গ্রহণ করেননি। তাঁর একাডেমিক পড়াশোনার যবনিকা ঘটে এখানেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে  শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলের অনাবাসিক ছাত্র ছিলেন। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে তার ক্রমিক নম্বর ছিল ১০৯১ এবং রাজশাহী কলেজে ক্রমিক নং ছিল ১০৯।
তিনি ১৯৮৫ সালের ৯ আগষ্ট পাবনা শহরের রাঘবপুর মহল্লার আক্কাস আলী খানের ৪র্থ বা কনিষ্ঠা কন্যা নুরজাহান বেগমকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির চার  সন্তানের মধ্যে ৩ কন্যা ও ১ পুত্র। প্রথম সন্তান শামসুন নাহার দিশা, ২য় মো. রেজওয়ানুল হুদা, ৩য় ইসরাত জাহান দ্যুতি ও ৪র্থ নুসরাত জাহান দৃষ্টি। দুরুল হুদার কর্মময় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ । ১০ম শ্রেণির ছাত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে ভারতের সিলিগুঁড়ির পানিঘাটা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর এফএফ নং ২৩৭৫। চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাক বাহিনীর সঙ্গে গেরিলা ও প্রত্যক্ষ সম্মুখ যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরে রাজা রামপুর গালর্স স্কুলের সন্নিকটে পাক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধকালে বোমার ¯িপ্রন্টারে ডান হাতের কবজিতে আঘাত প্রাপ্ত হন।
বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সংসদের নেতা হিসাবেই তিনি রাষ্ট্রের অন্যান্য দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজশাহী জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা দপ্তর সম্পাদক হন। ১৯৭৪/ ১৯৭৫ (?) সালে জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৭৭ সালে সহকারী কমান্ডার (সাংগঠনিক), ১৯৭৮ সালে ডেপুটি কমান্ডার ও ১৯৮০ -১৯৮৬ সাল পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন। ১৯৮০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরও কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন।
১৯৮৭ সালের আগষ্টে রাজশাহী পৌরসভা পৌর কর্পোরেশন হলে তিনি এর প্রথম উপ প্রশাসক মনোনীত হন। ১ নভেম্বর ১৯৮৭ তারিখ থেকে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি উপ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।২৪৪ ১৯৮৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ি-তানোর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪র্থ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১০ এপ্রিল ১৯৯০ তারিখের সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে রাজশাহী পৌর কর্পোরেশনের (রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন) মেয়র নিযুক্ত হন।২৪৫ ১৬ এপ্রিল ১৯৯০ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৯০ তারিখ পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। মেয়র থাকাকালীন সময় তিনি উপ মন্ত্রীর মর্যাদা উপভোগ করেন।২৪৬ ২১ নভেম্বর ১৯৯০ তারিখে তিনি রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।২৪৭
দুরুল হুদা ১৯৯০ সালের পূর্বে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেননি। ১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টির রাজশাহী জেলা শাখার কার্য নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জাতীয় পাটির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রাজনীতি নিষ্ক্রিয় থাকার পর ২০০৪ সালে জাতীয় পার্টির রাজশাহী মহানগরী শাখার আহবায়ক মনোনীত হন এবং ২১ ডিসেম্বর কাউন্সিল সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২৫ ডিসেম্বর ২০০৫ তারিখে তাঁর প্রদত্ত তথ্যানুসারে তিনি জাতীয় পার্টির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি ও জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তার নিকট থেকে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা থাকাকালীন সরকারের নিকট গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। যেমন- বিটিভিতে খবরের পূর্বে জাতীয় স্মৃতি সৌধ প্রদর্শন, মুজিব নগর স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ও জেলা শাখার জন্য জায়গা প্রদান, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ৩নং গেটের নাম বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, বীর শ্রেষ্ঠদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তকরণ, শহীদ পরিবারের সদস্য ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান ইত্যাদির প্রস্তাব পেশ করেন। 
রাজশাহী  সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সমাজ সেবক হিসেবে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তাঁর তথ্যানুসারে ১৯৮৬ সালে তিনি জন্মগত গ্রাম শিবগঞ্জ থানার মোল্লাটোলা গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজশাহী মহানগরীতে টাউন সার্ভিস চালু করেছিলেন। দুরুল হুদা ব্যবসার মাধ্যমে পেশা জীবন শুরু করেন। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি সস্ত্রীক হজব্রত পালন করেন। ১৯৮৪ সালে সিঙ্গাপুর, মালোশিয়া ও থাইল্যান্ড সফর করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সফর করেন।