ফিরে যেতে চান

সমাজ সেবা অধিদপ্তর

১৯৫৫ সালে শহর সমাজসেবা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে রাজশাহী জেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সূচনা হয়। ১৯৬৬ সালে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় রাজশাহী মহানগরীতে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বৃদ্ধি, কারিগরি ও সেলাই প্রশিক্ষণ, পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন উপজেলায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরম্ভ করে। রাজশাহী জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের ৬ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখের এক প্রতিবেদন অনুসারে বর্তমান রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলা ও শহর সমাজ সেবা প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ৬৮৬টি প্রকল্পভুক্ত গ্রাম ও মহল্লায় ১৪৫৫টি দলে ২৮,০৮০টি পরিবারের মধ্যে ৩,৩৩,৫০,০৫১/- টাকা ঘূর্ণায়মান আর্থ-সামাজিক ঋণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ৪০৬৩ জনের সরাসরি কার্মসংস্থান করা হয়েছে। পূর্বে জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর রাজশাহী মহানগরীর ১৮৪নং বাসায় ৩নং সেক্টর সপুরায় ছিল। বর্তমান অফিস উপশহর সেনানিবাস রোডে। এর প্রধান হলেন উপ পরিচালক।
রাজশাহী মহানগরীতে সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যক্রম
প্রবেশন: ১৯৬৮ সালে রাজশাহী মহানগরীতে প্রবেশন অব অফেন্ডার্স এবং আফটার কেয়ার সার্ভিস চালু হয়। প্রবেশন কার্যালয়টি রাজশাহী কোর্টে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন প্রথম ও লঘু অপরাধীদের কারাগারে প্রেরণের পরিবর্তে শর্তাধীনে প্রবেশনে ১৯৬০ সালের প্রবেশন অব অফেন্ডার এ্যাক্ট এবং ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের আওতায় প্রবেশন অফিসার স্থানীয় থানা ও সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তাবায়ন করেছেন। যেমন- (ক) থানা ও সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃক নির্ধারিত আইনের আওতায় প্রবেশন গ্রহণ। (খ) জেল ফেরত কয়েদীদের আফটার কেয়ার পূনর্বাসনমূলক কার্যক্রম (ঋণ দান)। (গ) সন্দেহভাজন ভবঘুরে, বর্ডার থেকে আটককৃত ব্যক্তিকে তাদের প্রকৃত অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর । (ঘ) জেল হাজতিদের শিক্ষা কার্যক্রম। (ঙ) জেল হাজতিদের দর্জ্জি বিজ্ঞান কার্যক্রম। (চ) জেল হাজতিদের আরবী শিক্ষা কার্যক্রম। (ছ) জেল হাজতীদের জীবনের মূল শ্রোতধারায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কাউনসেলিং।
হাসপাতাল সমাজসেবা: রাজশাহী চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে ১৯৬১ সালে অফিসটি স্থাপিত হয়। অফিসটি হাসপাতালের আউটডোরে অবস্থিত।
হাসপাতাল সমাজসেবার কার্যক্রম/লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: (ক) রোগীর পারিবারিক ও সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক চাপে অসুস্থতার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা, (খ) দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের ঔষধ ও পথ্য ক্রয়ে সহায়তা প্রদান, (গ) বাড়িতে যোগাযোগ ও যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ, (ঘ) অপারেশন সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ, (ঙ) স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে নিবেদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান গ্রহণ করে উল্লিখিত সেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ এবং (চ) এককালীন ২ হাজার টাকা অনুদানের ভিত্তিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে রোগী কল্যাণ সমিতিতে আজীবন সদস্যভুক্তকরণ।
এ প্রতিষ্ঠানটির আয়ের উৎস মূলত জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ প্রদানকৃত এককালীন অনুদান ও মানব হিতৈষী ব্যক্তিদের চাঁদা।
আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র : সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মহানগরীর কাদিরগঞ্জে ১৯৮১-১৯৮২ অর্থ বছরে স্থাপন হয়। এখানে ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা আছে। এখানে বিভিন্ন সময়ে সরকারি নির্দেশার প্রেক্ষিতে ওয়ার্কশপ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের ৬ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখের প্রতিবেদন অনুসারে এ পর্যন্ত ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
পিএইচটি সেন্টার (অন্ধ ও বোবা স্কুল ): সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত পিএইচটি সেন্টার বা অন্ধ ও বোবা স্কুল মহানগরীর ষষ্ঠিতলায় ১.৮৪৩ একর জমির উপর ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।১৭ (বিস্তারিত শিক্ষা অধ্যায়) 
সরকারি শিশু সদন, বায়া: মহানগরীর উপকণ্ঠে বায়ায় ১০ একর জমির উপর সরকারি শিশু সদন অবস্থিত। এটা ১৯৫৮ সালের ২৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজের অসহায় পিতৃহীন ৫ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের স্নেহ ও ভালবাসার মাধ্যমে লালন-পালন ও শিক্ষা/প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পরিবারের মতো শিশুদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, পোশাক, নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে। এর অনুমোদিত আসন সংখ্যা ১৫০ টি। প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের অন্তুর্ভুক্ত।১৭
ছোট মনি নিবাস (বেবি হোম) : মহানগরীর বর্ণালী সিনেমা হলের কিছু পশ্চিমে গ্রেটার রোডে ছোট মনি নিবাস অবস্থিত। অনাথ, দাবীহীন শিশুদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে  সামজ সেবা অধিদপ্তর নিবাসটি স্থাপন করে।
এখানে শিশুদের প্রকৃত মায়ের সেবা দিয়ে লালন-পালন ও লিখা-পড়া করানো হয় এবং পাঁচ বছর হলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ করে বায়া শিশু সদনে পাঠানো হয়। আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তি, সংস্থা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনাথ শিশুদের সংগ্রহ করে বিধি সম্মতভাবে বিশেষ ব্যক্তি ও সংস্থার মাধ্যমে ছোটমনি নিবাস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেন।
অপরাধী ও সাজাপ্রাপ্ত মায়ের ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও সাময়িকভাবে ছোটমনি নিবাসে রাখা হয়। সাজা শেষ হলে মায়েরা এ শিশুদের নিয়ে যেতে পারেন। পাচারকারী হাত থেকে উদ্ধারকৃত, রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ও বিভিন্ন আদালতের নির্দেশিত শিশুকেও সাময়িকভাবে এখানে রাখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশে বৈধ অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর করা হয়। 
মহিলা ও শিশু-কিশোর হেফাজতীদের আবাসন কেন্দ্র : প্রতিষ্ঠানটি বায়ায় অবস্থিত। ৬ মার্চ ২০০৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর উদ্বোধন করেন।১৩৫ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ৬ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখের প্রতিবেদন অনুসারে দেশের ছিন্নমূল কুসংসর্গে বেপরোয়াভাবে ঘোরাফেরা করা, সন্দেহভাজন বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত হওয়া বা অপরাদ চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত আটককৃত মহিলাদের কিংবা প্রথমবারের মত অপরাধের সঙ্গে জড়িত মহিলাদের নিরাপদ হেফাজতে এবং পুনর্বাসন ও সামাজিক কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য এ সেফ হোম কাজ করে।
শহর সমাজসেবা কার্যালয়১৬ : জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর, রাজশাহীর ৬ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখের প্রতিবেদন অনুসারে ১৯৫৫ সালে শহর সমাজ সেবার মাধ্যমে রাজশাহীতে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সূচনা হয়। শহর সমাজ সেবা, রাজশাহীর ১৬ নভেম্বর ২০০২ তারিখে প্রতিবেদন অনুসারে ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে রাজশাহী শহর সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ প্রকল্পটি তৎকালীন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের হোসেনীগঞ্জে,  দরগাপাড়া, ৫নং ওয়ার্ডের কাজীহাটা, ৬নং ওয়ার্ডের হেতমখাঁ ও কাদিরগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। ১৯৬৫ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয় প্রকল্প চালু হয়। প্রথম দিকে প্রকল্পের কর্মসূচি বাস্তাবায়নের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদেরকে একত্রিত করে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ (সেলাই, উল বুনন প্রভৃতি) প্রদান করা হতো। ১৯৮০-৮২ সালে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুবকদের জন্য সেপী ও পাওসী কর্মসূচির মাধেমে ১ হাজার হতে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দেয়া হতো। ১৯৮২ সালের শেষের দিকে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচি চালু হয়। প্রথমে শেখের চক বস্তিতে কাজ শুরু হয়। 
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নতির জন্য শহর সমাজসেবা বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে কাজ করে। যেমন- মহানগরীর কাজীহাটা, মালদহ কলোনী, বিলপাড়াতে পরিবার উন্নয়ন কর্মসূচি; মথুরডাঙ্গা ও শ্রীরামপুর এলাকায় সিইডিসি প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্যতা বিমোচন ও মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য কাজ করে। 
শহর সমাজসেবা কার্যক্রম সরকারি কর্মসূচির সাথে বেসরকারি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করে সমাজের দুস্থ মানুষসহ সকলের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা সমষ্টিগত উন্নয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সমাধান করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প পরিষদ নামে ১৯৬১ সালের ৪৬নং স্বেচ্ছাসেবামূলক সমাজ কল্যাণ প্রতিষ্ঠান অর্ডিন্যান্সের আওতায় নিবন্ধীকৃত হয়। সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এ পরিষদ গঠিত হয়।
এছাড়াও শহর সমাজসেবা কার্যালয় রাজশাহী মহানগরীতে ১৯৮৭ সালের মার্চ থেকে ২০০২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৯২টি সংঘ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত করেছে। তবে এগুলোর বেশ কয়েকটির কার্যক্রম বন্ধ আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহর সমাজসেবা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শহর সেবা, রাজশাহীর কার্যালয়ের মোট জনবল সংখ্যা ৮ জন। এর প্রধান সমাজসেবা কর্মকর্তা। শহর সমাজসেবা প্রথমে কাজীহাটায় ছিল। বর্তমানে মহানগরীর সপুরায় (উপশহর) অবস্থিত।