ফিরে যেতে চান

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

রাজশাহী মহানগরীতে ফায়ার স্টেশন ২টি। একটি নগরীর শেখপাড়ায় অবস্থিত বিভাগীয় অফিস। আর একটি স্টেশন  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমে চৌদ্দপায়া নামক স্থানে রাজশাহী-নাটোর রোডে অবস্থিত। এর প্রধান হলেন একজন ফায়ার অফিসার।  
পূর্বে রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার ফায়ার স্টেশনসমূহ বিভাগীয় অফিসের আওতাধীন ছিল। রাজশাহী বিভাগ থেকে রংপুর পৃথক বিভাগ হওয়ার পর রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা এ অফিসের প্রশাসনিক এলাকা। ফায়ার স্টেশনকে কেন্দ্র করে ঐ স্থানের নামকরণ হয়েছে ফায়ার ব্রিগেডের মোড়। 
২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাজশাহীতে একটি অগ্নি নির্বাপক দল ছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে প্রথম বেঙ্গল ফায়ার সার্ভিস সংগঠন করা হয় এবং ১৯৪৫ সালে রাজশাহীর অগ্নি নির্বাপক দলটিকেই দমকল হিসাব রেখে দেয়া হয়। এর প্রধান ছিলেন ফায়ার সার্ভিস অফিসার।২ ১৯৫০ সাল পর্যন্ত দমকল ঢাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক পরিদপ্তরের অধীন ছিল। তখন এখানে উপ আঞ্চলিক অগ্নি নির্বাপক অফিস স্থাপন করা হয় এবং প্রধান ছিলেন সহকারী আঞ্চলিক অগ্নি নির্বাপক অফিসার। ১৯৫২ সালে উপআঞ্চলিক অফিস আঞ্চলিক অফিসে পরিণত হয়। ১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলা আঞ্চলিক অফিস  থেকে পৃথক হয়ে যায়। ২ ডিসেম্বর ২০০২ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ১৯৮২ সালে আঞ্চলিক অফিসের নাম পরিবর্তন হয়ে বিভাগীয় অফিসে রূপান্তরিত হয়। রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলার ২৭টি ফায়ার স্টেশন ছিল এ অফিসের প্রশাসনিক এলাকা। এর মধ্যে ৬টি ১ম শ্রেণির এবং ২১টি ২য় শ্রেণির স্টেশন। এছাড়াও ৩টি স্ট্যান্ডবাই স্টেশন ছিল। প্রতিটি জেলার স্টেশন প্রধান উপ-পরিচালক। ১৯৬২ সালে রাজশাহীতে যে বেসামরিক প্রতিরক্ষার ১টি অফিস স্থাপিত হয়েছিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে যে রেসকিউ কার্যক্রম ছিল তা ১৯৮২ সালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে নতুন নাম হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

বিভাগীয় ফায়ার স্টেশন (ছবি-জানুয়ারি ২০১৭)

২০ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ২৪ টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৩টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ১৬ টি ও তৃতীয় শ্রেণির ৫টি। এছাড়াও আছে ১টি স্ট্যান্ডবাই স্টেশন ও ১০ টি নির্মাণাধীন স্টেশন । পুরনো জেলা সদরে প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্বে আছেন সহকারী পরিচালক ও নতুন জেলাসমূহে উপ সহকারী পরিচালক। প্রথম শ্রেণির স্টেশন কমান্ডার উপ সহকারী পরিচালক। প্রথম শ্রেণির স্টেশন কমান্ডার হলেন সিনিয়র স্টেশন অফিসার এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির স্টেশন কমান্ডারের দায়িত্বে থাকেন স্টেশন অফিসার।
অগ্নি নির্বাপণসহ যে কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সব সময় তৎপর থাকেন। এছাড়া বহুতল ভবন, সিএনজি, শিল্প-কারখানা প্রভৃতি নির্মাণের নিরপত্তামূলক ছাড়প্রত্র দিয়ে থাকে এ সরকারি সংস্থাটি। অগ্নি নির্বাপণ, দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণও দেয়া হয়।২৯৬