অধ্যায় ৪: প্রশাসনিক ইতিহাস ও অফিস

দুর্নীতি দমন কমিশন


পূর্বে জেলা দুর্নীতি দমন অফিস পুলিশ পরিদপ্তরের অধীনেই ছিল। ১৯৫৭ সালের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের XXIV অ্যাক্ট অনুসারে পুলিশ পরিদপ্তর থেকে পৃথক করে জেলা দুর্নীতি দমন ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এর প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ সুপারিটেনটেন্ড (এসপি)।২ ১৯৬২ সালে চাকুরি পুনর্বিন্যাসের পরে রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে এসপি মর্যাদা সম্পন্ন ১জন উপ-পরিচালক নিয়োগ করা হয়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী জেলা পর্যায়ে ১জন জেলা দুর্নীতি দমন ব্যুরো অফিসার, ১জন ইন্সপেক্টর এবং ১০জন সহকারী ইন্সপেক্টর ছিলেন। সহকারী ইন্সপেক্টরগণের মধ্যে ৬জন সদরে, ১জন নওগাঁয়, ১জন নাটোরে, ১জন চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবং ১জন পত্নীতলায় ছিলেন। এছাড়া জেলা সদরে দুর্নীতি দমনের জন্য ১জন সহকারী সাব ইন্সপেক্টরও ছিলেন। ১৯৮৪ সালে মহকুমাগুলো জেলায় রুপান্তরিত হবার পর সেগুলোতেও নতুন নতুন জেলা অফিস খোলা হয়। ১৭ নভেম্বর ২০০২ তারিখের দুর্নীতি দমন ব্যুরোর উপ-পরিচালক অফিস ও জেলা অফিসের তথ্যানুসারে বিভাগীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরোর প্রধান হলেন একজন উপ-পরিচালক। বিভাগীয় অফিসে ২জন ইন্সপেক্টর, ১জন সহকারী ইন্সপেক্টর, ১জন প্রধান সহকারী, ২জন উচ্চমান সহকারী, ১জন অ্যাকাউন্টেন্ট, ১জন টাইপিস্ট, ১জন স্টেনো টাইপিস্ট, ২জন কনস্টেবল ও ১জন এমএলএসএস কর্মরত আছেন। এ অফিসের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়েছিল রাজশাহী কোর্টের পাশে। এরপর নগরীর মাস্টারপাড়া, পুলিশ লাইন, উপশহর এবং আবারো পুলিশ লাইন, ২০০২ সালের সম্ভবত সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী কোর্ট একাডেমীর পূর্ব পাশে রাজপাড়ায় স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে আবারো পুলিশ লাইন রোডে আসে।

দুর্নীতি দমন কমিশন অফিস (ছবি-জানুয়ারি ২০১৭)

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন ব্যুরো দুর্নীতি দমন কমিশন হয়। ২০০৭ সালে আইনটি আবারো সংশোধন হয়। কমিশন গঠনের পর প্রশাসনিক কাঠামোই পরিবর্তন আসে। বিভাগীয় অফিসের উপ পরিচালকের পরিবর্তে পরিচালক ও জেলা অফিসের প্রধান হন উপ পরিচালক। বৃহত্তর জেলা সদর বা পুরনো জেলা অফিসগুলো সমন্বিত জেলা কার্যালয় হিসেবে কার্যক্রম পালন করছে। কাজের সুবিধার্থে ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগীয় অফিসটি রাজশাহী থেকে বগুড়াই রাখা হয়েছিল।


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd