অধ্যায় ৪: প্রশাসনিক ইতিহাস ও অফিস

পুলিশ


মাহবুব সিদ্দিকীর শহর রাজশাহীর আদিপর্ব গ্রন্থে রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রবন্ধে ফজর আলি খাঁন (১৮৯৫-১৯৮০) লিখেছেন, ‘প্রাচীন জমিদার সেরেস্তার রেকর্ডে দেখা যায় রামপুর বোয়ালিয়া অধুনা রাজশাহী শহরের মধ্যে মৌজা গড়ের হাট, মৌজা লস্করপুর অবস্থিত। ইহা হইতে সহজেই অনুমান করা যায় যে পূর্বে এখানে কোন এক সময় লস্কর অর্থাৎ সৈন্যের ছাউনি ছিল। তৎসংলগ্ন গড় ও হাট ছিল।’ এ তথ্য থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, ইষ্ট ইন্ডিয়া শাসনামলের পুলিশী ব্যবস্থা প্রবর্তনের পূর্বে নবাবী আমলে এখানে জমিদারি ব্যবস্থাপনায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অবস্থান ছিল।৬৮২  ইংরেজ শাসনামলের রাজশাহী মহানগরীর প্রাচীন পুলিশের কার্যালয় মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি। সেটা প্রথমে ছিল খড়ের ঘর। এ প্রসঙ্গে ফজর আলি খাঁন লিখেছেন, ‘সেই সময় শহরে মালোপাড়ায় মাত্র একটি খড়ের ঘরে পুলিশ ফাঁড়ি ছিল। দোলের সময় পশ্চিমা ১৫/২০ জন কনস্টেবল একত্রে ভাঁঙ্গ খাইয়া ঢোলক বাজাইয়া অহঃরাত্র রামাহো রামা গান গাইত।’ 
লর্ড কর্ণওয়ালিস এর শাসনামলে (১৭৮৬-১৭৯৬) চুরি-ডাকাতি নিবারণ কল্পে পুলিশ বিভাগের উন্নতি করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন  স্থানে পুলিশ থানা প্রবর্তন করা হয়।১  ১৭৯০ সালে রাজশাহী জমিদারির পুলিশ বাবদ খরচাস্বরূপ রাজা রামকৃষ্ণ ৩৬,৯২৬ টাকা বরাদ্দ করেন। শান্তি রক্ষার জন্য পুলিশ খরচা হয় মাত্র ১৬ হাজার টাকা। এ সময় ১২টি পুলিশ নৌকা বিভিন্ন নদী ও বিল অঞ্চলে ডাকাতি ও অন্যান্য উৎপাত নিবারণ কল্পে টহল দিতো। ফৌজদারী পুলিশ বাজার, বন্দর, জেলা, থানা, কারাগার এবং যেখানে শান্তি ভঙ্গে আশংকা থাকতো সে সব স্থানে পাহারা দিতো। তারা সঙ্গে টহলদারী নৌকা রাখতো। ১৭৯০ হতে ১৭৯৩ সাল পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে রাজশাহী পুলিশের এমন ব্যবস্থা ছিল। ১৭৯৩ সালে রাজশাহী কালেক্টর জমিদারের নিকট হতে পুলিশ বিভাগ স্বহস্তে গ্রহণ করে। ১৮০১-১৮০২ সালে স্বদেশ রক্ষী নামক ১১০ জন পুলিশের সাহায্যে রাজশাহীর শান্তি রক্ষার ব্যবস্থা ছিল। এ ১১০জন পুলিশের মধ্যে ২ জন জমাদার, ৪ জন হাবিলদার, ৪ জন নায়েব ও ১০০ জন সিপাই ছিল। †gv. gKmy`yi ingvb Zuvi GENERAL ADMINISTRATION OF RAJSHAHI DISTRICT IN HISTORICAL PERSPECTIVE প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, In 1786 the collector became the judge and the magistrate with full control over the police.৭১০তাঁর তথ্যানুসারে কালেক্টরগণ কালেক্টর, জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট হন। পুলিশ বাহিনীও সম্পূর্ণ তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে অন্যান্য এলাকার এ ব্যবস্থা সক্রিয় হলেও রাজশাহীর ক্ষেত্রে হয়তো এর ব্যতিক্রম ছিল। কারণ এ প্রবন্ধেই তিনি উল্লেখ করেন, In 1793 the office of the judge and the collector was separated, new district judge was created to preside over the Dewani Adalat (lateron renamed as the zilla Adalat.) The Mal Adalat was abolished and the zilla court was empowered to deal with revenue matter. The collectors were also deprived of magisterial power to supervise the police. He abolished the zamindari police force and organised the police force under the Inspector of Police and demarcated thanas for each Inspector. ৭১০-পৃ.১১৯ এ তথ্যানুসারে ১৭৯৩ সালে রাজশাহীর পুলিশ বাহিনী ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নব সৃষ্ট প্রশাসনের কর্মচারী কালেক্টরের অধীনে চলে যায়।
১৯১৬ সালের রাজশাহী জেলা গেজেটীয়ারের বিবরণ অনুসারে ১৯১৪ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় ১ জন পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, ১ জন উপ-পুলিশ সুপারিননটেনডেন্ট, ৫২ জন সাব ইন্সপেক্টর, ৭১ জন হেড কনস্টেবল এবং ৫১৭ কনস্টেবলসহ মোট পুলিশের সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন। উক্ত বছরে চৌকিদার ও দফাদার মিলে এ জেলায় গ্রাম পুলিশের মোট সংখ্যা ছিল ৩,৭২৭ জন। এছাড়া রামপুর-বোয়ালিয়ায় ১ জন ইন্সপেক্টর, ১ জন সাব ইন্সপেক্টর, ৪ জন হেড কনস্টেবল ও ৫০ জন কনস্টেবল ছিল।২
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd