অধ্যায় ১৮ : প্রত্ন-ইমারত

মোহিনী নিকেতন (বিলুপ্ত)


রানীবাজার মাদ্রাসা মার্কেটের দক্ষিণে ফ্রেণ্ডস ভিডিওর পাশে এ বাসভবনটির অবস্থান ছিল। ব্রিটিশ আমলে রাজশাহীর এক সময় বিখ্যাত ব্যবসায়ী মোহিনী মোহন রায় চৌধুরী এ বাসভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। সাধারণ্যে তিনি মোহিনী শাহ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন পূর্বের ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জের বেলিশ্বর গ্রামের অধিবাসী। প্রায় আট কাঠা জমির উপর নির্মিত এক অঙ্গন কেন্দ্রিক এ ভবনটি মূলত চারটি ব্লকে বিভক্ত ছিল। ভবনটির উভয়তল মিলে বিভিন্ন আয়তনের মোট তেরটি কক্ষ ছিল। উত্তর ব্লক ও দক্ষিণ ব্লক দ্বিতল বিশিষ্ট হলেও অন্য দুটি একতলা আকারে নির্মিত। উত্তরমুখী এ ভবনের উত্তর ব্লকের সম্মুখে পূর্ব-পশ্চিমে একটি টানা বারান্দা রয়েছে। বারান্দাটি পাঁচটি খিলানে উন্মুক্ত হলেও বর্তমানে পূর্বাংশ একটি কক্ষ করে ভিডিওর দোকান করা হয়। বারান্দার কেন্দ্রস্থলে একটি সরু গলিপথ দিয়ে ভবনটির ভিতরের উন্মুক্ত অঙ্গনে প্রবেশ করা যেত। নিচতলায় গলিপথের উভয় পাশে (পূর্ব ও পশ্চিমে) দুটি করে চারটি এবং দোতালায় দুটি বড় শয়ন কক্ষ ও তার সামনে (দক্ষিণে) একটি টানা ঝুলবারান্দা ছিল। অঙ্গনের পূর্ব ব্লকে তিনটি, পশ্চিম ব্লকে দুটি এবং দক্ষিণ ব্লকে নিচে একটি এবং এর উপরে একটি ক্ষুদ্র কক্ষ ছিল। কক্ষগুলো সবই পলেস্তারায় আচ্ছাদিত ছিল। ভিতরে কোন অলংকরণ ছিল না। তবে বারান্দার চারকোণা খিলানস্তম্ভসমূহের শীর্ষভাগ পত্র নকশায় সজ্জিত ছিল। অন্যদিকে উত্তর ব্লকের ছাদে স্থাপিত পলেস্তারার কারুকার্যকৃত প্যারাপেটটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল। লতাপাতায় পেঁচানো এ ধরনের প্যারাপেট নওগাঁ জেলার দুবলহাটি রাজবাড়ি ও নাটোরের ছোট তরফের প্রাসাদের গাড়িবারান্দার উপর পরিলক্ষিত হয়। 

বিলুপ্ত মোহিনী নিকেতন, রানী বাজার (উত্তর দিক থেকে) 

ইমারতটির বহির্দেয়ালগাত্র লাল রঙ্গে আচ্ছাদিত ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নির্মিত এ ভবনটি ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। বিলুপ্তির পূর্বে এ বাসভবনে মৃত মোহিনী শাহের পুত্র মৃত মনিন্দ্রমোহন রায় চৌধুরীর একমাত্র জামাতা বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের অন্যতম সঙ্গীত বিশারদ অমরেশ রায় চৌধুরী তাঁর সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। সম্প্রতি ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd