অধ্যায় ১৮ : প্রত্ন-ইমারত

কালেক্টরেট ভবন বা জেলা প্রশাসন ভবন (বিলুপ্ত)


রাজশাহী শহরের পশ্চিম প্রান্তে বুলনপুরে একতলা বিশিষ্ট এ কালেক্টরেট বা জেলা প্রশাসন ভবন অবস্থান ছিল। তবে ১৯৯৬ হতে ২০০৩ সালের মধ্যে পূর্বের কালেক্টরেট ভবন ভেঙ্গে ফেলে তদস্থলে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর দ্বিতল বিশিষ্ট বর্তমান সুদৃশ্য ভবনসমূহ নির্মিত হয়েছে। পূর্বের কলেক্টরেট বা জেলা প্রশাসন ভবন ছিল বর্তমানে কোর্ট এলাকার শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে একতলা বিশিষ্ট ও পূর্ব-পশ্চিমে আয়তাকারে নির্মিত। ইট ও চুন-সুরকি দ্বারা নির্মিত এ বিশাল ভবনটি প্রায় .৯০ মি. উঁচু বেদীর উপর স্থাপিত ছিল। ভবনটি উত্তর ও দক্ষিণ দিক দুটি বিশাল টানা বারান্দা এবং পূর্ব দিক একটি ছোট বারান্দা দ্বারা বেষ্টিত ছিল। দক্ষিণ ও উত্তর-উভয়মুখী এ ভবনের দক্ষিণ বারান্দার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি গাড়ীবারান্দা এবং এর কেন্দ্রস্থল ও উত্তর দিকের বারান্দার কেন্দ্রস্থলে একটি করে সুপ্রশস্ত সোপানশ্রেণি বিদ্যমান ছিল। গাড়ি বারান্দা দুটি সম্মুখভাগে দুটি এবং পূর্ব ও পশ্চিমে একটি করে স্থাপিত সুবিশাল খিলানে উন্মুক্ত ছিল। সমগ্র ভবনটি বিভিন্ন আয়তনের মোট ১৮টি কক্ষে বিভক্ত ছিল বলে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়। পূর্ব দিক হতে জেলা প্রশাসকের কক্ষ, জেলা প্রশাসকের সিএ’র কক্ষ, সম্মেলন কক্ষ, ফরম সেকশন, আর.এম. নেজারত, সাধারণ শাখা, বিচার এজলাস, এস.ডি.ও’র কক্ষ ও এজলাস, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষ ও এজলাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষ ও এজলাস, উত্তর-দক্ষিণে লম্বা একটি করিডোর, অতঃপর ট্রেজারি অফিস, ট্রেজারি ভল্ট, বিশাল ট্রেজারি কক্ষ ও সোনালী ব্যাংক শাখা। উভয় পাশের বারান্দা খিলান দ্বারা উন্মুক্ত ছিল। ভবনটির উপরিভাগ লোহার তীর-বর্গায় সমতলছাদে আচ্ছাদিত এবং প্রতিটি কক্ষের দরজা উল্লম্বাকারে নির্মিত ও খড়খড়ি সংবলিত ছিল। এছাড়া ভবনটির বহির্দেয়ালগাত্র হলুদ রঙে আচ্ছাদিত ছিল। ইমারতটি ১৮৬৪-৬৫ সালে ফরাসী নির্বাহী প্রকৌশলী মি. ইএসবি পেরিরার (Mr ESB Pereira) তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় এবং এর প্রধান রাজমিস্ত্রী ছিলেন নগরীর লক্ষীপুর নিবাসী মহাম্মদ কুরান সরকার বলে জানা যায় ।


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd