অধ্যায় ১৮ : প্রত্ন-ইমারত

রাজশাহী কলেজের ফুলার হোস্টেল


ফুলার হোস্টেল, রাজশাহী কলেজ (পূর্বদিক থেকে)

রাজশাহী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পিছনে মাঠের পশ্চিম প্রান্তে ফুলার হোস্টেল । পূর্বমুখী এ ইমারতটিও প্রশাসন ভবনের ন্যায় কিছুটা ইংরেজী বর্ণ ঐ আকৃতির ভূমি নকশায় এবং একটি উঁচু বেদির উপর নির্মিত। দ্বিতল বিশিষ্ট ভবনটির কেন্দ্রস্থলে ৬.১৫X৬.১৫ মি. আয়তন বিশিষ্ট একটি বর্গাকার সম্মেলন কক্ষ বা হলঘর এবং হলঘরের উত্তর ও দক্ষিণে সংযুক্ত দুটি ব্লকে বিভিন্ন আয়তনের আটটি করে ষোলটি এবং উভয়তলায় দুটি হলঘরসহ মোট চৌত্রিশটি কক্ষে বিভক্ত। হলঘরের সম্মুখস্থ অর্থাৎ পূর্ব দিকে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত একটি বারান্দা উভয় ব্লককে সংযুক্ত করেছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের পূর্ব ও পশ্চিমাংশেও বারান্দা সংযোজিত। হলঘরের উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের মাঝে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা সরু দুটি গলিপথ (করিডোর) এবং গলিপথের পশ্চিমাংশে উভয় ব্লক হতে দ্বিতলে ওঠার জন্য দুটি সিঁড়িপথ বিদ্যমান। ইমারতটির সম্মুখাংশ অর্থাৎ পূর্বদিকের উভয়তলার বারান্দার সম্মুখে মোট পনেরটি করে এবং দুই ব্লকের পশ্চিমাংশে ছয়টি করে বারটি অর্ধবৃত্তাকৃতির খিলান রয়েছে। খিলানসমূহ গ্রীল দ্বারা আবদ্ধ। 
ইমারতটির কক্ষসমূহের অভ্যন্তরভাগের ছাদ লোহার তীর-বর্গায় ঢেউ আকৃতির অর্ধনলাকৃতিতে নির্মিত হলেও বহির্ভাগ সমতল ছাদে আচ্ছাদিত। ছাদপ্রান্ত শরছিদ্রযুক্ত রেলিং বিশিষ্ট প্যারাপেটদ্বারা বেষ্টিত এবং বপ্রের কিছুদূর পর পর একটি করে ফুলের কুঁড়ি বিশিষ্ট নকশায় শোভিত। দ্বিতলের কার্নিশের নিচে জানালাসমূহের উপর সিমেন্ট-বালির নির্মিত টানা সানশেড বিদ্যমান। ইমারতটির সম্মুখস্থ বপ্রের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত একটি ত্রিকোণাকার কাঠামোতে (পেডিমেন্ট) শ্বেত মার্বেল পাথরে উৎকীর্ণ একটি শিলাপিপি রয়েছে। উক্ত শিলালিপি অনুসারে ১৯০৫ সনে বঙ্গভঙ্গের পর নব্য সৃষ্ট পূর্ববঙ্গ ও আসামের প্রথম গভর্ণর স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার-এর আর্থিক অনুদানে (৭৫,০০০.০০ টাকা) ১৯০৯ সনে রাজশাহী মাদ্রাসার ছাত্রদের আবাসনের জন্য এ হোস্টেল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। গভর্ণরের নামানুসারেই এভবনটির নামকরণ হয় ‘ফুলার মোহামেডান হোস্টেল’। এ হোস্টেলে ৮০ জন ছাত্রের আবাসন ছিল। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজ চত্বর হতে মাদ্রাসা ভবন স্থানান্তরিত হয়ে কেন্দ্রীয় জেলাখানার পূর্ব পারে হোসেনীগঞ্জে স্থাপিত হলে হোস্টেলটি কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্রদের প্রদান করা হয় এবং তারপরে এটি সম্পূর্ণরূপে রাজশাহী কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মাঝে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রাবাস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এ ভবনে রাজশাহী কলেজের কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ স্থাপিত রয়েছে। এ ইমারতটিও বাংলার ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd