অধ্যায় ১৮ : প্রত্ন-ইমারত

রাজশাহী কলেজের গ্যালারি ভবন


গ্যালারী ভবন (বর্তমান নাম হাজী মুহম্মদ মহসীন ভবন), রাজশাহী কলেজ (পূর্বদিক থেকে)

প্রশাসন ভবনের পিছনের পুকুরের পশ্চিম পাড়ে একতলা বিশিষ্ট এ ভবনটি অবস্থিত। ইমারতটি নির্মাণে ইট, চুন-সুরকি, কিছু প্রস্তর ও কাঠ ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলার প্রখ্যাত মুসলিম দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসীনের আর্থিক অনুদানে রাজশাহী মাদ্রাসার প্রথম ভবন হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজশাহী মাদ্রাসা বর্তমান রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পূর্ব পাশে স্থানান্তরিত হলে এ ভবনটি কলেজের ১৭ নং গ্যালারি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি এর নামকরণ হয়েছে ‘হাজী মুহম্মদ মহসীন ভবন’। ভবনটি নির্মাণে সে সময় ৪৭০০০ টাকা ব্যয় হয়েছিল। ১৯৫৩ সালে রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এ ভবনেই সকাল সাতটা হতে নয়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়েল ক্লাস অনুষ্ঠিত হতো। সুতরাং এভবনটি রাজশাহীর একাধারে মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়– এ তিনটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রার সাক্ষী হিসেবে এখনো বিদ্যমান। সমগ্র ইমারতটি ১.১০ মিটার উঁচু মঞ্চের উপর স্থাপিত। পূর্বমুখী এ ভবনটির মধ্যস্থলে একটি বিশাল হলঘর (গ্যালারি) এবং এ হলঘরের দুই পাশ (উত্তর ও দক্ষিণ) ও পশ্চিমে বর্ধিত করে নির্মিত মোট দশটি কক্ষে বিভক্ত। হলঘরের সম্মুখে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত ৭.৭৩X২.৪৭ মি. আয়তন বিশিষ্ট একটি বারান্দা রয়েছে। বারান্দাটি সম্মুখে তিনটি ও উত্তর-দক্ষিণ দিকে একটি করে মোট পাঁচটি অর্ধবৃত্তাকার খিলানে উন্মুক্ত। সম্মুখস্থ খিলানের দুটি স্তম্ভ প্রস্তর নির্মিত। স্তম্ভ দুটির সম্মুখভাগ অর্ধগোলায়িত হলেও পশ্চাৎভাগ আয়তাকার বিশিষ্ট এবং শীর্ষদেশ আইওনিক নকশায় শোভিত। হলঘরের উত্তর দেয়ালে দুটি, দক্ষিণ দেয়ালে দুটি, পূর্ব দেয়ালে তিনটি ও পশ্চিম দেয়ালে তিনটি ফ্যানলাইট সংবলিত উল্লম্ব দরজা এবং দেয়ালের উপরে ছাদের নিচে সমসংখ্যক বায়ুরন্ধ্র (Ventiletor) বিদ্যমান। হলঘরের উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালের সাথে সংযুক্ত দুটি করে, পশ্চিমে একটি, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কোণার বর্ধিত অংশে দুটি করে বিভিন্ন আয়তনের কক্ষ নির্মিত রয়েছে। এছাড়া হলঘরের পূর্ব বারান্দা এবং উত্তর ও দক্ষিণের কক্ষের সম্মুখে স্বল্প আয়তনের উন্মুক্ত টানা বারান্দা সংযোজিত রয়েছে। ইমারতের প্রতিটি কক্ষের উপরিভাগ লোহার তীর-বর্গায় নির্মিত সমতল ছাদে আচ্ছাদিত এবং দরজা-জানালাসমূহ খড়খড়ি সংবলিত। হলঘরের ছাদের কার্নিশের নিচে টিনের সানশেড বিদ্যমান। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের ছাদের কার্নিশের নিচে লোহা ও সিমেন্ট-বালির ঢালাইকৃত সানশেড পরিলক্ষিত হয় যা পরবর্তীতে সংযোজিত হয়েছে বলে অনুমিত হয়। ভবনটির ছাদপ্রান্ত শরছিদ্র সংবলিত রেলিং বিশিষ্ট প্যারাপেট দ্বারা বেষ্টিত এবং বপ্রটি কিছুদূর পর পর একটি করে ফুলের কুঁড়ি বিশিষ্ট চূড়ায় শোভিত। ইমারতটির সম্মুখ বারান্দায় ওঠার জন্য পাঁচ ধাপ বিশিষ্ট একটি সিঁড়ি রয়েছে। সম্মুখ বারান্দার উপরের ছাদপাঁচিলে বা বপ্রে ভবনটির নির্মাণকাল হিসেবে ১৮৮৮ সন (১৮৮৮ অউ) উৎকীর্ণ রয়েছে। বর্তমানে ভবনটির কেন্দ্রীয় হলঘর বা গ্যালারী কলেজের শ্রেণিকক্ষ এবং দু-পাশের অন্যান্য কক্ষগুলো যথাক্রমে গণপূর্ত স্টাফ অফিস, রোভার ডেন, জিমনেসিয়াম, ঘণ্টাঘর, বিএনসিসি শ্রেণিকক্ষ ও শরীরচর্চা বিভাগের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd