অধ্যায় ৪: প্রশাসনিক ইতিহাস ও অফিস

সরকারি কার্যালয় / জেলা প্রশাসন


জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ছবি-২০১১)

নাটোর জমিদারিকে L.S.S. O’Malley রাজশাহী জমিদারি  (Zamindar of Rajshahi) নামে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ নাটোর জমিদারি পত্তনের পর এক সময় রাজশাহী জমিদারি নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। মুর্শিদকুলী খানের আমলে জমিদার উদয়নারায়ণের জমিদারির নাম ছিল রাজশাহী। মুর্শিদকুলী খানের আমলেই রাজশাহী জমিদারি নাটোর জমিদারির আওতাধীনে এসে উভয় জমিদারি একীভূত হয়ে রাজশাহী নামে পরিচিতি পায়। যা ছিল বাংলার সর্ব বৃহৎ জমিদারি।৪৮৪ ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রথম দিকেই রাজশাহী জমিদারি রাজশাহী জেলা নাম ধারণ করে। তবে রাজশাহী জমিদারি থেকে রাজশাহী জেলা নামের প্রশাসনিক ইউনিটের পরিবর্তন কাল সম্পর্কে বিভিন্ন রকম তথ্য পাওয়া যায়। এবনে গোলাম সামাদ রাজশাহীর ইতিবৃত্ত গ্রন্থে তথ্য দিয়েছেন, ইংল্যান্ডের ডিস্ট্রিক্টের অনুকরণে লর্ড হেস্টিংস প্রথম বাংলা প্রদেশকে কতকগুলি জেলায় বিভক্ত করেন।৪ ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালের ১৩ এপ্রিল বাংলার গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৭৮৫ সালে জন ম্যাকফারসনের নিকট ক্ষমতা অর্পণের পর বিলেত গমন করেন।৭১১

ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. মুশফিক আহমদ, ড. নূরুল হোসেন চৌধুরী রাজশাহী শহরের নামকরণের ইতিহাস প্রবন্ধে তথ্য দিয়েছেন, ১৭৭২ সালে সৃষ্ট রাজশাহী জেলার প্রথম সদর দপ্তর ছিল বর্তমান নাটোরে।৪৮৪

মাহবুব সিদ্দিকীর শহর রাজশাহীর আদিপর্ব গ্রন্থে রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রবন্ধে ফজর আলি খাঁন (১৮৯৫-১৯৮০) তথ্য প্রদান করেন, ১৭৮৩ সালে রাজশাহী জেলার পত্তন হয়। মিস্টার ডালেস রাজশাহীর প্রথম কলেক্টর হন।৬৮২

মো. মকসুদুর রহমান তাঁর ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানী লাভ ও রাণী ভবানীর জমিদারীতে তাঁর প্রভাব: ১৭৬০-১৭৮০’ প্রবন্ধের বিশেষ বিশেষ অংশে তথ্য দিয়েছেন, ১৭৬৫ সালে মীর জাফর আলী খাঁর মৃত্যুর পর ইংরেজরা দিল্লীর স¤্রাট শাহ আলমের নিকট থেকে বার্ষিক ২৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে। ইংরেজরা এ দেশের ভাষা বুঝত না এবং রাজস্ব আদায়ের নিয়ম কানুনও তাঁদের জানা ছিল না। এ সব কারণে লর্ড ক্লাইভ রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা দেশীয় লোকদের উপর অর্পণ করাকে বাঞ্ছনীয় মনে করেছিলেন। রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য প্রকৃত দেওয়ান হিসেবে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রেজা খাঁন ও সেতাব রায় নামের দু’জন নায়েব দেওয়ান বা ডেপুটি দেওয়ান নিয়োগ করেছিল। রেজা খাঁন বাংলার ও সেতাব রায় ছিল পাটনার নায়েব দেওয়ান। তাঁরা প্রকৃত দেওয়ান কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করতেন। জমিদারেরা নায়েব দেওয়ানের নিয়ন্ত্রণে থেকে জমিদারি পরিচালনা ও রায়তদের নিকট থেকে রাজস্ব আদায় করতেন। এ ব্যবস্থা ক্লাইভের দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত।৭১১ নায়েব দেওয়ানদের দ্বারা রাজস্ব আদায় সুবিধাজনক না হওয়ায় ১৭৬৬-১৭৬৭ সালের দিকে অনেক জেলায় আমিল নিয়োগ করা হয়েছিল। ১৭৬৮ সালে রাজশাহী জমিদারিকে ১২ ভাগ করে প্রতি বিভাগের জন্য ১ জন আমিল নিয়োগ করা হয়। ১ বছর চুক্তিতে আমিলদের রাজস্ব আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। আমিলদের মধ্যে ভূষণা (যশোর) এর পোরান বোস ও ভাতুড়িয়া (রাজশাহী) এর দুলাল রায়ের নাম জানা যায়। কোম্পানির দৃষ্টিতে তাঁরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। এ সময় লর্ড ক্লাইভের পরিবর্তে হেরী ভেরেলস্ট স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি অনেক চিন্তা ভাবনার পর জমিদারদের সঙ্গে তিনশালা বন্দোবস্ত করেন। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে পূর্ণিয়া ও পরে রাজশাহীর জমিদার রাণী ভবানীর সঙ্গে তিনশালা বন্দোবস্ত চুক্তি হয়। এরপর দেখা যায় নায়েব দেওয়ানদের তত্ত¡াবধান করার জন্য প্রতি জেলায় সুপারভাইজর নিয়োগ করা হয়। সুপারভাইজর নিয়োগ পরিকল্পনা সিলেক্ট কমিটিতে অনুমোদিত হয় ও দেওয়ানী জেলাসমূহে ৮ জন সুপারভাইজর নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। রাজশাহী জমিদারির পূর্ব ভাগের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সুপারভাইজর চার্লস উইলিয়াম বোটন ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রাক্কালে ১৭৬৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর নাটোরে আসেন এবং নাটোরের কানাইখালিতে ইউরোপীয় অধ্যুষিত এলাকায় একটি চালাঘর ভাড়া নিয়ে প্রবল উৎসাহে কাজ আরম্ভ করেন। পদ্মার পশ্চিম তীরের নিজ রাজশাহী নামে পরিচিত অংশ মুর্শিদাবাদের রাজপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ পরিচালনায় রাখা হয়েছিল।

১৭৭২ সালের ১৩ এপ্রিল ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নরের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসনে সংস্কার হতে দেখা যায়। তিনি নায়েব দেওয়ান ও সুপারভাইজর পদের বিলোপ সাধন করে প্রতি জেলায় কালেক্টর নিয়োগ দেন। দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করে জমিদারদের বিচারিক ক্ষমতার অবসান ঘটানো হয়। মিডলটন, ডেকার, লরেন্স ও গ্রাহামকে সদস্য করে চার সদস্যের সার্কিট কমিটি গঠন করা হয়। এ সার্কিট কমিটি রাণী ভবানীর সঙ্গে রাজশাহী জমিদারির জন্য যে ৫ বছরের চুক্তি করেন, তাই পাঁচশালা বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। প্রথমে ১৭৭২ সালের ২৯ আগস্ট রাজশাহীর পূর্বভাগের ও তারপর পশ্চিম ভাগের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। দুভাগের রাজস্ব একই কালেক্টরশিপের নিয়ন্ত্রণে ও একই সময়ে আদায়ের জন্য রাজশাহীর কালেক্টর শ্যামুয়েল মিডিলটনকেই রাজ প্রতিনিধি ও  কালেক্টরের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তাঁকে সহায়তা করার জন্য জুন শোর ও নাথানিয়েল মিডিলটনকে নিয়োগ করা হয়। এ ব্যবস্থায় সুফল আসেনি। বিধায় কোর্ট অফ ডাইরেক্টরের সিদ্ধান্তে জেলাগুলো থেকে কালেক্টরদের প্রত্যাবর্তন করে নেয়া হয়। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা তিনটি প্রদেশকে ৬টি বিভাগে ভাগ করা হয়। প্রতিটি বিভাগের জন্য প্রাদেশিক কাউন্সিল গঠন ও আবারো দেশীয় নায়েব নিয়োগ করা হয়। শ্যামুয়েল মিডিলটনকে মুর্শিদাবাদ কাউন্সিলের প্রধান নিয়োগ করা হয়। এ ব্যবস্থাতেও কোম্পানিরাজস্ব আদায়ে তেমন পরিবর্তন আনতে পারেনি। এ প্রেক্ষিতে প্রাদেশিক কাউন্সিল নিজ হাতে রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং বড় বড় জোতদারকে রাণী ভবানীর বড় নগরীতে অবস্থিত কাচারিতে জমা না দিয়ে মুর্শিদাবাদের মতিঝিলে সরাসরি রাজস্ব প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ সময় দুলাল রায়কে মাজোয়াল বা রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তবুও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুলাল রায়কে ১৭৭৪ সালে রাণী ভবানীর জমিদারি ইজারা দেয়া হয়। তার সহকারী ছিলেন পোরান বোস। এরপর অনেক ঘটনার পর রাণী ভবানী জমিদারি ফিরে পান। এরপর দেখা যায় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুসারে কাউন্সিলের সভ্য উইলিয়াম হোসিয়াকে ভাতুড়িয়া, ভূষণা ও বাজে মাহালের দায়িত্ব দেয়া হয়।‘তাঁর প্রধান কার্যালয় ছিল নাটোর। তিনি ১৭৭৭ সালের ১৪ এপ্রিল নাটোরে  আসেন। তিনি লালারাম চাউরকে তাঁর দেওয়ান ও বিভিন্ন রাজস্ব কেন্দ্রে ২৭ জন মাজোয়াল নিয়োগ করেন। এ ব্যবস্থাতেও কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় হয়নি। তাই রাণী ভবানীকেই জমিদারি পরিচালনার ভার দেয়া হয়। এমনিভাবে রাণী ভবানী ১৭৭৮-১৭৮০ সাল পর্যন্ত জমিদারি পরিচালনা করেন।

এরপর নন্দলালকে রাজশাহী জমিদারির দায়িত্ব নিতে দেখা যায়। তিনি তার সদর কাচারী মুর্শিদাবাদ শহরের আমিন বাজারে স্থাপন করেন। এতেও কোম্পানির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ জন্য সমস্ত বিষয় তদারকের জন্য জন ইভলিনকে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ১৭৮২-১৭৮৩ সালের চুক্তি থেকে নন্দলালকে বহিস্কার করা হয়। নন্দলালের চুক্তি বাতিলের পর ১৭৮২-১৭৮৩ সালের জন্য নতুন বন্দোবস্ত করা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজশাহী জমিদারির পূর্বাঞ্চলকে  রাজশাহী সদর, ভাতুরিয়া, ভূষণা ও বাজে মাহাল এ তিন ভাগে বিভক্ত করা হয় (নাম দেখে মনে হয় ৪টি মাহাল। হয়তো ভূষণা ও বাজে মাহাল মিলে একটি ভাগ)। তিন ভাগে তিন জন মাজোয়াল নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তাঁদের কাজ তদারকের জন্য জন ইভলিয়নকে উক্ত দায়িত্বেই রাখা হয়। এ প্রক্রিয়াতেও কোম্পানির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ইভলিয়ন বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং রাজশাহী সদর আবারো ৫ জনকে যুক্তভাবে ৮ লাখ টাকায় ইজারা দেন। অনুরূপভাবে ভূষণা, ভাতুরিয়া ও বাজে মাহালও ইজারা দেয়া হয়েছিল। জন ইভলিয়নের পর জর্জ ডালাস রাজশাহীর কালেক্টর নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাঁর ২ জন সাহায্যকারীর নাম জর্জ অ্যাটকিনসন ও জর্জ বিউরিয়োজ।৭১১

মো. মকসুদুর রহমান তাঁর  GENERAL ADMINISTRATION OF RAJSHAHI DISTRICT IN HISTORICAL PERSPECTIVE প্রবন্ধের বিশেষ বিশেষ অংশে উল্লেখ করেন, In 1786 the collector became the judge and the magistrate with full control over the police. In the same year Mr. Peter Speke was the judge, magistrate and collector of Rajshahi district. Before Mr. Peter Speke, Mr. George Dallas was the magistrate and collector of Rajshahi district in 1783. ৭১০-পৃ.১১৭

Up to the time of the Permanent Settlement in 1793, Rajshahi formed the largest and one of the most important administrative subdivisions of Bengal.

It could scarcely be called a district for it correspondence with the great zamindari of Rajshahi. ৭১০-পৃ.১১৭

On the account in 1793 a general redistribution of Bengal into district was made. ৭১০-পৃ.১১৮

W.W Hunter, BA, LLD এর প্রদত্ত তথ্যানুসারে রাজশাহী জেলা গঠিত হয়েছিল  1793 সালে। তিনি তথ্য দিয়েছেন, The District of Rajshahi was formed in 1793 at the time of the Permanent Settlement, although it had been under British administration for a considerable period previously. The headquarters of the District and usual administrative offices and courts were located at Nattor up to 1825, when the headquarters were removed to Rampur Beauleah, where they still remain. Rajshahi was divided into two sub-division in 1829 . ১১৫-পৃ.১১৭
 
L.S.S. O’Malley  Bengal District Gazetters এ উল্লেখ করেছেন, When the British established their rule, the district was included in the great zamindari of Rajshahi which, as already shown, was even then of recent creation.  `The zamindari of Rajshahi” worte Warren Hastings in 1786,`the second in rank in Bengal and yielding an  annual revenue of about twenty-five lakhs of rupees, has risen to its present magnitudes during the course of last eighty years by accumulating the property of a great number of dispossessed zamindars, although the ancestors of the present possessor had not, by inheritance, a right to the property of single village within the whole zamindari.৬১২-পৃ.৩৮

The extent of the estate, When  Warren Hastings wrote, will be realized from the fact that it had an area of nearly 13,000 squares miles and included not only a great part of north Bengal, but also a large portion of the present districts of Murshidabad, Nadia, Jessore, Birbhum, and even Bardwan.  Howell stated that it extended over `35 days travel.” According to Grant’s Analysis of the Finances of Bengal it was ` the most unwieldy extensive zamindari of Bengal or perhaps in India.” It prodused `at least four-fifths of all the silk, raw or manufactured, used in or exported from the effeminated luxurious Empire of Hindustan.” ৬১২-পৃ.৩৮

From the old records of the collectorate we find that in March 1783 Mr. Jhon Evelyn was engaged in making a settlement of Rajshahi with head-quarters at Muradbagh, a suburb of Murshidabad. In August 1783 Mr. George Dallas was made Collector, and in the phraseology of that period was `appointed to the general superintendence of the business of the Rajshahi district.” Mr. Dallas’ allowness were Rs. 1,200 a month as Collector and Rs. 300 as house rent. He was also entitled to an allowance as factor, but he reported that he did not know amount as he had never yet drawn it. Mr. Dallas resigned in January 1786 and was succeded by Mr. Peter Speke, who next year was also made Judge and Magistrate. As Judge, Cllector and District Magistrate he received pay of Rs. 1,500 a month and an allowance for house rent. He had two assistants. The first assistant, Mr. Micheal Atkinson , had a pay of Rs. 500 and the second  assistant, Mr. Hawkins, Rs. 400 a month, neither havig allowances of any kind. ৬১২-পৃ.৩৯

Up to the time of the Permanent Settlement in 1793, Rajshahi formed the largest and one of the most important administrative divisions of Bengal. It can scarcely be called a district, for it corresponded with great zamindari of Rajshahi, which was estimated in 1786 to comprise an area of 12,909 square miles in other words, it was about five times the of the present district. On the north of the Ganges is included the greater portion of what are now the district of Rajshahi, Malda, Bogra and Pabna; on the south it included a large and important subdivision called Nij chakla Rajshahi, which stretched across the districts of Murshidabad, Nadia and Jessore as far as the borders of Birbhum and Burdwan. As the same time, however, the parganas Lashkarpur and Tahirpur, which are now part of Rajshashi, comprised within the Murshidabad district. So extensive was territory that it was found impossible for it be administered efficiently by a single collector with two assistants, one station at Muradbagh in Murshidabad and the other at the local head-quarters of Nator. ৬১২-পৃ.৪৪, ৪৫

The first change took place in 1993, when a general redistribution of Bengal into districts was made by the Government . ৬১২-পৃ. ৪৫

বাংলাদেশ জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর রাজশাহীতে (১৯৯১) প্রদত্ত তথ্যানুসারে ১৭৬৫ সালে মোগল স¤্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের নিকট বার্ষিক ২৬ লাখ টাকা রাজস্বের  বিনিময়ে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানী শাসন ক্ষমতা লাভ করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর কয়েক বছর কোম্পানি প্রচলিত রাজস্ব ব্যবস্থা অনুসরণ করেছিল। এরপর লর্ড ক্লাইভ রাজস্ব প্রশাসনের জন্য মুর্শিদাবাদে নায়েব-দেওয়ান নিযুক্ত করেন। তাঁর নাম ছিল মোহাম্মদ রেজা খান। মোহাম্মদ রেজা খান নিয়োগের পর রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ কমতে থাকে। এ পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষে ১৭৬৯ সালে দেওয়ানী বিভাগগুলোই (২৪টি দেওয়ানী বিভাগ) রাজস্ব সংগ্রহের কাজ তদারকের জন্য সুপারভাইজর পদে ইউরোপিয়ান কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। ১৭৭০ সালে (বঙ্গাব্দ ১১৭৬) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে খ্যাত দুর্ভিক্ষ কালে রাজস্ব আদায়ে উৎপীড়ন ও তহবিল তসরুফসহ বিভিন্ন কারণে রেজা খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপন হয়। এ সব অভিযোগে রেজা খাঁন ১৭৭২ সালে অপসারিত হন এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য সুপারভাইজরদের স্ব স্ব জেলার কালেক্টর নিয়োগ করা হয়।২

এ গেজেটীয়ারে দেখা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালকমÐলীর নির্দেশক্রমে লর্ড কর্ণওয়ালিস ১৭৮৭ সালে সমগ্র বঙ্গদেশকে কতকগুলি কালেক্টরেট বা জেলায় বিভক্ত করার  পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বোর্ড অব রেভিনিউকে আদেশ দেন। বোর্ড অব রেভিনিউ এ বিষয়ে ৩টি নীতিমালা প্রণয়ন করে। এ নীতিমালাই বলা হয়েছিল, প্রত্যেক জমিদারি মাত্র একজন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে; পরস্পর সংলগ্ন পরগণাসমূহ নিয়ে কালেক্টরশিপের এলাকা গঠিত হবে এবং বিশেষ কারণ না থাকলে প্রত্যেক কালেক্টরেটের রাজস্বের পরিমাণ ৫ লাখের কম হবে না। নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে লস্করপুর (বর্তমান পুঠিয়া উপজেলা) পরগণার রাজস্বের পরিমাণ ৫ লাখের কম হওয়ায় জেলা হিসেবে লস্করপুরের অস্তিত্ব লোপ পায় এবং পরগণাটি মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাজশাহী জমিদারি কর্তৃপক্ষের শাসনাধীনে থাকলেও সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ছিল না। রাজস্ব আদায় ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সমস্যা ছিল। তাই ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনি রাজশাহী জেলাকে রাজস্ব জেলার পরিবর্তে আঞ্চলিক দিক থেকে সংহত ও অখÐ আকারে গঠন করে। সমস্ত জেলার ক্ষেত্রে সংহতি বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় সংযোজন ও পরিবর্ধনের পরামর্শ দেয়ার জন্য বোর্ড কলেক্টরদের নির্দেশ প্রদান করে। রাজশাহী জমিদারি বা জেলার ক্ষেত্রে এ নির্দেশ কার্যকর হতে দেখা যায় ১৭৯৩ সালে। এর ফলে পদ্মার দক্ষিণ তীরের মহলগুলিকে নদীয়া জেলার সঙ্গে ও ভূষণা মহলকে যশোর জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দূরবর্তী অন্যান্য মহলগুলিকে রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনংিহ ও ঢাকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মুর্শিদাবাদ থেকে লস্করপুর, তাহিরপুর আরো কয়েকটি ছোট মহল; দিনাজপুর থেকে বরবাকপুর, চৌগাঁও, কালিগঞ্জ ও রংপুরের বলিহার পরগণা রাজশাহী জেলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।২
এ গেজেটীয়ারে লস্করপুর পরগণা কখন ও কেন মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং কখন রাজশাহীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল উল্লেখ থাকলেও তৎকালীন তাহিরপুর পরগণা কখন ও কেন মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল- এ প্রশ্ন দুটির উত্তর পাওয়া যায় না। তবে ১৭৯৩ সালে রাজশাহীর সঙ্গে সংযুক্তির কথা উল্লেখ আছে।

কাজী মোহাম্মদ মিছের রাজশাহীর ইতিহাস (দ্বিতীয় খÐ) গ্রন্থের তথ্যানুসারে ইংরেজি ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয় এবং জমিদারি শাসন ক্ষমতার টলায়মান হতে আরম্ভ করে। ১৭৯৩ সালের পর হতে ইংরেজদের শাসন ক্ষমতা কায়েম হয়। হেস্টিংসের পর লর্ড কর্নওয়ালিস গভর্ণর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন ও ১৭৯৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৭৯৩ সালে জমিদারদের সঙ্গে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করেন। জমিদারদের সঙ্গে প্রথমে দশ বছরের জন্য যে দশশালা বন্দোবস্ত করেন, তাই ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।১

শ্রী কালীনাথ চৌধুরীর রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (১৯০১) গ্রন্থের তথ্যানুসারে, ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর হয়ে কলকাতা আসেন। তিনি দিল্লীর সনদ বলে জমিদারদের নিকট থেকে খাজনা আদায়ের ভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন এবং প্রত্যেক জেলায় কালেক্টর নিয়োগ করেন। তিনি পাঁচ বছরের জন্য জমিদারদের সঙ্গে একটা বন্দোবস্ত করেন। এর ফলে জমিদারদের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছিল। বন্দোবস্ত মোতাবেক প্রত্যেক জেলায় একটি করে ফৌজদারী ও দেওয়ানী আদালত স্থাপিত হয়েছিল। দেওয়ানী বিচারের ভার ছিল মুসলমান কাজীর হাতে। তবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পূর্ব  নাটোর জমিদার দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিচারের কাজ করতেন।১১৪ ১৭৯৩ সালের পর ইংরেজ সরকার আর বৃদ্ধি হারে রাজস্ব নিতে পারত না এবং জমিদারেরাও প্রজাদের নিকট নির্দিষ্ট খাজনা ছাড়া অন্য কোন প্রকার আবওয়াব আদায় করতে পারত না। কিস্তিমত নির্দিষ্ট দিনে ইংরেজ সরকারকে রাজস্ব দিতে না পারলে জমিদারি নিলামের কথা বলা হয়েছিল। জেলায় কালেক্টরদের হাতে খাজনা আদায়ের ভার অর্পণ করা হয়েছিল। প্রতি জেলায় দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিচারের জন্য জজ নিযুক্ত করা হয়েছিল। জজদের অধীনে বাঙালি মুন্সেফ এবং বিভিন্ন স্থানে থানা স্থাপন করে দারোগা নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপর গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিংকের আমলে কালেক্টরদের হাতে ফৌজদারী বিচারের ভার অর্পণ করা হয় এবং বাঙালিদের ডেপুটি কালেক্টর নিযুক্ত করা হয়। লর্ড এলেনবরের আমলে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করে নি¤œ ফৌজদারী বিচারের কাজ অর্পণ করা হয়। এ সময় হতে প্রকৃতপক্ষে প্রজাদের নিকট থেকে আদায় করে ইংরেজ সরকারকে রাজস্ব প্রদান ছাড়া জমিদারের কোন ক্ষমতা ছিল না। তবে পুরোনো অভ্যাস, বিনা শ্রম, বিনা খরচ ও অশিক্ষার কারণে প্রজারা বিচারের জন্য জমিদারদের শরণাপন্ন হতো। এর ফলে জমিদারেরা সামান্য দÐও আদায় করতো।১১৪

১৭৮৬ সালের জেমস গ্রান্ট রচিত প্রতিবেদনে বলা হয় রাজশাহী ছিল বঙ্গদেশ; সম্ভবত ভারতের সর্ববৃহৎ জমিদারি। (১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফিফ্থ রিপোর্টে প্রকাশিত)ু এর বিস্তৃতি ছিল ১২,৯০৯ বর্গমাইল। ১৭৯৩ সালে বঙ্গদেশের জেলাসমূহের সংহতি বিধানের জন্য সরকারি উদ্যোগে আয়তন ও সীমানার পুনঃনির্ধারণ করা হয়। তখন জমিদারির আয়তন পশ্চিমে ভাগলপুর থেকে পূর্বে ঢাকা পর্যন্ত এবং গঙ্গানদীর দক্ষিণ তীরে ১টি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. মুশফিক আহমদ, ড. নূরুল হোসেন চৌধুরী  লিখেছেন, গঙ্গার উভয় তীরের এ বিস্তৃত অঞ্চল রাজশাহী জমিদারির অন্তর্ভুক্ত ছিল।৪৮৪ এ মহকুমা বর্তমান যশোর, ভারতের মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম ও বর্ধমান জেলার অনেকাংশ নিয়ে গঠিত ছিল। গঙ্গা নদীর উত্তর দিকে রাজশাহীর অন্তর্ভুক্ত লস্করপুর ও তাহিরপুর রাজস্ব বিভাগগুলি (পরগনা) মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উপরোক্ত তথ্যসমূহ যে সব গ্রন্থ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে তাঁর মধ্যে W.W Hunter, BA, LLD, A Statistical Account of Bengal, Vol. VIII, Districts of Rajshahi and Bogra, Trubner and Co. London, 1876 গ্রন্থটি সর্ব প্রাচীন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, The District of Rajshahi was formed in 1793 at the time of the Permanent Settlement, although it had been under British administration for a considerable period previously. যার অর্থ দাঁড়ায়- ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দবোস্তকালে রাজশাহী জেলা গঠিত হয়েছিল, যদিও পূর্বের একটি দীর্ঘ সময় থেকে ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনেই ছিল।

মাহবুব সিদ্দিকীর শহর রাজশাহীর আদিপর্ব গ্রন্থে রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রবন্ধে ফজর আলি খাঁন (১৮৯৫-১৯৮০) ১৭৮৩ সালে রাজশাহী জেলার পত্তন হওয়ার যে তথ্য প্রদান করেছেন তাকে নির্ভুল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. মুশফিক আহমদ, ড. নূরুল হোসেন চৌধুরী রাজশাহী শহরের নামকরণের ইতিহাস প্রবন্ধে উল্লেখিত ‘১৭৭২ সালে সৃষ্ট রাজশাহী জেলার প্রথম সদর দপ্তর ছিল বর্তমান নাটোরে’ তথ্যের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। মো. মকসুদুর রহমান রাজশাহী জমিদারির রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আলোচনা করার ক্ষেত্রে ১৭৬৬-১৭৬৭ সাল থেকেই জেলা শব্দটির ব্যবহার করেছেন। যেমন তাঁর প্রবন্ধ থেকে পাওয়া যায়, নায়েব দেওয়ানের দ্বারা রাজস্ব আদায় সুবিধাজনক না হওয়ায় ১৭৬৬-১৭৬৭ সালের দিকে অনেক জেলায় আমিল নিয়োগ করা হয়েছিল। ১৭৬৮ সালে রাজশাহী জমিদারিকে ১২ ভাগ করে প্রতি বিভাগের জন্য ১ জন আমিল নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর রাজশাহীতেও (১৯৯১) ১৭৭২ সালে রেজা খাঁনের অপসারণ ও সুপারভাইজরদেরই কলেক্টর হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা শব্দের ব্যবহার হয়েছে। আবার এ গেজেটীয়ারে দেখা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালকমÐলীর নির্দেশক্রমে লর্ড কর্ণওয়ালিস ১৭৮৭ সালে সমগ্র বঙ্গদেশকে কতকগুলি কালেক্টরেট বা জেলায় বিভক্ত করার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বোর্ড অব রেভিনিউকে আদেশ দেন। এ সব তথ্য থেকে প্রকৃত সত্যকে আবিস্কারের জন্য আরো ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। অনেক সময়ই বর্তমান অবস্থানের প্রাচীন ঘটনা আলোচনায় পাঠককে বোঝানোর উদ্দেশ্যে সে সময়ের নাম ব্যবহার নাম ব্যবহার না হয়ে বর্তমানের নামই ব্যবহার হয়। যেমন- বলা হয় লেখক দীনেন্দ্রকুমার রায় রাজশাহী মহানগরীতে কয়েক বছর বাস করেছিলেন। রাজশাহী মহানগরীতে লেখক দীনেন্দ্রকুমার রায় তিন বছর ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষ পর্যায়ে। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অবস্থা তিনি প্রত্যক্ষ করেন। সে সময় এ মহানগরীর নাম রাজশাহী ছিল না; তৎকালীন শহরের নাম ছিল রামপুর বোয়ালিয়া। এখানে আমরা ঘটনাকে বর্ণনা করছি অবস্থানকে যথাস্থানে রেখে। তবে স্থানের নামের পরিবর্তন হয়ে গেছে। ঠিক এ অর্থেই বিভিন্ন গ্রন্থ ও প্রবন্ধসমূহে জেলা শব্দের ব্যবহার এসেছে।

রাজশাহী জমিদারির একাংশের সুপারভাইজর নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে চার্লস উইলিয়াম বোটন ১৭৬৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর নাটোরে এস কানাইখালিতে ইউরোপীয় অধ্যুষিত এলাকায় একটি চালাঘর ভাড়া নিয়ে প্রবল উৎসাহে কাজ আরম্ভ করলেও পরবর্তী কার্যক্রম বলে দেয় এ অফিস স্থায়ী হয়নি। ১৭৭২ সালের ১৩ এপ্রিল ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নরের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসনে সংস্কার হতে দেখা যায়। তিনি নায়েব দেওয়ান ও সুপারভাইজর পদের বিলোপ সাধন করে প্রতি জেলায় কালেক্টর নিয়োগ দেন। দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করে জমিদারদের বিচারিক ক্ষমতার অবসান ঘটানো হয়। ১৭৭২ সালের ২৯ আগস্ট রাজশাহীর পূর্বভাগের ও তারপর পশ্চিম ভাগের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

দুভাগের রাজস্ব একই কালেক্টরশিপের নিয়ন্ত্রণে ও একই সময়ে আদায়ের জন্য রাজশাহীর কালেক্টর শ্যামুয়েল মিডিলটনকেই রাজ প্রতিনিধি ও কালেক্টরের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। দেশের অন্যান্য স্থানে যাই হোক না কেন শ্রীকালীনাথ চৌধুরীর গ্রন্থ পড়ে বলা যায়, রাজশাহীতে কলেক্টর নিয়োগ হলেও জমিদারের বিচারিক ক্ষমতার অবসান হয়নি। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত মোতাবেক জমিদারের বিচার ক্ষমতা রহিত করা হয়েছিল। প্রতি জেলায় দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিচারের জন্য জজ নিযুক্ত করা হয়েছিল। জজদের অধীনে বাঙালি মুন্সেফ এবং বিভিন্ন স্থানে থানা স্থাপন করে দারোগা নিয়োগ করা হয়েছিল। এ সকল তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ১৭৭২ সালে রাজশাহী জমিদারিতে বর্তমান জেলা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ভিত্তি নির্মাণ শুরু হয়েছিল বটে; তবে জেলা নামে প্রশাসন শুরু হয়নি। স্ব নামে জেলা প্রশাসনের সূচনা হয় ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থেকে। ব্রিটিশ কাউন্সিলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড. ইদ্রিশ আহমদ (অধ্যাপক অব. ইংরেজি বিভাগ, রাবি) এ মতের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন।

ওয়ারেন হেস্টিংস এর সময় শাসন ব্যবস্থা ও রাজস্ব আদায়ের নতুন নিয়ম প্রবর্তন হলে রাজশাহীর কাজ তদারকির জন্য ১৭৮৩ সালে আগস্ট মাসে মি. জর্জ ডালেস রাজশাহী জেলার প্রথম কালেক্টর নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক ভাতা ছিল ১২শ টাকা। এছাড়াও আদায়কৃত রাজস্বের শতকরা ১০ ভাগ পেতেন। ১৭৮৩ সালে ডালেস পদত্যাগ করলে মি. পিটার্স স্পেক কালেক্টর হন।২-পৃ.৩৭৭ চলতি মাসের তৌজি হিসাব বিবরণী পরবর্তী মাসে যথাসময়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কার্যালয়ে পেশ করতে না পারায় পিটার স্পেক রাজস্ব সংক্রান্ত অনিয়মের দায়ে দÐাদেশের শিকার হন এবং পরবর্তী মাসে জরিমানাস্বরূপ ৩০০ টাকা কর্তন করা হয়।২-পৃ.৩৭৮ ১৭৮৯ সালে মি. টিলম্যান হেঙ্কেল মি. পিটার স্পেকের স্থলাভিষিক্ত হন।২-পৃ.৩৭৮
১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকালে আয়তন ও সীমানার পুনঃনির্ধারণের পর রাজশাহীর দূরতম অঞ্চলের বহু এলাকা বাদ দিয়ে দক্ষিণে গঙ্গা ও পূর্ব দিকে ব্রহ্মপুত্র বরাবর সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ১৮১৩ সালের মার্চে রহনপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে রাজশাহী থেকে পৃথক করে এবং দিনাজপুর ও পূর্ণিয়া থেকে আরো কয়েকটি থানা নিয়ে মালদহ জেলা গঠন করা হয়। ১৮২১ সালে রাজশাহী থেকে ৪টি পুলিশ সার্কেল আদমদীঘি, নৌখিলা, শেরপুর, বগুড়াকে পৃথক করে এবং রংপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জ; দিনাজপুর থেকে লাল বাজার, ক্ষেতলাল, বদলগাছি মোট ৯টি পুলিশ সার্কেল নিয়ে বগুড়া জেলা গঠন করা হয়। ১৮২৮ সালে রাজশাহী থেকে পাবনা, শাহজাদপুর, খেতুপাড়া, রাণীগঞ্জ, মথুয়াকে পৃথক করে এবং যশোর থেকে ৪টি পুলিশ সার্কেল পৃথক করে পাবনা জেলা গঠন করা হয়।১

রাজশাহী জেলার সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছিল নাটোরে। কিন্তু  অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এ কারণে কলেক্টর মি.জে.এ প্রিংগল জেলার সদর দপ্তর স্থানান্তরের জন্য একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১৮২২ সালের ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে তিনি সদর দপ্তর স্থানান্তরের প্রথম অগ্রাধিকারের সুপারিশ ছিল রামপুর বোয়ালিয়াই। দ্বিতীয় ছিল নবাবগঞ্জ। তাঁর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৮২৫ সালে জেলার সদর দপ্তর রামপুর বোয়ালিয়ায় স্থানান্তরিত হয়।৭১০

এ সময় সাব ডিভিশন বা মহকুমা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করেন। জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেদেরকে মহকুমায় সাব ডিভিশনাল অফিসার বা মহকুমা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। ১৮২৯ সাল নাটোর মহকুমা গঠন করা হয়। মি. এলফিনস্টোন জ্যাকসন  (Mr. Elphinstone Jackson) প্রথম মহকুমা প্রশাসক হিসেবে প্রেষণে যোগদান করেন। কিন্তু নাটোর তাঁর পছন্দের জায়গা না হওয়ায় আট মাস পর পদত্যাগ করেন। এরপর এক হিন্দু ভদ্রলোক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৮৩৩ সালে ডেপুটি কালেক্টর ও ১৮৪৩ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদ সৃষ্টি করা হয়।৭১০

১৮৭৭ সালে নওগাঁ মহকুমা গঠন করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৯ আগষ্ট থেকে ভারতের মালদহ জেলা থেকে নবাবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ থানা নিয়ে নবাবগঞ্জ মহকুমা গঠন করা হয়। সে সময় পোরশা, পতিœতলা, ধামইরহাট দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এ থানাগুলো বগুড়ার সঙ্গে যোগ করা হয়। এ থানা তিনটির মধ্যে ১৯৪৯ সালে পোরশা থানাকে নবাবগঞ্জ মহকুমার সঙ্গে ও অবশিষ্ট দুটিকে নওগাঁ মহকুমার সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। অবশ্য ১৯৮০ সালে পোরশা থানাকে নওগাঁ মহকুমার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।৩ বাগ্গী রোয়েদাদ (Bagge Award of 1954) অনুসারে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে কতকগুলো মৌজা (যার মোট আয়তন ২৪,৭৪০ একর) রাজশাহীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। একই রোয়েদাদ অনুসারে রাজশাহী জেলার ২২টি মৌজা (যার আয়তন ১৬,৭৯৬ একর) মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দেশ বিভাগের পূর্বে রাজশাহী জেলায় মহকুমা ছিল ৩টি ও থানা ছিল ২২টি। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ৪টি মহকুমা ও ৩২টি থানা ছিল। ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক কাঠামো রদবদলের ফলে চারটি মহকুমা রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাপাঁইনবাবগঞ্জ ৪টি স্বতন্ত্র জেলায় পরিণত হয় এবং রাজশাহী বিশেষ শ্রেণির, নওগাঁ ১ম শ্রেণির এবং নাটোর ও চাপাঁইনবাবগঞ্জ ২য় শ্রেণির জেলার মর্যাাদা পায়।২-পৃ ৪১০

১৯৫১ সালে পূর্ববঙ্গে জমিদারি পদ্ধতি বিলুপ্ত করা হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিদারি এস্টেট ক্রয় করা শুরু করে। এর ফলে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৫৬ সালে সব জেলায় এডিশনাল ডেপুটি কালেক্টর পদ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে যাকে এডিশনাল ডেপুটি কমিশনার বা এডিসি পদে রূপান্তর করা হয়।৭১০  বিভিন্ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার ১৯৬০ সালে ডেপুটি কমিশনারের কার্যক্রমকে তিন ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রত্যেকটি বিভাগ ছিল একজন এডিসি’র অধীনে। তাঁরা এডিসি (জেনারেল), এডিসি (রেভেনিউ),  এডিসি (ডেভেলপমেন্ট)। ১৯৬০ সালে দুজন এডিসি রাজশাহীর ডেপুটি কমিশনারকে সহযোগিতা করতো। তাঁরা এডিসি (জেনারেল), এডিসি (রেভেনিউ)। এডিসি ছাড়াও সাব ডিভিশনাল অফিসার (এসডিও)’র আওতায় (Including) অতিরিক্ত সাত জন সহকারী কমিশনার ছিল। সদরের বাইরের প্রত্যেকটি মহাকুমার দায়িত্বে থাকতো এক এক জন এসডিও। অতিরিক্ত সাত জন সহকারী কমিশনারের মধ্যে ৬ জনের পদায়ন ছিল মহাকুমা সদরে। ১৯৭৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসনে তিনজন এডিসি ছিল। তাঁরা এডিসি (জেনারেল), এডিসি (রেভেনিউ),  এডিসি (ডেভেলপমেন্ট)।৭১০

পরবর্তীতে আরো পরিবর্তন দেখা যায়। ডেপুটি কমিশনারকে সহযোগিতা করতেন ৫জন এডিসি। তাঁরা এডিসি (জেনারেল), এডিসি (রেভেনিউ), এডিসি (ডেভেলপমেন্ট), এডিসি (লিটারেসি), এডিসি (প্রজেক্ট)। ১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর  এডিসি (প্রজেক্ট) ও ১৯৮০ সালের ১১ ফেব্রæয়ারি সরকারি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এডিসি (লিটারেসি) পদ সৃষ্টি হয়েছিল। রাজশাহী জেলা প্রশাসনে ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি এডিসি (প্রজেক্ট) ও ১৯৮০ সালের ৭ মার্চ এডিসি (লিটারেসি) যোগদান করেন।৭১০ ৫জন এডিসি ছাড়াও ১৩জন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এ সব ম্যাজিস্ট্রেটদের ৬জন ১ম শ্রেণির, ৩জন ২য় শ্রেণির ও ৪জন ৩য় শ্রেণির ছিলেন। প্রত্যেক মহকুমায় ছিলেন ১জন এসডিও, ১জন ছিলেন এডিশনাল এসডিও, ১জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়াও সদর মহকুমায় ১জন ১ম শ্রেণির লয়ার ম্যাজিস্ট্রেট, ১জন ১ম শ্রেণির অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট, ২জন ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, ১জন ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। নওগাঁ মহকুমায় ১জন ১ম শ্রেণির লয়ার ম্যাজিস্ট্রেট ও ১জন ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। নাটোর মহকুমায় ১জন ১ম শ্রেণির লয়ার ম্যাজিস্ট্রেট ও ১জন ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। নবাবগঞ্জ মহকুমায় ১ জন ১ম শ্রেণির লয়ার ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। মহাকুমা ৪টিতেই ১জন করে সাব-ডিভিশনাল ম্যানেজার ছিলেন। তিনি রাজস্ব কার্যক্রমে এসডিওকে সাহায্য করতেন।৭১০ ১৯৮০ সালে সরকার নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এডিশনাল এসডিও পদ সৃষ্টি করে।৭১০

১৯৯১ সালের বাংলাদেশ জেলা গেজেটিয়ার বৃহত্তর রাজশাহীর তথ্যানুসারে জেলার প্রশাসনিক প্রধানকে Deputy Commissioner (DC) বা জেলা প্রশাসক বলা হয়। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তাকে District Magistrate (DM) বলা হতো। জেলা প্রশাসক সমগ্র জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কমর্চারী। তিনি জেলা সদরে অবস্থিত বিভিন্ন বিভাগের অফিসের উপর সার্বিক তত্ত¡াবধান ও সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ২০১৫ সালের ১৫ মার্চে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জেলা প্রশাসকের কাজে সহায়তা করার জন্য  Additionar Deputy Commissionar (ADC) বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), ADC(রাজস্ব), ADC(শিক্ষা ও আইসিটি), ADC (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও ১জন Additionar Deputy Magistrate (ADM) বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। এছাড়াও ১জন Deputy Director Local Govt. (DDLG) বা উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, ১জন নেজারাত ডেপুটি কালেক্টর (NDC), ১জন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (RDC), ১জন ট্রাইং ম্যাজিস্ট্রে (TM), ১জন ভূমি হুকুম দখল অফিসার (LAO), ১জন জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার (JCO), ১জন ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার (DRRO) এবং ১জন সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আছেন। এছাড়া কয়েকজন সহকারী কমিশনার, ১জন জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ১জন লাইব্রেরিয়ান, ১জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী আছেন। মাঝে মাঝে এর জনবল কাঠামো সংশোধনের মাধ্যমে যুগোপযোগী করা হয়।

কালেক্টর ভবন বা জেলা প্রশাসন ভবন :  চিরস্থায়ী বন্দোবস্তর পর ১৭৯৩ সালে নাটোর জেলা প্রশাসন কার্যক্রমের সূচনা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পদ্মার প্রবল বন্যায় নারদ নদীর মুখে বালি জমে গেলে নদীটি ছোট হয়ে এবং বন্যার দূষিত পানি ঐ নদী দিয়ে বের হতে না পেরে অস্বাস্থ্যকর অবস্থা সৃষ্টি করে নাটোর শহরবাসী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাই ১৮২৫ সালে জেলা সদর নাটোর থেকে শ্রীরামপুর (রাজশাহী) স্থানান্তর হয়। ১৮৫০ সালে বিশাল জল বিপ্লব ঘটে তৎকালীন শ্রীরামপুর শহর নদী গর্ভে  বিলীন হয়ে যায়। ফলে শ্রীরামপুর হতে বুলনপুরে স্থানান্তরিত হয়ে প্রথমে খড়ের চালাঘরে জেলা প্রশাসনের কাজ শুরু হয়। পরে করগেট টিনের ঘর তৈরি হয়েছিল।১ ১৮৬৪-১৮৬৫ সালে কালেক্টর ও জজকোর্ট ভবন একই সঙ্গে নির্মিত হয়েছিল এবং পরে পুলিশ দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভবন নির্মিত হয়েছিল। কালেক্টরী ভবন নির্মাণ কাজ  শুরু হয়েছিল ১৮৬৫ সালের এপ্রিল মাসে এবং ১৮৬৫ সালে অক্টোবর মাসে শেষ হয়েছিল। একজন ফরাসী নির্বাহী প্রকৌশলী মি. ইএসবি পেরিরা (Mr. ESB Perira) এর তত্ত¡াবধানে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় এবং হেড মেশন ছিলেন (প্রধান রাজমিস্ত্রি) নগরীর ল²ীপুরের মুহম্মদ কুরান সরকার।১    

পুরোনো ভবন ভেঙ্গে রাজশাহী ডিসি কোর্ট ভবন নির্মিত হয় ১৯৯২-২০০৩ বছরে। গণপূর্ত বিভাগ-১ রাজশাহী এর ৬ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখের প্রতিবেদন অনুসারে এতে প্রাক্কলিত ব্যয় হয় ৭ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গণপূর্ত বিভাগ, রাজশাহী এ ভবন নির্মাণ করে। 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd