অধ্যায় ১৮ : প্রত্ন-ইমারত

ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত সপুরা শিবমন্দির বা সপুরা মঠ (গ)


সপুরা মঠ (গ), (দক্ষিণ-পূর্বদিক হতে)

মন্দিরটি সপুরা সিল্ক মিলের দক্ষিণ দিকে একটি ধানের চাতালের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত। এটিও বর্গাকার এবং এক কক্ষ বিশিষ্ট। শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুকুমার রায়ের মতে, কার্তিক পাল ব্রিটিশ আমলে এ মঠ নির্মাণ করেন। কার্তিক পালের পরিবার ১৯৪৭ সালের পর কোন এক সময় ভারতে চলে যান। এটাও শিব মন্দির। তবে এখানে দুর্গাপূজাও হতো। 
মন্দিরটির গর্ভগৃহের প্রতি বাহুর পরিমাপ বহির্ভাগে ৪.৩২ মি. এবং অভ্যন্তরে ২.৫৪ মি.। কক্ষের অভ্যন্তরে উত্তর ও পূর্ব দেয়ালে দুটি করে কুলঙ্গি বিদ্যমান। মন্দিরটিতে প্রবেশের জন্য পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে একটি করে খিলান বিশিষ্ট প্রবেশ পথ রয়েছে। পরবর্তীতে দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইমারতের অন্য দুই দিক অর্থাৎ উত্তর ও পূর্বদিকে দরজা সদৃশ বদ্ধখিলান বিদ্যমান। গর্ভগৃহের উপরিস্থিত ছাদ উঁচু-নিচু গম্বুজে আবৃত হলেও বহির্ভাগে সমতল করে তদুপরি ১৬টি ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত একটি শিখরে আচ্ছাদিত। চূড়াসমূহের শীর্ষদেশ কলসচূড়ায় শোভিত। এ মন্দিরটিও উপরের মন্দিরের ন্যায় সাধারণ অলংকরণে অলঙ্কৃত। তবে প্রবেশ পথ দুটি আয়তাকার কাঠামো বেষ্টিত এবং উপরিভাগ খিলানপটহ (ঃুসঢ়ধহঁস) সংবলিত। কার্নিসের নিম্নাংশ ফুল ও পেঁচানো লতাপাতা সমৃদ্ধ টানা পাড় নকশায় এবং প্রবেশ পথের খিলানমুখ খাঁজ নকশায় সজ্জিত। এছাড়া মন্দিরটির চার কোণা উল্লম্বাকারে স্থাপিত ও খিলান নকশা বিশিষ্ট প্যানেলে অলংকৃত। ক্ষুদ্র চূড়ামণ্ডিত শিখর বিশিষ্ট এ মন্দিরও কখন নির্মিত তার কোন লিখিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মন্দির নির্মাণশৈলীর সাথে পুঠিয়া ও তাহিরপুরের শিবমন্দিরের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। সুতরাং এ মন্দিরও পুঠিয়ার শিবমন্দিরের সমসাময়িক অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নির্মিত হয়ে থাকবে বলে অনুমিত হয়।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd