অধ্যায় ১৮ : প্রত্ন-ইমারত

প্রাচীন দালান


মুঘল আমলে নির্মিত হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মাজার শরীফ ও ডাচ নির্র্মিত বড়কুঠি রাজশাহী মহানগরীর মধ্যযুগের প্রাচীন দালান। ধারণা করা হয় হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মাজার শরীফকে কেন্দ্র করে এ জনপদটি পরিচিতি পেতে শুরু করে এবং বড়কুঠি কেন্দ্রিক রেশম বাণিজ্যের ফলে বন্দরের আকৃতি লাভ করে। তবে পাকা অবকাঠামোগত নগরায়নের ব্যাপকতা ঘটে ১৮২৫ সালে নাটোর থেকে জেলা প্রশাসনের সদর দপ্তর এখানে স্থানান্তরিত হবার পর। বলা যায় হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মাজার শরীফ, বড়কুঠি ও কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যতীত এ মহানগরীর শতবর্ষী দালানগুলো ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম পর্যায়ে নির্মিত। যেগুলোর নির্মাণ শিলালিপি ও লিখিত কোন তথ্য আবিস্কার হয়নি, সেগুলোর নির্মাণের সময় নির্ণয় জটিল বিষয়। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজশাহী মহানগরীর প্রত্ন ইমারতের উপর একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। তাঁর অনুসন্ধানী প্রবন্ধটি ‘রাজশাহী শহরের প্রত্ন ইমারত’ শিরোনামে রাজশাহী মহানগরী: অতীত ও বর্তমান (আইবিএস, রাবি-২০১২) গ্রন্থে এবং ‘রাজশাহী জেলার ঔপনিবেশিক স্থাপত্য’ শিরোনামে বরেন্দ্রের বাতিঘর অগ্রযাত্রার ৫ বছর (রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন-২০১৩) গ্রন্থে ছাপা হয়। প্রবন্ধে তিনি শতবর্ষাধিক দালানসমূহকে প্রত্ন ইমারতের অন্তর্ভুক্ত করে ধারাবাহিক বর্ণনা এনেছেন। তাঁর বিবরণে দেখা যায়, ইমারতগুলোকে ধর্মীয় ও লোকায়ত দু’ভাগে আলোচনা করা হয়েছে। ধর্মীয় ইমারতসমূহের মধ্যে আছে মসজিদ, সমাধিসৌধ, ঈদগাহ, মন্দির, মঠ, চার্চ। লোকায়ত ইমারতসমূহের মধ্যে কুঠি, বাসভবন, প্রশাসনিক ভবন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ভবন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংরক্ষণে উদাসীনতা, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য, রাস্তা নির্মাণ প্রভৃতি কারণে ইমারতগুলো ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানত ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের প্রবন্ধ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ গ্রন্থে সেগুলো সংরক্ষণের প্রচেষ্টা চালানো হলো। 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd