অধ্যায় ১৭: র্অথনীতি

রাজশাহী জুট মিলস


রাজশাহী জুট মিলস মহানগরীর পূর্বদ্বারের উপকণ্ঠে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পবা উপজেলার শ্যামপুরে অবস্থিত। মিলের এলাকা ৪০ একর। ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে এর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয় এবং শেষ হয় ১৯৭৯ সালের ৩০ জুন।২ নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পাটকল সংস্থা এ মিলের দায়িত্ব নেয়। ১৯৭৭-১৯৮০ সালে অফিসারসহ শ্রমিক সংখ্যা ছিল ১৫৭৩ জন স্থায়ী ও ২৫ জন অস্থায়ী। তাঁত ছিল ২৩৯টি। উৎপাদন ১৯৭৭-১৯৭৮ সালে ৫২০২ টন, ১৯৭৮-১৯৭৯ সালে ৫৩১৪ টন, ১৯৭৯-১৯৮০ সালে ৪৯৬২ টন। ২০০২ সালের ২৭ নভেম্বরে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে মিলটি পাট কর্পোরেশনের অধীনে। তাঁতের সংখ্যা ২৩০টি। প্রতিদিনের উৎপাদন ২১.২৮ টন।

রাজশাহী জুট মিলস (ছবি- ২০০৭)

রাজশাহী জুট মিলের ২য় ইউনিট:১৬৪ ১১ মার্চ ২০০৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজশাহী জুট মিলের ২য় ইউনিট (জুট মিল নং-২) এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সংসদ সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিনু ১১ আগস্ট ২০০৫ তারিখে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে জানানো হয়, নির্মাণাধীন এ মিলের ২য় ইউনিটে ২০৭টি তাঁত স্থাপন করা হবে। এর ভবন এবং যন্ত্রাংশ ক্রয়ের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় মোট ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভবন নির্মাণে ৪ কোটি টাকা এবং যন্ত্রাংশ স্থাপনের জন্য ৩ কোটি টাকা। ১২ আগস্ট ২০০৫ তারিখের দৈনিক নতুন প্রভাতের তথ্য অনুসারে বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী জুট মিলসের যন্ত্রাংশগুলোই এখানে স্থাপন করা হচ্ছে। এ সব যন্ত্র সংরক্ষণের জন্য অস্থায়ীভাবে শেড নির্মাণ করা হয়। এ ইউনিটের মিলে প্রতিদিন ৩০ টন পণ্য উৎপাদন হবে এবং এর জন্য আরো ১১০০ শ্রমিক নিয়োগ বলা হয়েছিল।
২০১৫ সালেও রাজশাহী জুট মিলস লোকসানের পর্যায়ে অবস্থান করছিল। মিলের বস্তা ও চট বিক্রি না হওয়ার কারণে শ্রমিক কর্মচারীরা সময় মতো বেতন পান না। ছয় বছর পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সমুদয় পাওনা হাতে আসেনি। একটি বস্তা তৈরিতে খচর হয় ৯৫ টাকা। বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার চট অবিক্রিত। এর মধ্যে বস্তার সংখ্যা ১০লাখ। মোট বেতন বকেয়া ২০কোটি ১০লাখ টাকা। মিলের স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী ২২০০ জন। এর মধ্যে শ্রমিক সংখ্যা ২০০০ জন।৭০১


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd