অধ্যায় ১৭: র্অথনীতি

নীল শিল্প


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে নীলকুঠি বর্তমান বিএনসিসি অফিস (ছবি- ২০১১)

রেশমের পর নীল চাষ শুরু হয়। মি. হান্টার স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্টে মেসার্স ওয়াটসন আ্যান্ড কোম্পানির রাজশাহী জেলায় কয়েকটি বড় বড় নীল কারখানা স্থাপনের কথা বলেছেন। এ কোম্পানির পূর্বে কোথাও নীল চাষের কথা  বলা হয়নি। সুতরাং বোয়লিয়ায় ১৮৩৫ সালের পর হয়ত নীলচাষ শুরু করে ইংরেজরা। বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার রাজশাহীতে ও’ম্যালি উল্লেখ করেছেন, নীল উৎপাদনে রাজশাহী প্রথম স্থান অধিকার করে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে রেশম ও নীল রামপুর বোয়ালিয়াকে বাণিজ্যিক বন্দরে রূপান্তরিত করে ও ব্যাপকহারে ইউরোপীয় কুঠিয়াল সাহেবদের আগমন ঘটে।৩ ইউরোপ ছাড়াও মিশর, জেদ্দা, পেরু, চীনেও রাজশাহীর রেশম ও নীলের বাজার তৈরি হয়েছিল। 
নীল চাষ এদেশে ইউরাপীয় ও বৃটিশ শাসকদের অত্যাচার ও অমানবিক আচরণের এক নির্মম কাহিনীও হয়ে আছে। যা থেকে রাজশাহীও পৃথক হতে পারেনি। ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নীল করেরা কৃষকদের দাদন নিতে বাধ্য করতো। এর ফলে কৃষকদের সব চেয়ে উর্বরা জমিতে নীল চাষে বাধ্য করা হতো।২  অথচ নীল চাষ করলে জমির উর্বরা শক্তি ক্ষয় হয়ে যেত। নীল চাষে ব্যর্থ হলে কুঠিতে নিয়ে কৃষকদের অমানুুষিক নির্যাতন করা হতো। এ অমানবিক জুলুম, অত্যাচার, শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে ১৮৫৯-১৮৬১ সালে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ প্রতিরোধই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত। তৎকালে ইউরোপে কৃত্রিম নীল উৎপাদন আরম্ভ হওয়ার ফলে এদেশে শেষ পর্যন্ত নীলের চাষ বন্ধ হয়ে যায়। ১৮৯৬ সালে রাজশাহী জেলার ৮ হাজার একর জমি নীল চাষের আওতায় ছিল বলে জানা যায়।২
তালাইমারী, বিলমারিয়া, খোজাপুর, চারঘাট, সারদা, শাহপুর, ভারতীপাড়া, বালুয়া, মীরগঞ্জ, খরচাকা, বড়গাছি প্রভৃতি জায়গায় নীল কুঠি ছিল। নগরীর বড়কুঠি এখনও রেশম, নীলসহ নানান ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে।

২০০৫ সাল থেকে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় ‘চকধাদাশ দারিদ্র্য বিমোচন সমাজ উন্নয়ন কর্ম সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা নীল চাষ প্রকল্প শুরু করে। ২০১১ সালের ৭ নভেম্বর দৈনিক লাল গোলাপ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে সংস্থাটি বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ ও ঋণ দিয়ে চাষীদের নীল চাষে উৎসাহিত করছে। নীল চাষী কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫০ জন। তাঁদের মধ্যে দুজন পুঠিয়া উপজেলার  থান্ডাবাড়ি গ্রামের আবু সাঈদ ও আব্দুর রহিম। এ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলমগীর হোসেন ঋণ দানের কথা অস্বীকার করেন। তবে তাঁরা নীলপাতা কিনে আমেরিকা, ফ্রান্স, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা বলেন। নীল চাষে তাঁরা কলকাতা থেকে প্রশিক্ষণ নেন।  এরপর রংপুরের অপর একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২১ জন কৃষক প্রশিক্ষণ নিয়ে নীল চাষ আরম্ভ করেন। নীলগাছ ৫/৬ ফিট লম্বা। চাষে সেচ, সার, নিড়ানি লাগেনা। সহজে পতিত জমিতেও চাষ করা যায়। লাভও বেশি।৭৯৭


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd