অধ্যায় ১৬ : যোগাযোগ

মোবাইল ফোন


গ্রামীণ ফোন 
গ্রামীণ ফোনের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীতে মোবাইল ফোনের কার্যক্রম আরম্ভ হয় ২০০১ সালের ১১ মার্চ। এর ফলে রাজশাহী মহানগরীতে টেলি যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারার প্রবর্তন হয়। গ্রামীণ ফোনের মাধ্যমে মোবাইল টু মোবাইল ছাড়া পাবলিক সার্ভিস টেলিফোন ব্যবস্থায় মোবাইল টু ডিজিটাল ফোনেও (টি এ্যান্ড টি সাধারণ ফোন) কথা বলা যায়। এ ফোনের মাধ্যমে মোবাইল টু মোবাইল টেক্সট মেসেজ পাঠানো যায়।
এ ফোন প্রবর্তনের ফলে টিএন্ডটি ফোনের সংযোগ দেয়া যেখানে সম্ভব নয় সে সব জায়গার অধিবাসীরা টেলি যোগাযোগের সুবিধা পাচ্ছে এবং টিএন্ডটি এর উপর গ্রাহকদের চাপ অনেকটা লাঘব হয়েছে। গ্রামীণ ফোন ঢাকা অফিসের ১ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখের তথ্যানুসারে শুরু থেকে ২০০২ পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীতে এ ফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার এবং রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৩০ হাজার । সারা বাংলাদেশে এ ফোনের গ্রাহকের বৃদ্ধির হার শতকরা ৫৭ ভাগ। উক্ত তারিখের তথ্যানুসারে রাজশাহী মহানগরীতে গ্রামীণ ফোনের প্রথম অফিসটি উপশহর হাউজিং এস্টেটের ২নং সেক্টরে ২৭২ নং বাড়িতে ছিল। পরবর্তীতে উপশহর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে এর একটি নতুন অফিস খোলা হয়। বর্তমানে একমাত্র অফিস সাহেব বাজার আলুপট্টির দৈনিক বার্তা ভবনে।
রবি
রবি এ্যাকটেল নামে চালু হয়েছিল। সিঅ্যান্ডবি মোড় অ্যাকটেল মোবাইল ফোনের ডিলার স্বাধীনের নিকট থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের নভেম্বরের শেষার্ধ থেকে রাজশাহীতে এ্যাকটেল মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চালু হয়। সম্প্রতি এ্যাকটেল নামটি পরিবর্তন করে রবি রাখা হয়েছে। রবির অফিস সাহেব বাজার এলাকার কুমারপাড়ায়।
সিটিসেল
লক্ষ্মীপুর মোড়ের সিটি সেল মোবাইল ফোনের ডিলার জুয়েলের নিকট থেকে জানা যায় ২৩ জুলাই ২০০৩ তারিখে রাজশাহীতে সিটি সেল মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চালু হয়। সিটি সেলের অফিস উপশহরে।
বাংলালিংক
২২ ডিসেম্বর ২০০৫ তারিখে বাংলা লিংকের রাজশাহীর আঞ্চলিক অফিসের কেয়ার সেন্টার সুপার ভাইজার রাসেদুল হক শিমুলের নিকট থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা লিংক নেটওয়ার্ক কার্যক্রম শুরু হয়। রাজশাহীতেও সে সময় নেটওয়ার্ক শুরু হয়। ১৫/১২/২০০৫ তারিখে উপশহর হাউজিং এস্টেটের ২নং সেক্টরের গ্রাহক সেবা সেন্টারের উদ্বোধন হয়।২৪৩ অফিসটির বাড়ি নং ৩৫। সেবা সেন্টারটি আঞ্চলিক বা বিভাগীয় অফিস। 
টেলিটক
রাজশাহীতে টেলিটক মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চালু হয় ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ৯ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে বেসিক ব্যাংক থেকে জানা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখ থেকে এ ব্যাংক টেলিটকের সীম কার্ড বিক্রি শুরু করে। টেলিটক বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের হলেও রাজশাহীস্থ এ বোর্ডের ল্যান্ড ফোনের কোন অফিস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। সাহেব বাজারে টেলিটকের পৃথক অফিস আছে।
এয়ারটেল
ওয়ারিদ নামে এয়ারটেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে নামে পরিবর্তন আসে। ১ মে ২০১৭ তারিখে দেখা যায় রবি ও এয়ারটেলের সার্ভিস সেন্টার এক সঙ্গে এমএম প্লাজা ২২২ কুমারপাড়া একই ভবনের নিচতলায়। একই ভবনের ৩য় তলায় রবির রাজশাহীর হেড অফিস। ভবনটির অবস্থান বড় রাস্তার উত্তর পাশে। ১ মে ২০১৭ তারিখে প্যারেন্টস প্লাজা, ৪১৯ আলুপট্টির অংশীদার আব্দুর রাজ্জাকের তথ্যানুসারে ওয়ারিদের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এ ভবনের নিচতলায়। এয়ারটেল হবার হবার পর সম্ভবত ২০০৯ সালে এখান থেকে স্থানান্তর।  আলুপট্টি থেকে এয়ারটেলের অফিস চলে আসে নগর ভবনের পূর্ব ও গ্রেটার রোড সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে গৌরহাঙ্গার ১৪ ওসমান সুপার মার্কেটের নিচতলায়। কিছুদিন পূর্বে এখান থেকে স্থানান্তর হয় এমএম প্লাজা ২২২ কুমারপাড়ায়।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd