অধ্যায় ১৪: সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান

মুক্তাঙ্গন


কাদিরগঞ্জ এলাকায় রেলওয়ের দক্ষিণ পাশ সংলগ্ন মুক্তাঙ্গন নামের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। সেখানে দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। এ সব শিশুদের প্রতি ঈদ উল ফিতরে পোশাক-সেমাই-চিনি, শীত বস্ত্র, মাঝে মাঝে নাস্তা দেয়া হয়ে থাকে। নৃত্য-সঙ্গীত চর্চারও ব্যবস্থা আছে। জাতীয় দিবসগুরোই অংশগ্রহণ ছাড়াও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাদিরগঞ্জের সমাজ হিতৈষী কয়েকজন উদ্যোগী তরুণের প্রচেষ্টার ফসল মুক্তাঙ্গন। সিরাজুল করিম বাচ্চু, মো. জুলফিকার আলী (জলি), মো. মহিউদ্দিন হেলাল, মুক্তারসহ আরো কয়েকজন তরুণ ক্রীড়া ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সালে বর্তমান স্থানে ‘আরবান ক্লাব’ নামে এ প্রতিষ্ঠানটির সূচনা করেছিলেন। ক্লাবটি পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। এর সভাপতি হয়েছিলেন সিরাজুল করিম বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক হন মো. জুলফিকার আলী (জলি)। ১৯৭৮ সালে মুক্তার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে ক্লাবটির সদস্যবৃন্দ বেশ মর্মাহত হন। সমাজ হিতৈষী এ সহকর্মীর উদ্দেশ্যে ক্লাব একটি সভার আহবান করে। তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখার লক্ষ্যে সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ‘আরবান ক্লাব’ নামটি পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল মুক্তাঙ্গন। জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মুক্তাঙ্গনের দীর্ঘায়ুর প্রচেষ্টা স্বরূপ ১৯৮১ সালের ৯ এপ্রিল সমাজ সেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধনভুক্ত করা হয়। নিবন্ধন নং রাজশা-১৮৬(৩৬০)১৯৮১/১৪। মুক্তাঙ্গন খেলাধুলা ও অন্যান্য সমাজসেবার সঙ্গে ১৯৮২ সালে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে নিজস্ব ভবনে ‘মুক্তাঙ্গন নিরক্ষরতা দূরীকরণ কেন্দ্র’ শিরোনামে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করে। এর প্রথম শিক্ষিকা ছিলেন মোসা. হীরা আখতার। তিনি অনারারী শিক্ষিকা হিসেবে ১৯৮২ সালেই যোগদান করেন। ২০০৯ সালে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের আন্তরিকতায় শিক্ষা কর্মসূচি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আওতায় চলে আসে। সে সময় রওশন আরা দ্বিতীয় শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে এ শিক্ষা কর্মসূচি ‘রাজশাহী সিটি প্রাক প্রাথমিক কেন্দ্র ১৫ নং ওয়ার্ড’ নামে মুক্তাঙ্গন ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ কেন্দ্রে আছে ‘শিশু বিকাশ’ ও ‘প্রাক প্রাথমিক’ নামে দুটি শ্রেণি। প্রত্যেক শ্রেণির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০ জন। বর্তমানে উপরোক্ত ২ জন শিক্ষিকাই কর্মরত আছেন। ১৩ সদস্য কমিটির দ্বারা মুক্তাঙ্গন পরিচালিত হচ্ছে। কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী (জলি), সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ মো. মাহাবুবুর রহমান (মন্টু)।৭৭৩ 
ঈদ উল ফিতরে সেমাই-চিনি ও শীত বস্ত্র বিতরণের ক্ষেত্রে শিক্ষিকা মোসা. হীরা আখতারের বিশেষ ভূমিকা থাকে। 
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd