অধ্যায় ১৪: সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান

রাজশাহী এসোসিয়েশন


রাজশাহী মহানগরীর অনেক জনহিতৈষী সংগঠনের পরিচয় পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে রাজশাহী এসোসিয়েশন অন্যতম। নানান হিতকর কর্মের কারণেই রাজশাহী এসোসিয়েশন ঐতিহাসিক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এসোসিয়েশন কখনও নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান, কখনও রেখেছে সরকারের বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও দাবি আদায়ের স্বাক্ষর। সমাজসেবকদের সচেতনতা ও কল্যাণমুখী ভূমিকায় প্রায় দেড়শ বছর অতিক্রম করে এসোসিয়েশন টিকে আছে। বাংলাদেশের সর্ব প্রথম মিউজিয়াম বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী কলেজকে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীতকরণ, কলেজ হোস্টেল নির্মাণ, কৃষি ইনস্টিটিউট ও কৃষি ফার্ম স্থাপন, রাস্তা-পথের সংস্কার সাধন, রেলপথে রাজশাহী শহরের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগ স্থাপন, হাসপাতাল স্থাপনের মাধ্যমে জনগণের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ, পানির কল স্থাপনের বন্দোবস্তকরণ, রাজশাহী টাউন হল (পরবর্তী নাম রাজা প্রমদানাথ টাউন হল) ইত্যাদি নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠা রাজশাহী এসোসিয়েশনের উল্লেখযোগ্য কীর্তি।

বিলুপ্ত রাজশাহী টাউন হলের জায়গাতেই নবনির্মিত রাজশাহী এসোসিয়েশন ভবন, ষষ্ঠীতলা, অলকার মোড়

রাজশাহী এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার তারিখ সম্পর্কে দুটো ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। শ্রীকালীনাথ চৌধুরী রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে রাজশাহী এসোসিয়েশনের জন্ম কাল ১৮৭২ সালের ২১ জুলাইকে (বঙ্গাব্দ শ্রাবণ ১১৭৯) উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ও’ম্যালি লিখেছেন, ১৮৮৭ সালে ১৮৬ জন সদস্য নিয়ে রাজশাহী এসোসিয়েশন কার্যক্রম শুরু করে (Distrct Gezetteers Rajshahi-1916) । তবে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকগণ শ্রীকালীনাথ চৌধুরী উল্লিখিত তারিখকেই সঠিক বলে মনে করেন।৯৬
১৮২৫ সালে জেলার প্রশাসনিক দপ্তরসমূহ নাটোর থেকে রামপুরা-বোয়ালিয়া অর্থাৎ রাজশাহী শহরে স্থানান্তরিত হওয়ার পর পরিবর্র্তনের হাওয়ায় রাজশাহীর আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের ধারা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং দ্রুতই শহরের পূর্ণতা লাভ করে। যার ফলে শহরবাসী শহরে জীবনের নানান ঘাটতি অনুভব করে। শহরোন্নয়নের এগিয়ে আসেন রাজা-জমিদার, ভূ-স্বামী, শিক্ষকসহ সমাজের বিদ্যোৎসাহী সমাজ হিতৈষী। তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দানে শহরে গড়ে ওঠে বিভিন্ন জনহিতৈষণামূলক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। ও’ম্যালি District Gazetteers Rajshahi-1916 গ্রন্থে অতি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সংগঠন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। এগুলো রাজশাহী এসোসিয়েশন ফর দ্যা জমিন্দারস; রাজশাহী মোহামেডান এসোসিয়েশন, রাজশাহী; আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম, রাজশাহী; আঞ্জুমানে তৈয়বিয়া ইসলামিয়া, নাটোর ও মোহামেডান এসোসিয়েশন, নাটোর। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হলো রাজশাহী এসোসিয়েশন ফর দ্যা জমিন্দারস। যা পরবর্তীকালে অনিবার্য কারণে রাজশাহী এসোসিয়েশন নামে প্রসিদ্ধ লাভ করে।৯৬
রাজশাহী এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা লাভ করলে এর সভাপতি হন রাজা প্রমথ নাথ রায় ও সাধারণ সম্পাদক হন রাজ কুমার সরকার। রাজা প্রমথনাথ রায় শুধু রাজশাহী এসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতিই ছিলেন না, প্রকৃতপক্ষে তিনিই প্রতিষ্ঠানটির গোড়াপত্তন করেন। প্রজ্ঞা, বিনয়ী ও প্রজা বৎসল রাজা প্রমথনাথ রায়ের জন্ম ১৮৪৯ সালে। তিনি ছিলেন দিঘাপতিয়ার রাজা প্রসন্ননাথের দত্তক পুত্র।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজশাহী এসোসিয়েশন রাজশাহীর উন্নয়নের অগ্রগামী সংগঠন রূপে আবির্ভূত হয়। রাজশাহীর দুবলহাটির রাজা হরনাথ রায়বাহাদুরের অর্থে বোয়ালিয়া স্কুলে এফএ ক্লাস চালু হয়ে নাম হয়েছিল বোয়ালিয়া হাই স্কুল। কিন্তু অল্পকাল পরেই সরকার উঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করলে রাজশাহী এসোসিয়েশন বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সরকারের পরিকল্পনা ব্যর্থতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে এসোসিয়েশনের আহবানে সাড়া দিয়ে দিঘাপতিয়ার দানশীল রাজা প্রমথনাথ রায় বাহাদুর রাজশাহীতে বিএ কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে দেড় লাখ টাকা দান করেন। রাজশাহী এসোসিয়েশনের পক্ষে রাজা প্রমথনাথ রায়ই প্রথম বোয়ালিয়া হাই স্কুলে আরো দুটি শ্রেণি যোগ করে বিএ কোর্স খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৮৭৮ সালে রাজশাহী কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাফেলিয়েশন পায় এবং ডিগ্রি কলেজ হিসেবে রাজশাহী কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে। ১৮৭৯ সালে বিএ ক্লাস খোলা হয়। এসোসিয়েশনের আহবানে রাজশাহীর রাজা-জমিদার ও বিত্তশালী ব্যক্তিগণের দানে ১৮৮৪ সালে ৬১,৭০৩ টাকা ব্যয়ে কলেজের মূল ভবন নির্মিত হয়।৯৫ রাজশাহী এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ও অধ্যক্ষ রায়বাহাদুর কুমুদিনীকান্ত বন্দোপাধ্যায়ের সহায়তায় নির্মিত হয় রাজশাহী কলেজের হোস্টেল। রাজশাহী কলেজের পিএন বোর্ডিংটিও রাজশাহী এসোসিয়েশন কর্তৃক স্থাপিত। রাজশাহী এসোসিয়েশনের দ্বারাই রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী এগ্রিকালচারাল ফার্ম। এ প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টাতেই ১৯৩৬ সালে রাজশাহী কলেজে বসন্তকুমার এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট চালু হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহী শহরের যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে রাজশাহী এসাসিয়েশনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এসোসিয়েশনের আন্দোলনের ফলে আব্দুলপুর-আমনুরা রেলপথ স্থাপন হয় এবং ১৯২৯ সালের ১৪ মার্চ রাজশাহীতে রেলগাড়ি চালু হয়।৯৫ এর পূর্বে রাজশাহীবাসীকে রেলপথে কোথাও যেতে হলে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে যেতে হতো। বোয়ালিয়া-দিঘাপতিয়া রাস্তার সংস্কার সাধনে এবং রাজশাহী শহরে হাসপাতাল স্থাপনে দিঘাপতিয়া রাজপরিবার ও রাজশাহী এসোসিয়েশনের উল্লেখযোগ্য অবদান আছে।
সেকালে রাজশাহী শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল না। অধিকাংশ শহরবাসীকে দূষিত পানি পান করতে হতো। ফলে তাঁরা আক্রান্ত হতো কলেরা, আমাশয় প্রভৃতি পানিবাহিত রোগে। রাজশাহী এসোসিয়েশনের অনুরোধে রাজশাহী শহরবাসীর কল্যাণের কথা চিন্তা করে পুঠিয়ার মহারানী হেমন্তকুমারী রাজশাহী শহরে পানির কল স্থাপনের জন্য পঁয়ষট্টি হাজার টাকা দান করেন এবং তাঁর নামানুসারে ১৯৩৭ সালে স্থাপন হয় মহারানী হেমন্তকুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস। তখন রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন মি. ডিএন দাসগুপ্ত।
খদ্দরের প্রচারকল্পে খাদি প্রতিষ্ঠানকেও রাজশাহী এসোসিয়েশন সহায়তা প্রদান করে। ১৯৩৬ সালে বিদ্যুৎ চালু হয়ে বিজ্ঞানের কারুকার্যে চমকিত হয় রাজশাহী। এ ক্ষেত্রেও রাজশাহী এসোসিয়েশনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায়ও রাজশাহী এসোসিয়েশনের আগ্রহের কমতি ছিল না। মাঝে মধ্যেই এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত সভায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিমূলক প্রবন্ধাদি পঠিত ও আলোচিত হতো। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯২ সালে সর্ব প্রথম পদধুলা দিয়ে রাজশাহীবাসীকে ধন্য করেন এবং ১৮৯২ সালের ১২ নভেম্বর রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে রাজশাহী এসোসিয়েশনের এক সাহিত্য সভায় পাঠ করেন তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ শিক্ষার হেরফের।৯৫
রাজশাহী এসোসিয়েশনের সভ্যদের অনুপ্রেরণা, প্রচেষ্টা ও সহায়তায় ভিক্টোরিয়া ড্রামাটিক ক্লাব নির্মাণ করে টাউন হল। কিন্তু ঋণের দায়ে ভিক্টোরিয়া ড্রামাটিক ক্লাব টাউন হল নিলামে তোলে এবং রাজশাহী এসোসিয়েশন ১৯১৯ সালের ২ এপ্রিল তা ক্রয় করে নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত করে। রাজশাহী এসোসিয়েশন টাউন হল ক্রয়ের অর্থ সংগ্রহ করে দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের এগারো হাজার এবং বাবু রাখাল চরণ মণ্ডল, বাবু সুদর্শন চক্রবর্তী, বাবু মহেন্দ্র কুমার সাহা চৌধুরী, বাবু দুর্গাদাস ভট্টাচার্য প্রমুখের তিন হাজার একশ টাকার সহযোগিতায়। দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমদানাথ রায় বাহাদুরের স্মৃতিকে রক্ষার জন্য ১৯২৯ সালে রাজশাহী এসোসিয়েশনের ৫৭তম সভায় রাজশাহী টাউন হলের নাম রাজা প্রমদানাথ টাউন হল রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাজা প্রমদানাথ রাজা প্রমথনাথের পুত্র।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত বিভক্তির পর রাজশাহী এসোসিয়েশন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজা-জমিদারেরা অনেকেই ক্রমান্বয়ে দেশ ত্যাগ করে ও প্রাণ ত্যাগ করায় রাজশাহী এসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা একবারেই ভেঙ্গে পড়ে এবং এর অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্তর সম্মুখীন হয়। বর্তমান এসোসিয়েশন ভবন তৎকালীন অলকা সিনেমা হল সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে এসোসিয়েশন অগ্রণী ভূমিকা রাখে, সে এসোসিয়েশন হয়ে ওঠে শুধুমাত্র দেশী-বিদেশী চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ। অনৈতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এ জনকল্যাণমুখি প্রতিষ্ঠান পরিণত হয় যুবসমাজকে ধ্বংসের কারখানায়। এক কথায় এসোসিয়েশন মূল কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে অপকর্মের খরস্রোতে। এ দুরাবস্থা থেকে এসোসিয়েশনকে বের করে আনার জন্য যে কয়জন মানুষ প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের অন্যতম ড. তসিকুল ইসলাম রাজা, তৎকালীন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আব্দুর রশিদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. নওশের আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এস এম আব্দুল লতিফ, জেলা প্রশাসক একেএম আব্দুস সালাম প্রমুখ। তাঁরাই তৎকালীন মহানগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সুধী সমাবেশের আয়োজন করেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ভাষাসৈনিক আবুল কালাম চৌধুরী, অ্যাড. এমদাদুর রহমান, নূরুন্নবী চাঁদ প্রমুখ। এ সমাবেশে জেলা প্রশাসককে সভাপতি, রাজশাহী বিভাগের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নের উপ পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ খানকে আহবায়ক করে ৬ মাস মেয়াদী অন্তরবর্তীকালীন ২২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ১২ জানুয়ারি রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারে। এ সভায় ৬ সদস্যের গঠণতন্ত্র প্রণয়ন উপ কমিটি ও ৩ সদস্যের সম্পত্তি জরিপ উপ কমিটি গঠিত হয়। গঠণতন্ত্র প্রণয়ন উপ কমিটি প্রণীত খসড়া গঠণতন্ত্র ১৯৮৫ সালের ১৯ মে এসোসিয়েশনের সভায় কিছু সংযোজন বিয়োজনের পর চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। সম্পত্তি জরিপ উপ কমিটি কর্তৃক তালিকাভুক্ত সম্পত্তি এমালগেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের নিকট থেকে এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাধীনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় একই সভায়। এ সভাতেই রাজা প্রমদানাথ টাউন হলের অলকা মিনেমা এর নাম পরিবর্তন করে স্মৃতি সিনেমা রাখা হয়েছিল। প্রণীত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৯৮৫ সালের ২৯ জুন এসোসিয়েশনের সভায় ২১ সদস্যের কার্য নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। পদাধিকারবলে এর সভাপতি হয়েছিলেন জেলা প্রশাসক ও সহ-সভাপতি হয়েছিলেন অ্যাড. মো. আব্দুল হাদী, সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন অধ্যাপক এসএম আবদুল লতিফ। তসিকুল ইসলাম রাজা হয়েছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক। এক সময়ের রাজশাহীর সর্বাধিক জনকল্যাণধর্মী এ এসোসিয়েশন স্থানীয় সাহিত্য,সংস্কৃতি, ইতিহাস বিকশিতকরণের উদ্দেশ্যে তৎপর হয়ে ওঠে। এসোসিয়েশনের প্রবীণ বুদ্ধিজীবীরা সাহিত্য সংগ্রামী ড. রাজাকে রাজশাহী এসোসিয়েশন সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনের দায়িত্ব অর্পণ করে। তাঁর সম্পাদনায় ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসে রাজশাহী এসোসিয়েশন সাহিত্য পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এরপর আর থেমে থাকেনি এসোসিয়েশনের মাধ্যমে সাহিত্য চর্চার অনুশীলন। ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে ২য়, ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে ৩য় সংখ্যা প্রকাশ পায়। ২০০০ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশ হয় স্মরণিকা ২০০০। এছাড়াও উপরে উল্লিখিত কয়েকটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করে রাজশাহী এসোসিয়েশন। 
ইতোমধ্যে প্রাচীন ভবন ভেঙ্গে ফেলে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। নব নির্মিত ভবনে আছে বেইজমেন্টে গাড়ি পার্কিং। প্ল্যান অনুযায়ী ১ম তলায় শপিং কমপ্লেক্স, বাণিজ্যিক অফিস, ৩য তলা রাজা প্রমদানাথ হল, সভাকক্ষ, সেমিনার হল, এসোসিয়েশন অফিস এবং ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় থাকবে বাণিজ্যিক অফিস।৫৩৬ ২৯ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণের পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ২৯ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে এর উদ্বোধন করেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে শপিং কমপ্লেক্স, দ্বিতীয় তলার মাস্টার সেফ নামের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের শাখা অফিস চালু করা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে দেখা যায়, তৃতীয় তলায় মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের শাখা অফিস। এ ব্যাংকটি পূর্বে চেম্বার ভবনে ছিল।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd