অধ্যায় ১১ : গণমাধ্যম

বিলুপ্ত সংবাদপত্র ও সাময়িকী


১.    হিন্দু রঞ্জিকা: রাজশাহী জেলা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। রাজশাহী ধর্ম সভা থেকে ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বা ১২৭২ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।২ প্রথম সম্পাদক ছিলেন শ্রীনাথ সিংহ। ৮২ বর্ষ, নভেম্বর ১৯৪৬, ২৬ সংখ্যায় দেখা যায় এর সম্পাদকের নাম ডাঃ দ্বিজেশগোবিন্দ সেন। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশ হতে থাকে।২২৪ পত্রিকাটি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে বন্ধ হয়ে যায়।৩ 
২.    রাজশাহী সংবাদ: রাজশাহী সংবাদ ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে বা ১২৭৭ বঙ্গাব্দে রাজশাহীর ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। জগৎচন্দ্র সরকার এর সম্পাদক ছিলেন।২ ১২৮২ বঙ্গাব্দে বন্ধ হয়ে যায়।৩ এটা ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
৩.    জ্ঞানাংকুর এবং প্রতিবিম্ব: জ্ঞানাংকুর এবং প্রতিবিম্ব পত্রিকা দুটি মাসিক হিসেবে ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে বা ১২৭৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। জ্ঞানাংকুরের সম্পাদক ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ দাস ও প্রতিবিম্বর সম্পাদক ছিলেন রামসর্বস্ব বিদ্যাভূষণ।২ ১২৮২ বঙ্গাব্দে পত্রিকা দুটি যুক্ত হয়ে জ্ঞানাংকুর প্রতিবিম্ব নামে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হতে থাকে।৩ ১৬/১৭ বছর চালু ছিল।
৪.    রাজশাহী সমাচার: ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে বা ১২৮২ বঙ্গাব্দের বৈশাখে রাণী মাধব নন্দীর সম্পাদনায় রাজশাহী সমাচার প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি এক বছর চালু ছিল।২
৫.    রাজশাহীবাসী: রাজশাহীবাসী মাসিক পত্রিকা হিসেবে রাজকুমার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় করচমারিয়া থেকে কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিল।২
৬.    উদ্বোধন: উদ্বোধন সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে বা ১২৮৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।২
৭.    চিকিৎসা: চিকিৎসা ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বা ১২৯৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন বিনোদ বিহারী।২
৮.    উৎসাহ: উৎসাহ ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বা ১৩০৪ বঙ্গাব্দে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন সুরেশচন্দ্র সাহা। ৫/৬ বছর চালু ছিল।২
৯.    ঐতিহাসিক চিত্র: ঐতিহাসিক  চিত্র সম্পূর্ণ ইতিহাস ভিত্তিক প্রথম বাংলা সাময়িক পত্রিকা। স্থানীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস নির্মাণের জাতীয় চেতনাবোধ থেকেই এর উদ্ভাবন করেছিলেন ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০)। অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এর সম্পাদনায় ১৮৯৯ সালের ১ জানুয়ারি পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশ হয়। এর ভূমিকা লিখেছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) এর প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন। অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এর সম্পাদনায় ত্রৈমাসিক হিসেবে এর ৪টি সংখ্যা প্রকাশের পর তিনি আর চালিয়ে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে ইতিহাসবিদ নিখিলনাথ রায় (১৮৬৫-১৯৩২) সম্পাদনার ভার গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ১৩১১ সনের ভাদ্র মাস হতে ১৩১২ সনের শ্রাবণ মাস পর্যন্ত মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ করেন। এ পর্যায়ে কলকাতার মেটক্যাফ প্রেস সহযোগিতা প্রদান করে ও প্রকাশনা অব্যাহত থাকে। এরপর নিখিলনাথ রায় বাংলা ১৩১৪ সনের বৈশাখ মাসে (১৯০৭ ইং) এর তৃতীয় পর্যায়ের প্রকাশনা শুরু করেন এবং বাংলা ১৩১৮ সনের চৈত্র মাস (১৯১২ ইং) পর্যন্ত প্রকাশনা অব্যাহত থাকে। এরপর প্রকাশনাটি বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ ও ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে এর সবকটি কপি সংরক্ষিত আছে।৬৯০
১০.    নূর-উল-ঈমান: নূর-উল-ঈমান ছিল মাসিক পত্রিকা। ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন মির্জা ইউসুফ আলী। এর মাত্র ৪টি সংখ্যা ছাপা হয়েছিল। পত্রিকাটি ছিল নূরুল ঈমান ও আঞ্জুমানে হেমায়েত ইসলাম নামক সংগঠনের মুখপত্র।২ রাজশাহীর মুসলমানদের এটি ছিল প্রথম পত্রিকা।২২৪ রাজশাহী জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর রাহশাহী-১৯৯১ এর ৩৫০ পৃষ্ঠায় পত্রিকা ও সম্পাদকের নাম উল্লেখ আছে নূর-আল-ঈমান ও মির্জা ইউসুফ আলী । মির্জা ইউসুফ আলী’র নাম কোথাও মির্জা ইউসফ আলী, কোথাও মির্জা মোহাম্মদ ইউসফ আলী, কোথাও মির্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী দেখা যায়। তবে ১৯৪২ সালের ৯ মার্চ প্রকাশিত পল্লী বান্ধব পত্রিকায় লিখা আছে মরহুম মির্জা ইউসুফ আলী।
১১.    সাপ্তাহিক সোলতান: পত্রিকাটি ১৯০৪ সালে মির্জা ইউসুফ আলী প্রকাশ করেন। ৭ বছর চালু থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়। (রাজশাহী জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর রাহশাহী-১৯৯১, পৃষ্ঠা ৩৫০)।
১২.    বেঙ্গল প্রেসিডেন্সী গেজেট: রাধাচরণ চক্রবর্তী এবং শচীন্দ্র পালের যুক্ত সম্পাদনায় বেঙ্গল প্রেসিডেন্সী গেজেট নাটোর থেকে প্রকাশ হতো। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।২ 
১৩.    বঙ্গ মহিলা: বঙ্গ মহিলা ছিল মাসিক পত্রিকা। ১৯১৫ সালে ঘোড়ামারা থেকে অভিলাষ চন্দ্র সার্বভৌমের সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো।২
১৪.    মুষ্ঠি: এ পত্রিকাটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন বয়েন উদ্দিন আহমদ।২২৪
১৫.    পল্লী বান্ধব : বাংলাদেশ জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর রাহশাহী-১৯৯১ এর ৩৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ইংরেজি ১৯২৫ ও বাংলা ১৩৩৩ সালে সাপ্তাহিক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় এবং ১৯৫১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন আইনজীবী আলী আযম এবং পরে মির্জা ইয়াকুব আলি।২ ১৯৪২ সালের ৯ মার্চ প্রকাশিত পল্লী বান্ধব পত্রিকার নাম শিরোনামের নিচে লেখা আছে, ‘সৌভাগ্য-স্পর্শমণির গ্রন্থকার, সমাজ-প্রাণ মরহুম মির্জা ইউসুফ আলী সাহেবের পুণ্য স্মৃতি’। তার নিচে সম্পাদকের নাম এম্ , এম্ ইয়াকুব ও সহঃ সম্পাদক- এম, ইউসুফ। ১৯৪২ সালের ৯ মার্চ প্রকাশিত সংখ্যায় লিখা আছে ১৩শ বর্ষ ৪৩শ সংখ্যা। ১৯৪২ সালের ৯ মার্চ পত্রিকাটির চলতি বয়স ১৩ বছর হলে পত্রিকাটির প্রকাশ সাল ১৯২৯। পরবর্তী সম্পাদক মির্জা ইয়াকুব আলি। তবে সাইদ উদ্দিন আহমেদ তথ্য প্রদান করেছেন, এর সম্পাদক ছিলেন মির্জা মহাম্মদ ইয়াকুব আলি। ইয়াকুব আলি শুধু পত্রিকা প্রকাশনায় আমূল পরিবর্তন ঘটাননি, পত্রিকা ছাপার ক্ষেত্রকেও আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। রাজশাহীতে দ্বিতীয় ছাপাখানাটি তিনিই স্থাপন করেন। এর নাম ছিল হেমা ক্লিয়ারিং প্রিন্টিং প্রেস। যা পরে হেমায়েত ইসলাম মেসিন প্রেস নাম ধারণ করে।২২৪
১৬.    সমাজ শক্তি: সমাজ শক্তি মাসিক পত্রিকা হিসেবে শচীনন্দন পালের সম্পাদনায় নাটোর থেকে প্রকাশ হতো।২
১৭.    মারকাব-আল-ইসলাম: মারকাব-আল-ইসলাম মোহাম্মদ মোবারক হোসেনের সম্পাদনায় ১৯৩৩ সালের সেপ্টেম্বরে তাহেরপুর থেকে প্রকাশ হয়।২
১৮.    পল্লী শক্তি: পল্লী শক্তি মাসিক পত্রিকা হিসেবে ১৯৩৪ সালে প্রকাশ হয়ে কয়েক বছর চালু ছিল। এর সম্পাদক ছিলেন মৃণালচন্দ্র সেন এমএবিটি।২
১৯.    সম্মিলন: সম্মিলন মাসিক পত্রিকা হিসেবে ১৯৩৪ সালে প্রকাশ হয়। পত্রিকাটি ছিল রাজশাহী ডাক ইউনিয়নের মুখপত্র। সম্পাদক ছিলেন শরৎকুমার ঘোষ।২
২০.    একতারা: একতারা মাসিক পত্রিকা হিসেবে ১৯৪৩ সালে প্রকাশ হয়। এর সম্পাদক ছিলেন অজিতচন্দ্র চাকী।২
২১.    পল্লব: পল্লব মাসিক পত্রিকা হিসেবে কয়েকটি সংখ্যা নাটোর থেকে প্রকাশ হয়। সম্পাদক ছিলেন গজেন্দ্রনাথ কর্মকার।২
২২.    নয়া জামানা: নয়া জামানা সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ১৯৪৬ প্রকাশ হয়ে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। সম্পাদক ছিলেন মুসাদ্দারুল।২ প্রকৃতপক্ষে পত্রিকাটি ছিল মুসলিম লীগের মুখপত্র।২২৪ 
২৩.    অভিধারা: অভিধারা ছিল মাসিক পত্রিকা। ঋতিক ঘটকের সম্পানায় রাজশাহী থেকে প্রকাশ হয়েছিল।২ ঋতিক ঘটক ছিলেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।২২৪ 
২৪.    অভিযান: অভিযান বার্ষিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ হয়। পত্রিকাটি ছিল গুরুদাসপুর শিক্ষা সংঘের মুখপত্র। সম্পাদক ছিলেন আকবর হোসেন।২
২৫.    হেদায়েত, জাগরণ, সেবক, অরবিন্দ, হাসি, অশ্রু, বর্তিকা প্রভৃতি: এ পত্রিকাগুলো বিভিন্ন সময়ে নাটোর থেকে প্রকাশ হয়েছিল। কোনোটিই দু/তিন সংখ্যার বেশি প্রকাশ হয়নি।২
২৬.    আলোর পথে: আলোর পথে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ হয়। সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন মুহম্মদ মজিবর রহমান।২
২৭.     দেশের বাণী: দেশের বাণী সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে নওগাঁ থেকে প্রকাশ হয়। সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ মোবারক আলি। পরে পুত্র ডা. মনজুর ।২
২৮.    ছাত্রলীগ: ছাত্রলীগ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ১৯৪৭ সালে ৩/৪ সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিল। যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন কাজী আব্দুল মান্নান ও একরামুল হক।২
২৯.    দীপালি: দীপালি সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ১৯৪৯ সালে ২ সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিল। সম্পাদক ছিলেন ঋতিক ঘটক।২
৩০.    দিশারী: মাসিক পত্রিকা হিসেবে দিশারী ১৯৫০ সালে প্রকাশ হয়। অনিয়মিতভাবে ৬টি সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যায়। যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন হাবিবুর রহমান ও একরামুল হক।২ পত্রিকাটি দিশারী সাহিত্য মজলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ হতো।২২৪
৩১.    প্রবাহ: মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রবাহ ১৯৫৪ সালে প্রকাশ হয়। ৬/৭টি সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যায়। সম্পাদক ছিলেন মৌলভী আব্দুস সামাদ ও পরে মুহম্মদ কামারুজ্জামান।২
৩২.    যাত্রী: যাত্রী ছিল ত্রৈমাসিক পত্রিকা। ১৯৬০ সালে প্রকাশ হয়ে কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যায়। সম্পাদক ছিলেন খোন্দকার সিরাজুল হক।২
৩৩.    পূর্বমেঘ: ১৯৬২-১৯৬৩ সালে পূর্বমেঘ ছিল প্রথম শ্রেণির সাহিত্য ও ত্রৈমাসিক পত্রিকা। মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশ হতো।২২৪
৩৪.    পাপড়ি: ১৯৬২ সালে মাসিক পত্রিকা হিসেবে পাপড়ি প্রকাশ হয়। ২ বছর চালু ছিল। সম্পাদনা করতেন হাবিবুর রহমান।২
৩৫.    পরিচয়: হাতে লিখিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা হিসেবে পরিচয় ১৯৪৩ সালে প্রকাশ হয় ও ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। সম্পাদক ছিলেন আব্দুল মজিদ খান।৩
৩৬.    এন্টিক রিভিউ: এন্টিক রিভিউ ছিল ইংরেজি পত্রিকা। ১৯৩৩ সালে প্রকাশ হয়। বিনোদভূষণ ও বসন্তকুমার দত্ত যুগ্মভাবে সম্পাদনা করতেন।২
৩৭.    বাংলার কথা: মুক্তযুদ্ধকালীন পশ্চিম বাংলার বহরমপুর থেকে সাপ্তাহিক ‘বাংলার কথা’ উদ্বোধনী সংখ্যা ১৪ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে সোনার বাংলা নামে প্রকাশ হয়েছিল। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখে দ্বিতীয় সংখ্যা  প্রকাশ হয় ‘বাংলার কথা’ নামে এবং পরবর্তীতে এ নামেই চালু ছিল। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন নিয়ে সোনার বাংলা নামে রংপুর থেকে একটি পত্রিকা প্রকাশ হবার কারণে নামের পরিবর্তন হয়।৭৫০ এর ৫ম সংখ্যা প্রকাশ হয় ১৫ নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে। মুক্তযুদ্ধকালীন শেষ সংখ্যা প্রকাশ হয় ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘অবকাশ’ লক্ষ্মীপুর রাজশাহী থেকে প্রকাশ হয় এবং ঐ বছরের শেষের দিকে এসে আর্থিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়।৭৫১
পত্রিকাটি প্রকাশের উদ্যোক্তা, সম্পাদক ও প্রাণ ছিলেন ওবায়দুর রাহমান। মুক্তিযুদ্ধকালে পত্রিকাটি ছাপাতে তাঁকে স্ত্রীর গয়না ও বাড়িও বিক্রি করতে হয়েছিল। পত্রিকাটি তৎকালীন প্রবাসী সরকারের রেজিস্ট্রিকৃত ছিল। যার নম্বর গপ্রবাস-১১।৭৫২ পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এ রকম কয়েক জনের নাম পাওয়া যায়। যেমন- সহযোগী সম্পাদক ছিলেন মুজিবুর রহমান। উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন ডা. আলাউদ্দিন, মুহ. আব্দুল হাদী এমপি, আবদুল্লাহিল বাকী, আব্দুস সামাদ, মুহ. মহসিন।৭৫০  প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান। এছাড়া পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ভূমিকায় যাঁদের নাম পাওয়া যায় তাঁরা হলেন ইস্পিতা দেবী, প্রফেসর কাজী আবদুল মান্নান, শহিদুল হক, প্রশান্ত সাহা প্রমুখ।৭৫১
৩৮.    সাপ্তাহিক সোনারদেশ: ১৯৭০ সালে প্রবল গণ আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচনের পূর্বে কুইক প্রিন্টার্স থেকে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সোনারদেশ। পরে নিজস্ব ছাপাখানায় ছাপা হতো। প্রকাশক ছিলেন জাহানারা জামান। প্রথম সম্পাদক আমজাদ হোসেন। পরে সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাইদ উদ্দিন আহমদ। ‘‘গণতান্ত্রিক জীবনবোধের মূল্যায়ন সাধনায় নিয়োজিত প্রগতিশীল সাপ্তাহিক মুখপত্র’’ কথাগুলো পত্রিকাটির শিরোনামে লিখা থাকত। মুক্তযুদ্ধ শুরু হলে এর অফিস তছনছ করে স্থাপন করা হয় রাজাকার ক্যাম্প।  স্বাধীনতার পর পত্রিকাটি আর প্রকাশ করা হয়নি। এ পত্রিকায় ছোটদের পাতা ‘সোনামণির আসর’ কে কেন্দ্র করে একটি শিশু সংগঠন গড়ে উঠেছিল। এ সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে ২১ জানুয়ারি ১৯৭১ তারিখে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উপস্থিত ছিলেন।২২৪ ১৯৭১ সালে সরকার রাজনৈতিক কারণে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয় ও পত্রিকা অফিস আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়।৭৪২
৩৯.    সাপ্তাহিক নতুন বাংলা: সাপ্তাহিক নতুন বাংলা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর সত্তর দশকের প্রথম দিকেই প্রকাশ হয়েছিল। সম্পাদক ছিলেন ওবায়দুর রহমান ও প্রকাশক ছিলেন আতাউর রহমান। (তথ্য: আব্দুল মালেক, সাবেক সম্পাদক, দৈনিক সোনার দেশ)
৪০.    সাহিত্যিকী: ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।২২৪
৪১.    আন্তরিক: ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।২২৪
৪২.    সাপ্তাহিক বাতায়ন: এ পত্রিকাটি ১৯৮৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন সাইদ উদ্দিন আহমদ ও সহযোগী সম্পাদক ছিলেন মিজানুর রহমান। তিন বছর চালু থাকার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।২২৪
৪৩.    দৈনিক নতুন প্রভাত: দৈনিক নতুন প্রভাত ২ মার্চ ২০০০ হতে রাজশাহী মহানগরী থেকে প্রকাশ হয় ও অক্টোবর ২০০২ থেকে রাজশাহী মহানগরী থেকে প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন শওকত রেজা।
৪৪.    দৈনিক চেনা জগত: দৈনিক চেনা জগত ২ মে ২০০১ হতে রাজশাহী মহানগরী থেকে রেজাউল হাসান রানার সম্পাদনায় প্রকাশ হতো। 
৪৫.    সাপ্তাহিক গণখবর: সাপ্তাহিক গণখবর ২৮ নভেম্বর ১৯৯৩ হতে রাজশাহী মহানগরী থেকে প্রকাশ হতো। সম্পাদক ছিলেন মো. মাহাতাব উদ্দিন।
৪৬.    সাপ্তাহিক রাজশাহীর খবর: সাপ্তাহিক রাজশাহীর খবর ২৫ মে ২০০১ হতে রাজশাহী মহানগরী থেকে প্রকাশ হতো। সম্পাদক ছিলেন নুরুজ্জামান খান চৌধুরী এবং প্রকাশক ছিলেন মো. একরামুল হক।
৪৭.    সাপ্তাহিক ধরণী: সাপ্তাহিক ধরণী ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী মহানগরী থেকে প্রকাশ হয়। শুরুতে প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন অ্যাডভোকেট এবিএম শফিউল ইসলাম। ১৯৯৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মো. রফিকুল আলম এবং এরপর আব্বাস উদ্দিন সরকার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে প্রকাশক ছিলেন এবিএম শফিউল ইসলামের স্ত্রী মোছা. সাজেদা বেগম। (তথ্য: রফিক আলম, ১৮ মার্চ ২০০৪)
৪৮.    সাপ্তাহিক ছাড়পত্র: ১৯৭০ সালে প্রগতিশীল চিন্তাধারা নিয়ে এ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত পত্রিকাটি ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত টিকে  ছিল।২২৪ ১৯৯১ সালে পুনরায় প্রকাশ হয়ে বেশ কয়েক বছর চালু ছিল। এর সম্পাদক ছিলেন আসলাম আহমেদ। (তথ্য: এ পত্রিকার প্রাক্তন সাংবাদিক সামিউল হাসান সুমন)
৪৯.    সাপ্তাহিক উত্তর বাংলা: ১৯৭০ সালে শাহ্ নজমুল হক চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত  হতো।২২৪
৫০.    সাপ্তাহিক নতুন কাল: ১০/০৯/১৯৭২ তারিখে এ পত্রিকাটি প্রকাশ পায়। এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন এম. আতাউর রহমান এবং সম্পাদক ছিলেন সাইদ উদ্দিন আহমদ। পত্রিকাটি ছিল হাফ ডিমাই সাইজের। রাজশাহীর ইউনিক প্রেস থেকে মুদ্রিত হতো। এর প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠার হেডিং ও মেকআপে লাল রং ব্যবহার হতো। প্রচার সংখ্যা সোনার দেশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।২২৪
৫১.    সাপ্তাহিক মহানগর বার্তা: ১২/০৩/২০০৫ তারিখ হতে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হয়। এর নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন মো. আসাদুজ্জামান (রোজ)।
৫২.    মাসিক নব প্রবাহ: মাসিক নব প্রবাহ ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ হতে প্রকাশ হতো। সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন আমিনুল ইসলাম।
৫৩.    মাসিক প্রযুক্তি প্রবাহ: মাসিক প্রযুক্তি প্রবাহ ১২ আগস্ট ২০০৩ হতে প্রকাশ হতো। প্রকাশক ছিলেন সুলতান মাহমুদ।
৫৪.    মাসিক আল-মাযহাব: মাসিক আল-মাযহাব ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৩ হতে প্রকাশ হতো। প্রকাশক ছিলেন আলহাজ আকবর আলী।

কয়েকটি বিলুপ্ত পত্রিকার ছবি

হিন্দু রঞ্জিকার ৮২ বর্ষ, নভেম্বর ১৯৪৬, ২৬ সংখ্যা

জ্ঞানাঙ্কুর, দ্বিতীয়খণ্ড, অগ্রহায়ণ ১২৮০ বঙ্গাব্দ হতে কার্তিক ১২৮১ বঙ্গাব্দ সংখ্যা

ঐতিহাসিক চিত্র ১ম সংখ্যার সূচিপত্র

ঐতিহাসিক চিত্র ১ম সংখ্যার ভূমিকার অংশ

পল্লী বান্ধবের ত্রয়োদশ বর্ষ, ৪৩ শ সংখ্যা ৯ মার্চ ১৯৪২


 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd