অধ্যায় ১০ : রাজশাহীর সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা

রামপুর বোয়ালিয়ায় রবীন্দ্রনাথ


রবীন্দ্রনাথ যখন স্বশরীরে এসেছিলেন রাজশাহী মহানগরীতে, তখন এ মহানগরীর ভৌগোলিক পরিচয় রাজশাহী ছিল না, ছিল রামপুর বোয়ালিয়া। প্রফেসর ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী তাঁর রবীন্দ্রনাথ ও পূর্ববঙ্গের কিছু কথা (প্রকাশ বাংলা একাডেমী, ফাল্গুন ১৪০৭/ ফেব্রুয়ারি ২০০১) গ্রন্থের কথামুখে রবীন্দ্রনাথের পূর্ববঙ্গে অবস্থানের কথা ইংরেজি ১৮৯০ থেকে ১৯৩৭ সালের কথা উল্লেখ করেন। মোট এ ৪৭ বছর তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি; প্রধানত শিলাইদহ, সাজাদপুর ও পতিসর জমিদারি দেখার জন্য কলকাতা থেকে আসা-যাওয়া করেছেন। পতিসরের পরগণার নাম কালিগঞ্জ। এ সব জমিদারি দেখাকালীন তাঁর রামপুর বোয়ালিয়া আগমন। তবে কত বার- এ নিয়ে মতভেদ আছে।  
অধ্যাপক ফজলুল হক রাজশাহী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (১৮২৫-১৯০২) প্রবন্ধে চার বার আসার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রথম বার ২৯ কার্তিক থেকে ১৬ অগ্রহায়ণ (১৩ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ১৮৯২), এর মাস চারেক পর চৈত্রের ১০-১২ তারিখের দিকে, তৃতীয় বার ১৮৯৪ সালের মার্চে ও ৪র্থ বার ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে।৬৩৮ 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী তাঁর গ্রন্থের ৩৭ পৃষ্ঠায় রামপুর বোয়ালিয়া ও লোকেন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথের রামপুর বোয়ালিয়ায় আগমনকে বার চারেক বা বার পাঁচেক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর তথ্য মোতাবেক রবীন্দ্রনাথ লোকেন্দ্র পালিতের আহবানে ৪ অগ্রহায়ণ ১২৯৯ বঙ্গাব্দে, ১৮ নভেম্বর ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে শিলাইদহ থেকে রামপুর বোয়ালিয়া আসেন এবং তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন প্রমথ চৌধুরী (এক সময়ে ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার)। ড.সাইফুদ্দীন চৌধুরী তাঁর গ্রন্থের ৪০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, রামপুর বোয়ালিয়ায়  লোকেন পালিতের অতিথি হয়ে ২ অগ্রহায়ণ থেকে ১৬ অগ্রহায়ণ পর্যন্ত (১৬ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর) ১৫ দিন ছিলেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, কবির এ রামপুর-বোয়ালিয়ায় বসবাসের সময়কে প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্র জীবনীতে লিখেছেন ১৫ দিন। যদিও রবীন্দ্র বিশ্বে পূর্ববঙ্গ; পূর্ববঙ্গে বরীন্দ্রনাথ শীর্ষক গ্রন্থে গোলাম মুরশিদ লিখেছেন, কবির রামপুর বোয়ালিয়ার অবস্থানের সময়কাল ছিল ১৮ দিন। রবীন্দ্রনাথের রামপুর বোয়লিয়ায় প্রথম আগমন সম্পর্কে অধ্যাপক ফজলুল হক ও অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরীর প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে অমিল স্পষ্ট। 
ড.সাইফুদ্দীন চৌধুরী রামপুর বোয়ালিয়ার কবির দ্বিতীয় আগমনকে ঐ বছরের ১১ চৈত্র বৃহস্পতিবার উল্লেখ করেন। আসার মাধ্যম ছিল জলপথের মিনো জাহাজ। ২৫ চৈত্রের পূর্বেই তিনি কলকাতা ফিরে যান। 
১৩০০ বঙ্গাব্দের ২৩ ফাল্গুন মঙ্গলবার রামপুর বোয়ালিয়া আসেন পতিসর থেকে এবং চৈত্রের শুরুতেই পতিসর ফিরে যান। রামপুর বোয়ালিয়ায় সর্বশেষ আসেন ১৩০১ সনের ৫ আশ্বিন জলপথে। এবারেও আসেন পতিসর থেকে। এ যাত্রাপথ সম্পর্কে শরৎকুমার লিখেছেন,‘ এই সময় রবিবাবু আমাদের দিঘাপতিয়ার বাটিতেও পদার্পণ করিয়াছিলেন, তাঁহার নৌভ্রমণের পথে দিঘাপতিয়া পড়িয়াছিল।’
ড.সাইফুদ্দীন তাঁর গ্রন্থের ৪২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, প্রশান্ত পালের ধারণা, রবীন্দ্রনাথ আরেক বার রামপুর বোয়লিয়া এসেছিলেন। তিনি লিখেছেন, ভাদ্রের শেষে রবীন্দ্রনাথ আবার উত্তরবঙ্গে যান। তাঁর ২০ সেপ্টেম্বর (শুক্র, ৪ আশ্বিন) এর চিঠিতে লিখেছেন এই হতভাগ্য ব্যক্তিটি স্টিমারে ছাদের ওপর আপাদমস্তক ভিজে একেবারে কাদা হয়ে গিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ রামপুর বোয়ালিয়ায় এসেছিলেন জলপথে। প্রথমবার লোকেন্দ্রনাথ পালিতের সঙ্গে নাটোরে গেছেন ঘোড়ার গাড়িতে। লোকেন্দ্রনাথ পালিত যে সময় রাজশাহীর জেলা জজ ছিলেন, সে সময়ে লেখক দীনেন্দ্রকুমার রায় জেলা জজ অফিসে ট্রান্সলেটর/কেরানির চাকরি করতেন। রাজশাহীতে চাকরিকালীন বঙ্গাব্দ ১৩০৪-এ ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্প, রাজশাহীর অবস্থা, লোকেন্দ্রনাথ পালিতের সঙ্গে কবির বন্ধুত্ব, কবির আগমন, বিশিষ্ট চরিত্রগুলো তাঁর ‘সেকালের স্মৃতি’ গ্রন্থে লিপি হয়েছে। লোকেন্দ্রনাথ পালিত জেলা জজের পূর্বে রাজশাহীর জয়েন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তখনই লোকেন্দ্রনাথ পালিত জেলা জজ বজেন্দ্রকুমার শীলের নিকট দীনেন্দ্রকুমার রায়ের চাকরির জন্য সুপারিশ করেন এবং দীনেন্দ্রকুমার প্রথমে শিক্ষানবিশ হিসেবে জজ কোর্টে যোগদান করেন। ব্রজেন্দ্রকুমার শীলের পর স্টীনবার্গ, তারপর লোকেন্দ্রনাথ পালিত জজের দায়িত্বে আসেন। লোকেন্দ্রনাথ পালিতের পর ছিলেন সম্ভবত স্টেলি। দীনেন্দ্রকুমার রায় তাঁর সেকালের স্মৃতি গ্রন্থের ১২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, ‘তিন বৎসর রাজশাহীতে ছিলাম; শীল সাহেবের পথ (পর) স্টীনবার্গ, পালিত, স্টেলি প্রভৃতি কয়েক জন জজের আমলে চাকরী করিলাম;..’।৬৯৯  
লোকেন্দ্রনাথ পালিত রাজশাহী জেলা প্রশাসনে জয়েন ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করার পর থেকে রবীন্দ্রনাথ রামপুর বোয়ালিয়া আসা শুরু করেন। পরবর্তীতে জজের দায়িত্বে থাকাকালীন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ রামপুর বোয়ালিয়ায় এসেছেন। এজন্য রবীন্দ্র জীবনীকারদের কেউ কেউ লোকেন্দ্রনাথ পালিতকে জয়েন ম্যাজিস্ট্রেট, কেউ কেউ জজ উল্লেখ করেছেন। দীনেন্দ্রকুমার রায় সেকালের স্মৃতির ১১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, ‘স্বর্গীয় লোকেন্দ্রনাথ পালিত সে সময় রাজসাহীর জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট। কবিবর শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ মধ্যে মধ্যে রাজশাহীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার আতিথ্য গ্রহণে পরিতৃপ্ত হইতেন।’ ১৩৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘মিঃ লোন্দ্রেনাথ পালিতও ভাল জজ ছিলেন। বাঙ্গালী হইলেও তিনি স্থানীয় উকীলদের সহিত ঘনিষ্ঠভাবে মিশতেন না। উকীলদের মধ্যে স্বর্গীয় অক্ষয়কুমার মৈত্রের সহিত তিনি মিলামিশি করিতেন; কিন্তু উকীলের হিসাবে নহে, সাহিত্যিক হিসাবে। কবিবর রবীন্দ্রনাথের সহিত অক্ষয় বাবুর ঘনিষ্ঠতা ছিল।...... মিঃ পালিত যখন রাজসাহীর জজ, তখন রবীন্দ্রনাথ মধ্যে মধ্যে রাজশাহী গমন করিয়া তাঁহার আতিথ্য গ্রহণ করিতেন। অক্ষয় বাবুও সে সময় তাঁহাদের সঙ্গে মিলিতেন।’
দীনেন্দ্রকুমারের বিভিন্ন যানবাহনের বর্ণনা ও রবীন্দ্রনাথের গমনাগমনে স্টিমার লঞ্চ ও ঘোড়ারগাড়ির ব্যবহার আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় রেলগাড়িতো নয়ই; সে সময় রামপুর বোয়ালিয়ার মোটরযানের প্রচলন হয়নি। তবে রামপুর বোয়ালিয়া-নাটোর রাজপথ পাকা হয়েছিল। রাজশাহী কলেজ ছিল সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 
রাজশাহী তখন বাংলার শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার উল্লেখযোগ্য জনপদ। নবাব সিরাজুদ্দৌলার সত্য ইতিহাস উন্মোচিত করে উকিল অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় তখন উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্যক্তিত্বের স্তরে ভাগ করে আলোচনা করতে গেলে রাজশাহী শহরকে তখন অক্ষয়কুমারের যুগ বলা চলে। সে সময় রজনীকান্ত সেনও প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ শিক্ষা, সাহিত্যের উদ্দেশ্যে রামপুর বোয়ালিয়া আসেননি। রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারেও তিনি পদার্পণ করেননি। ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী তাঁর গ্রন্থে বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে আসেননি; তবে তিনি তাঁর স্বাক্ষরিত ৩৫ খানি গ্রন্থ এই গণ-গ্রন্থাগারে দান করেছিলেন।’ ২৭ এপ্রিল ২০১১ তারিখে ড. তসিকুল ইসলাম রাজা বলেন, রবীন্দ্রনাথ সাধারণ গ্রন্থাগারে যাননি, কিছু বই স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের রামপুর বোয়ালিয়ায় আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখেছেন, ‘ ... উদ্দেশ্য সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়া নয়, বন্ধু সন্দর্শন করা।’ বন্ধু বলতে তিনি লোকেন্দ্রনাথ পালিতকে বুঝিয়েছেন। প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের রবীন্দ্র জীবনী ও রবীন্দ্র সাহিত্য প্রবেশক (ভলিউম-১) এর ৩২৪ পৃষ্ঠায় সে কথারই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ আছে, “১৮৯২ সালের নভেম্বর মাসের শেষার্ধ রবীন্দ্রনাথ রাজশাহীতে লোকেন পালিতের অতিথি হয়ে আসেন।’ শিক্ষা সাহিত্যের বিষয়ে শিক্ষানগরীতে না আসলেও ‘শিক্ষার হেরফের’ শিরোনামের প্রবন্ধটি লিখন ও পঠন ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্ম। রাজশাহী এসোসিয়েশনের সভাপতি মহারাজা জগদিন্দ্রনাথের (নাটোরের বড় তরফের জমিদার) অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ১২ অগ্রহায়ণ (২৬ নভেম্বর ১৮৯২) শনিবার রাজশাহী কলেজে ‘শিক্ষার হেরফের’ পাঠ করেন। অনেকে ধারণা করেন, তিনি এখানেই শিক্ষার হেরফের রচনা ও পাঠ করেন।৬৪০ প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ‘রাজশাহীতে বসবাসকালে তথাকার এসোসিয়েশন হইতে শিক্ষা সম্বন্ধে কোন প্রবন্ধ পাঠ করিবার জন্য তাঁহার আহবান আসিল এবং তদনুসারে কবি ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধ লিখিয়া পাঠ করিলেন।’
এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ তৎকালীন বৃটিশ বাংলার একাডেমিক শিক্ষা প্রদ্ধতির দিক নির্দেশনা ও বাংলা ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার শক্ত যুক্তি খাড়া করেন। তাঁর প্রবন্ধটি সুধী মহলে প্রশংসিত হয়। প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গ্রন্থে উল্লেখ আছে, বঙ্কিম চন্দ্র তাঁহাকে লিখিলেন যে, তিনি প্রবন্ধটি দুইবার পাঠ করিয়াছেন, প্রতি ছত্রে আপনার সঙ্গে আমার মতের ঐক্য আছে। জাস্টিস গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যয় তখন লেখকের মতামত অনুমোদন করিয়া পত্র দেন। ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম র‌্যাংলার আনন্দ মোহন বসুও কবির মত সমর্থন করিলেন।
শিক্ষার হেরফের সাধানায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশিত হয় ঞযব ওহফরধহ উধরষু ঘবংি পত্রিকার ১৮৯২ সালের ২ ডিসেম্বর সংখ্যায়। এ পত্রিকাই প্রবন্ধটি সম্পর্কে  A LECTURE EDUCATION  শিরোনামে লম্বা প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। 
শিক্ষার হেরফের ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ পঞ্চভূতের ডায়েরী লেখার ধারণা এখানেই তৈরি হয় বা এখানেই লেখা শুরু করেন। এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী বলেন, এই সময় হইতে কবির মাথায় পঞ্চভূতের ডায়রীর আইডিয়াটা ঘুরিতেছে এবং হয়তো এইখানেই তাহা শুরু করেন, কারণ মাঘ মাসের (১২৯৯) সাধনায় পঞ্চভূতের ভূমিকা অংশ ছাপা হয়। আবার রামপুর বোয়ালিয়া আসার দশ বছর পূর্বেই এখান থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় কবির রচনা ও কবিতা ছাপা হয়। ১৮৮২ সালে রামসর্বস্ব বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব’ প্রত্রিকায় তাঁর বনফুল, ‘প্রলাপ’ এবং প্রথম গদ্য রচনা ‘ভুবনমৌহিনী, ‘অবসর’, ‘সরোজীনী’ ও ‘দুঃখ সঙ্গিনী’ ছাপা হয়েছিল। রামপুর বোয়ালিয়া আসা বন্ধ হবার পর অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ উৎসাহ পত্রিকায় কয়েকটি রচনা প্রকাশ করেন। রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রাজশাহী থেকে ত্রৈমাসিক পত্রিকা ঐতিহাসিক চিত্র সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়’র অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ঐতিহাসিক চিত্রের প্রথম সংখ্যায় (পৌষ-ফাল্গুন, ১৩০৫) সূচনা লিখে দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক চিত্র সম্পর্কে ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীতে ইতিহাস-চর্চার প্রসারের জন্য অক্ষয়কুমার ১৮৯৯ খ্রীস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের সহায়তায় ‘ঐতিহাসিক চিত্র’ নামে একখানি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা শুরু করেন। বাংলা ভাষায় এইরূপ চেষ্টা এই প্রথম।’৬৪১
২২ শ্রাবণ ১৩৮৪ (৭ আগস্ট ১৯৪১) তারিখে পরলোকগত এ কবির রামপুর বোয়ালিয়ার অধুনা রূপ রাজশাহী মহানগরীতে আসার আর সুযোগ নেই। কৃতিত্বের কারণেই তিনি অমর হয়ে আছেন। তাঁর নামেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের একটি একাডেমিক ভবনের নাম রবীন্দ্র ভবন। বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় সেখানে। রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনের নাম দেয়া হয়েছে রবীন্দ্র ভবন। 
কবির রামপুর বোয়ালিয়ায় আগমন, অবস্থান, কর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আবিষ্কারের জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন। 
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd