অধ্যায় ৯ : শিক্ষা

মেয়র শিক্ষা পদক


রাজশাহী মহানগরীর উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক জ্ঞান চর্চার উদ্দেশ্যে মো. মিজানুর রহমান মিনুর নির্দেশে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৮ সালে মেয়র শিক্ষা পদক প্রবর্তন করে। মহানগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক, শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মেয়র নিজেই কৃতী শিক্ষার্থীদের এ পদক পরিয়ে দেন। ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল মাঠে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অধিকারী মোট ২০ জনকে প্রথম বার মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। ১৯৯৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ১৩ জন এসএসসি ও ১২ জন এইচএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অধিকারীকে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল মাঠে দ্বিতীয় বার মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। ২০০০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান নগর ভবনে ১২ জন এসএসসি ও ১৬ জন এইচএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অধিকারীকে তৃতীয় বার মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। এ বছর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী থেকে সর্বোচ্চ (১৪ জন) পরীক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান অধিকার করায় রাজশাহীর সেরা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক যোবদুল হককে মেয়র স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়েছিল।
 পরীক্ষার ফলাফল গ্রেড পদ্ধতিতে প্রকাশ হওয়ার পর জিপিএ- ৫ প্রাপ্তদের মেয়র পদক প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম গ্রেডভিত্তিক ফল প্রকাশ হয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী মহানগরী থেকে কোন পরীক্ষার্থী জিপিএ- ৫ না পাওয়ায় মেয়র পদক প্রদান করা হয়নি। তবে ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর নগর ভবনে ১৬ জন এইচএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অধিকারীকে ও ১ জন আলিম পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অধিকারীকে চতুর্থ বার পদক প্রদান করা হয়েছিল। ২০০২ সালের ৯ অক্টোবর রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল মাঠে জিপিএ- ৫ প্রাপ্ত ৪ জন এসএসসি এবং ১৩ জন এইচএসসি ও ২ জন আলিম পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অধিকারীকে পঞ্চম বার পদক প্রদান করা হয়। ২০০৩ সালের ১১ আগস্ট জিপিএ- ৫ প্রাপ্ত ২২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ষষ্ঠ বার পদক প্রদান করা হয়। এ বছর থেকে এইচএসসি’র ফল গ্রেডভিত্তিতে প্রকাশ হতে আরম্ভ করে। রাজশাহী মহানগরীর কোন প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জিপিএ- ৫ না পাওয়ায় কেউ মেয়র শিক্ষা পদক পায়নি। 
২০০৪ সালে নগর ভবনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২৪৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি ২২৫জন ও দাখিল ২১জন।১৯৭ ২০০৪ সালেই মেয়র শিক্ষা পদক সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে পবা থানা পর্যন্ত সম্প্রসারণ ও প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৪ সালের ৬ জুন নগরভবন চত্বরে ২০০৩ সালের প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত মোট ৯৪ জনকে মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বোয়ালিয়া (রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকা) থানার ৬৯ জন ও পবা থানার ২৫জন।১৯৮ ২০০৪ সালে মহানগরীর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জনকে ১১ অক্টোবর ২০০৪ তারিখে নগর ভবন প্রাঙ্গণে মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। ২০০৫ সালে জুনিয়র বৃত্তি প্রাপ্তদেরও মেয়র শিক্ষা পদকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৪ জুলাই ২০০৫ তারিখে নগর ভবনে ২০০৪ সালে পবা-বোয়ালিয়ার প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ২৩৮ জনকে পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বোয়ালিয়ার ১৩১ জন ও পবার ১০৭ জন। একই অনুষ্ঠানে ২০০৪ সালের জুনিয়র বৃত্তি প্রাপ্ত ১৬৯ জনকে পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ১৪২ জন বোয়ালিয়ার ও ২৭ জন পবার। এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় রাজশাহীতে অধ্যয়নরত জয়পুরহাট উপজেলা থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও পাকশি কাগজ মিল থেকে জুনিয়র বৃত্তি প্রাপ্ত ২জনকে পদক প্রদান করা হয়। ২১ জুলাই ২০০৫ তারিখে নগর ভবনে রাজশাহী মহানগরী ও পবার এসএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৮৭ জনকে পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩৬৩ জন এসএসসি ও ২৪জন আলিম। ৩৬৩ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে মহানগরীর ৩৫১ জন ও পবার ১২জন। ২৪ জন আলিমের মধ্যে মহানগরীর ১৮ জন ও পবার ৬ জন। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি প্রাপ্তদের এ অনুষ্ঠানে পদক প্রদান করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ২০০৪ সালের প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্তর সংখ্যা ১৫ জন। এরমধ্যে মহানগরীর ১২ জন ও পবার ৩ জন। জুনিয়রে শুধু মহানগরী থেকেই ৩ জন পদক লাভ করে। ১৪.১১.২০০৫ তারিখ সকালে নগর ভবন গ্রীন প্লাজায় ২০০৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মোট ২৮৮ জন শিক্ষার্থীকে পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২৮৬ জন এইচএসসি ও ২জন আলিম পরীক্ষার্থী। পদক প্রদানের ক্ষেত্রে রাজশাহী মহানগরী ও পবা এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পবা উপজেলার কোন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পাওয়ায় শুধু রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীকে এ পদক প্রদান করা হয়। ২০০৬ সালে মোট ১৫৫৫ জনকে মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি-৫৯৩জন, দাখিল ৬৬ জন, এইচএসসি ৪৪৬ জন, আলিম ৫ জন। ২০০৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩২৪ জন ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত ১২১ জন অন্তর্ভুক্ত হয়।
এরপর কয়েক বছর পদক প্রদান বন্ধ থাকে। ২০১১ সালে আবারো শুধু রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিকাষার্থীদের পদক প্রদান শুরু হয়। প্রতিটি পর্যায়ের সমমানের পরীক্ষার্থীরাও এ পদকপ্রাপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ৭৬১ জন ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ৫৫০ জন পরীক্ষার্থী মেয়র শিক্ষা পদক পায়। ২০১২ সালের ৯০৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ২০১২ সালের ১৪ জুলাই, ২১৮১ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট, ১৩৩৮ জন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থীকে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ৮০০ জন জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পদক প্রদান করা হয়। নগর ভবনের গ্রীনপ্লাজায় ২০১১ থেকে ২০১২ সালের সকল পরীক্ষার্থীকে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পদক প্রদান করেন। ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে  ক্রিস্টিয়ানস্যান্ডসিটির মেয়র অরভিড গ্রুন্ডেজনকেও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। 
২০১৩ সালের ৯৮০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ২০১৩ সালের ২ নভেম্বর, ১৬০০ জন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থী ও ১৫৩১ জন জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর পদক প্রদান করা হয়। মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগর ভবনের গ্রীনপ্লাজায় পদক প্রদান করেন।৬২৯
২০১৭ সালের ৫ ও ৬ মে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও সমমানের পরীক্ষায়, ২০১৭ সালের ১২ ও ১৩ মে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়, ২০১৭ সালের ১৯ ও ২০ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মেয়র শিক্ষা পদক ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।৭৯০ গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি, এডুকেশন সিটির ভিশনে মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পদকের সঙ্গে একটি করে নিমগাছের চারাও উপহার দেন। এ সকল কৃতী শিক্ষার্থী রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd