অধ্যায় ৯ : শিক্ষা

রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম (প্রস্তাবিত)


স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন- ২০০৯-এর ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজশাহীর শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিাহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সংরক্ষণ, গবেষণা ও পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২০০৮ সালের নির্বাচিত পরিষদ ৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘ইতিহাস, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়ন স্থায়ী কমিটি’ গঠন করে। কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হন ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনসার আলী এবং সদস্য নিয়োজিত হন ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু (প্যানেল মেয়র-১), ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. বেলাল আহমেদ ও ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর  মো. শহিদুল ইসলাম। কমিটির সদস্য সচিব নিয়োগপ্রাপ্ত হন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব কেএম আব্দুস সালাম। কমিটিকে পরামর্শ দানের মাধ্যমে কার্যক্রম যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রথমে চার জনকে পরামর্শক মনোনীত করা হয়। তাঁরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান, গবেষক  মুহাম্মদ লুৎফুল হক, গবেষক  মাহবুব সিদ্দিকী, নাট্যকার  ফেরদৌস হাসান। ১৯ মে ২০১১ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামাণিককেও পরার্শক নিযুক্ত করা হয়েছিল। এরপর কমিটির কার্যক্রমকে আরও গতিবহ, সুষ্ঠু ও বিশেষায়িত করার লক্ষ্যে ২৪ মে ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় আরো ৪ জন পরামর্শক মনোনীত হন। তাঁরা ছিলেন গবেষক অধ্যাপক ফজলুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক  আকবারুল হাসান মিল্ল¬াত এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের উপ প্রধান সংরক্ষণ অফিসার  মো. আব্দুল কুদ্দুস। অস্থায়ী কিউরেটর মো. আনারুল হক (তৎকালীন অস্থায়ী সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা) সদস্য সচিবের পক্ষে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পরামর্শকগণ ইতিহাস ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ একে অপরের পরিপূরক বলে মনে করেছিলেন। তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন যে, ইতিহাস ও পুরাকীর্তি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করা গেলে যেমন পর্যটনের বিকাশ ঘটানো সম্ভব; তেমনি পর্যটন ব্যবস্থার উন্নতি-বিধান যথার্থরূপে করতে হলে আমাদের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও চিত্তগ্রাহীরূপে উপস্থাপনের দিকে বিশেষ যত্ন  নেয়া প্রয়োজন। এ ধারণায় কমিটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষের নিকট ‘রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম কাম আর্কাইভস’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পেশ করে। এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুসারে রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর তৃতীয় তফসিলের ২৬.৭ (গ) ধারায় কর্পোরেশনের বিস্তারিত কার্যাবলীতে উল্লেখ আছে, ‘যাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি স্থাপন এবং উহার রক্ষিত জিনিসপত্রের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করিতে পারিবে;।’ 
স্থায়ী কমিটির বিভিন্ন সভায় আলোচনার ফলশ্রুতিতে ৩০ অক্টোবর ২০১১ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিটির ৯ম সভায় মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্দেশনায় ২টি সাব-কমিটি গঠন করা হয়: ১. পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও বড়কুঠিকে পর্যটন কেন্দ্রে উন্নয়ন সাব-কমিটি এবং ২. মহানগর মিউজিয়াম সাব-কমিটি। ২০ নভেম্বর ২০১১, ১১ ডিসেম্বর ২০১১ এবং ২৯ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ১০ম সভা, ১০ম মুলতবি সভা-১ এবং ১০ম মুলতবি সভা-২ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, জাদুঘরের উপকরণ সংগ্রহের জন্য মেয়রের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে মত বিনিময় সভার আয়োজন এবং  সংগৃহীত নিদর্শন সংরক্ষণের স্থান নির্ধারণ করা হবে। ৮ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির একাদশ সভায় জাদুঘরের জন্য সংগৃহীত দলিলপত্র ও ক্ষুদ্র উপকরণ আপাতত নগর ভবনের ২১১ নং কক্ষে এবং বৃহদাকার নিদর্শন সংগ্রহের জন্য নগর ভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার প্রকল্পের টিন শেডের কক্ষটি ব্যবহৃত হবে। 
এরপর ২৭ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে বিকেলে নগরভবনে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আনসার আলীর সভাপতিত্বে এবং মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের আতিথ্যে রাজশাহীর প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অধীনে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডের ১০ জন করে সচেতন ব্যক্তিকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ঐ সভায় উপস্থিত মহানগরবাসী মিউজিয়ামের একটি  নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব জানিয়েছিলেন। যা ৩০ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চদশ সভায় অনুমোদন লাভ করে। এরপর বেশ শক্ত অবস্থানে গিয়েই মিউজিয়ামের কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। স্থায়ী কমিটির ৪ মার্চ ২০১২ তারিখের চতুর্দশ সভায় রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৯ সদস্য বিশিষ্ট ‘জাদুঘর নীতিমালা প্রণয়ন ও সাইট সিলেকশন’ উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এর সভাপতি মনোনীত হন স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আনসার আলী। অন্যান্য সদস্য ছিলেন সরিফুল ইসলাম বাবু (প্যানেল মেয়র-১ ও কাউন্সিলর, ১২ নং ওয়ার্ড), প্রফেসর ড. মো. মাহবুবর রহমান (ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), প্রফেসর ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী (ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ফজলুল হক (সম্পাদক, দৈনিক সোনার দেশ, রাজশাহী), অ্যাডভোকেট মো. মোহসীন খান,  মো. আব্দুল কুদ্দুস (উপ প্রধান সংরক্ষণ অফিসার, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর),  কেএম আব্দুস সালাম (সচিব, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন), মো. আশরাফুল হক (প্রধান প্রকৌশলী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন)। এ সভায় সিটি মিউজিয়ামের একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুতির জন্য মো. আব্দুল কুদ্দুসকে অনুরোধ জানানো হয়। উপ-কমিটির প্রথম সভা ১৫ মার্চ ২০১২ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩.০০ টায় মো. আনসার আলীর সভাপতিত্বে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের গ্রন্থাগার ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় মো. আব্দুল কুদ্দুস একটি খসড়া নীতিমালা উপস্থাপন করেন। মো. আব্দুল কুদ্দুস কর্তৃক উপস্থাপিত খসড়া নীতিমালার উপর বিস্তারিত আলোচনা শেষে কতিপয় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়। উপ-কমিটির ২য় সভা ২৮ মার্চ ২০১২ তারিখে কাজলার জামরুলতলায় অবস্থিত হেরিটেজ: বাংলাদেশের ইতিহাসের আরকাইভস্ এর ৪৫৬-ক ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সংশোধিত নীতিমালা উপস্থাপিত হলে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং ১১ এপ্রিল ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ষোড়শ সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু নীতিমালায় ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন পদ শূন্য হলে বা অপসারিত হলে, তা পূরণের বিষয়ে এবং আরও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হলে নীতিমালা পুনরায় সংশোধনীর জন্য উপ-কমিটিকে পরামর্শ প্রদান করা হয়। উপ-কমিটি দায়িত্ব অর্পণ করেছিল মো. আনারুল হককে। ইতিহাস, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়ন স্থায়ী কমিটি ও মিউজিয়াম নীতিমালা উপ-কমিটি যৌথভাবে ১২ জুলাই ২০১২ তারিখে একটি সভায় মিলিত হয় এবং বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কিছু সংশোধনী প্রণয়ন করে। একই সভায় মিউজিয়াম ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও কর্পোরেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা (অস্থায়ী) মো. আনারুল হককে মিউজিয়ামের অস্থায়ী কিউরেটর পদে নিয়োগদানের সুপারিশ করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায় মিউজিয়ামের নীতিমালা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মনোনয়ন এবং ভারপ্রাপ্ত কিউরেটর নিয়োগের বিষয় চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। মো. আনারুল হক স্মারক নং ৪৬.০৩.৬১০০.০০৩.০৩.২৬৫৮.১৩.১১৫ তারিখ-৩০.৩.১৩ এর অফিস আদেশের ভিত্তিতে ১ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে অস্থায়ী কিউরেটর হিসেবে যোগদান করেন। নীতিমালা অনুযায়ী রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠিত হয় ১৭ জুন ২০১২ তারিখের সাধারণ সভার অনুমোদনের ভিত্তিতে। এ কমিটির  সভাপতি ছিলেন পদাধিকার  বলে তৎকালীন মেয়র  এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সদস্য ছিলেন ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ফজলুল হক, প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামাণিক, অ্যাডভোকেট মহসীন খান, মো. আব্দুল কুদ্দুস, প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু, স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আনসার আলী, জেলা প্রশাসনের ১ জন প্রতিনিধি ও সিটি কর্পোরেশনের সচিব কেএম আব্দুস সালাম এবং সদস্য সচিব হয়েছিলেন পদাধিকার বলে অস্থায়ী কিউরেটর মো. আনারুল হক। কিন্তু কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ জুন নির্বাচনের মাধ্যমে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে নতুন পরিষদ গঠিত হয়। নতুন পষিদের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি ও প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামের বিষয়ে প্রস্তাবিত উপাচার্য ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিন ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সভা করেন তাঁর দপ্তরে। ঐ সভাতেই রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামের সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। ঐ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলীর নির্দেশক্রমে সচিব একেএম মাসুদুজ্জামান ও কিউরেটর মো. আনারুল হক সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়নের কাজ আরম্ভ করেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ড. আজমল খানসহ আরো কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় সাংগঠনিক কাঠামোটি প্রণীত হয়। ২৯ জুন ২০১৫ তারিখে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র মো. নিযাম উল আযীম কাঠামোটি অনুমোদনের জন্য সাধারণ সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর সভাপতিত্বেই ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায় সাংগঠনিক কাঠামো সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সাধারণ সভায় এজেন্ডাটি উপস্থাপন করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী। আলোচনায় অংশ নেন ইতিহাস, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও পর্যটন স্থায়ী কমিটির সদস্য ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুস সোহবান লিটন। সরকারের অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে কাঠামোটি হস্তান্তর করে আসেন সচিবের ব্যক্তিগত সহকারী মো. সামাউন হোসেন। ১০ জানুয়ারি তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অভিজিৎ। তবে কাঠামোটি এখনও অনুমোদন হয়নি।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd