অধ্যায় ৯ : শিক্ষা

মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার


মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগারটির নিজস্ব অবকাঠামো নেই। বিভিন্ন জায়গা পরিবর্তনের পর ১১মার্চ ২০১৬ তারিখ রাত ৮টায় দেখা যায় পাঠাগারটির অবস্থান আলুপট্টির দৈনিক বার্তা ভবনের বিপরীত পাশের গলি সাগরপাড়ার ৪২৫ নং ৫তলা ভবনের নিচতলায়। কিচেন-বাথরুম ছাড়াও পাঠাগারের ছোট-বড় ৫টি কক্ষ আছে। প্রধান কক্ষটির নাম শহীদ জননী জাহানারা ইমাম পাঠকক্ষ। এছাড়াও আছে রায়হানুল হক মন্টু অনুশীলন কক্ষ, সোহেল সভা কক্ষ, দপ্তর কক্ষ ও প্রবীণ শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের বসার কক্ষ। রায়হানুল হক মন্টু অনুশীলন কক্ষে সংস্কৃতি চর্চা করা হয়। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম পাঠ কক্ষে আছে ৮টি সেলফ, একটি চৌকোনা আকৃতির বড় পাঠ টেবিল। অন্য রুমেও একটি সেলফ আছে। পাঠ টেবিলে ২০ জন পাঠক বসে পড়ার সুযোগ আছে। সেলফগুলোর ৪টিতে আছে বই, ১টিতে আছে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দ শাফিকুল আলমের বড় ফ্রেমে বাঁধাই ছবি। অন্যগুলো ফাঁকা। লাইব্রেরির ক্যাটালগ হয়নি। একটি জাতীয় ও একটি স্থানীয় পত্রিকা নেয়া হয়। পাঠাগার প্রতিদিনই সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ন’টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পাঠক এখানে বসে বই পড়তে পারে। অনেকে ধার নিয়ে যায়। 

এ ভবনের নিচতলায় মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার (ছবি-জানুয়ারি ২০১৭)

পাঠাগারের জন্মকাল ২০০১ সালের ১অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনের পর। প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দ শাফিকুল আলম। সঙ্গে ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তাধারার কিছু বুুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক, অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান, অধ্যক্ষ রাজকুমার সরকার, সাংবাদিক আকবারুল হাসান মিল্লাত, অধ্যাপক ড. সুজিত সরকার, সাংবাদিক মাহাতাব উদ্দিন, রায়হানুল হক মন্টু, প্রশান্ত কুমার শাহা, ইঞ্জিনিয়ার তাজুল ইসলাম, সিরাজী বাচ্চু, দিলিপ কুমার ঘোষ, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশ, জুলফিকার আহম্মেদ গোলাপ, শাজাহান আলি, কামরুল্লাহ সরকার প্রমুখ। পরবর্তীতে যোগ দেন সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবু, কামরুজ্জামান, মজিদা আক্তার বিথিসহ অনেকে। ২০১১ সালে পাঠাগার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দ শাফিকুল আলম। ২০০৭ সালে পাঠাগারের একটি গঠনতন্ত্র প্রণীত হয় এবং কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এ কমিটিরও সভাপতি ছিলেন অধ্যক্ষ শফিকুর রহমানা বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দ শাফিকুল আলম। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি হন ইঞ্জিনিয়ার তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান। সাউথ ইস্ট ব্যাংক লি. রাজশাহী শাখার ম্যানেজার আরিফুল হক কুমারের কক্ষে একদিন  ইঞ্জিনিয়ার তাজুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনায় অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা বলেন। ২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় শাহ্ মুখদুম কলেজ প্রাঙ্গণে এ পাঠাগারের নির্বাহী সদস্য সাঈদুজ্জামান সিপন জানান তিনিও এ প্রতিষ্ঠানটির জন্মকাল থেকে সংশ্লিষ্ট।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচনের পর প্রগতিশীল চিন্তাধারার উল্লিখিত ব্যক্তিমণ্ডলির প্রচেষ্টার ফসল মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার। তাঁরা সে সময় সাহেব বাজার বড় মসজিদের পূর্ব দক্ষিণ পাশের একটি ঘরে বসতেন এবং সেখানেই এ বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রথমে তাঁরা একটি সংগঠন গড়ে তোলার কথা ভাবেন এবং আলোচনার এক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার নির্মাণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সাগরপাড়ায় একটি খড়ির আড়তের পাশে পাঠাগারের যাত্রা আরম্ভ হয়। কয়েক মাস পর ২০০২ সালে বোয়ালিয়া থানার মোড়ের পশ্চিম পাশে আইনুদ্দিনের বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়। ২০০৫ সালে সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয় কুমারপাড়ায়। ২০০৭ সালে সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয় খানসামার চকে সাংবাদিক মাহাতাব উদ্দিনের বাড়ির বিপরীত পাশে। এ বাড়িতেই পাঠাগারের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়। ২০১১ সালে সেখান থেকে চলে আসে বর্তমান সাগরপাড়া ৪২৫ নং হোল্ডিংয়ে হাবিবুর রহমানের ৫তলা বাড়ির নিচতলায়।৬৩২
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd