অধ্যায় ৯ : শিক্ষা

বরেন্দ্র কলেজ


বরেন্দ্র কলেজের প্রধান গেট (উত্তরমুখী)

বরেন্দ্র কলেজ মধ্য নগরীর ঘোড়ামারায় অবস্থিত। এখানে এক সময় ছিল দিঘাপতিয়ার জমিদার পরিবারের জামাই মহেন্দ্র উকিলের বাড়ি। এর পশ্চিম পাশে ছিল দিঘাপতিয়ার জমিদার পরিবারের বাড়ি। যা বর্তমানে একটি গোয়েন্দা অফিস। দেশের সর্ব প্রথম জাদুঘর বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের যাত্রা শুরু হয়েছিল মহেন্দ্র উকিলের বাড়িতেই। পরে বিভাগ উন্নয়ন অফিস হয় এবং বর্তমানে বরেন্দ্র কলেজ। তবে পুরনো অবকাঠামো ভেঙে ফেলে নতুন ভবন তৈরি হওয়ার কারণে প্রাচীনত্বের চিহ্ন নেই।
বিংশ শতাব্দীর কতিপয় শিক্ষানুরাগী সচেতন মানুষের উদ্যোগ ও পরবর্তী গুণীজনদের প্রচেষ্টার ফসল আজকের বরেন্দ্র কলেজ। উদ্যোগী গুণীজনরা একটি কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বেলদারপাড়ার সাবিত্রী বালিকা বিদ্যালয়ে একটি সভায় মিলিত হয়েছিলেন। ঐ সভা রাজশাহী নৈশ মহাবিদ্যালয় নামে একটি কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রস্তাবিত কলেজ পরিচালানার জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে। অ্যাডভোকেট মজিবর রহমানকে সভাপতি, বেগম আনোয়ারা বেগমকে সহ সভাপতি ও অ্যাডভোকেট রফিকুল হাসানকে সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছিল। সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট মহসিন প্রামাণিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী, অ্যাডভোকেট মহসীন খান, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম সরকার, আব্দুল কুদ্দুস, হায়দার আলী, নূরুন নবী চাঁদ এমপি, মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি ও ইসতিয়াক আহমেদ বাবলু। ১৯৮৫ সালেই আর একটি সভা রাজশাহী নৈশ মহাবিদ্যালয় নামে পরিবর্তন এনে রাখে বরেন্দ্র  মহাবিদ্যালয় (নৈশ)। এ সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে মুরাদুজ্জামানকে অধ্যক্ষ নিয়োগ ও  মহাবিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে রাজশাহী লোকনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে আনা হয়। ১৯৮৬ সালে মহাবিদ্যালয় পরিচালনার জন্য প্রথম নির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়েছিল। এর সভাপতি হয়েছিলেন জেলা প্রশাসক ছৈয়দুর রহমান। মহাবিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষাবর্ষ ১৯৮৫-১৯৮৬। শিক্ষার্থীরা ১৯৮৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পায়। নির্বাহী পরিষদের ১৯৮৬ সালের সভা ১৯৮৭-১৯৮৮ সালের শিক্ষাবর্ষে দিবা শাখা চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 
১৯৮৯ সালে মহাবিদ্যালয়টি শিক্ষা বোর্ডের মঞ্জুরিপ্রাপ্ত হয়। ভূমি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কবীর হোসেনের সহযোগিতায় ১৯৯৫ সালে মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান জায়গাটি পাওয়া যায় এবং ত্রিতল ভবন নির্মাণ হয়। পরবর্তীতে এখানে দিবা ও নৈশ শাখা চালু হয়। পরে শাখা দুটি দিবা ও প্রভাতী হয়েছিল। দিবা ও প্রভাতী শাখা দুটির মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এ কারণে একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। ফজলে হোসেন বাদশা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এ শোচনীয় অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করেন এবং সফল হন। ফলে ২০১১ সালের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শাখা দুটি একত্রিত হয়ে যায়। বাদশার প্রচেষ্টাতেই কলেজের ৫ তলা ভবন নির্মাণের কাজ অব্যাহত আছে।৬৮৮
অধ্যক্ষ আলমগীর মো. আব্দুল মালেক ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক মামুনুর রশীদের ২২ জুলাই ২০১৬ তারিখের প্রদত্ত তথ্যানুসারে এখানে কলা, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সুযোগ পায় ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। মোট বিষয়ের সংখ্যা ২৩ টি। ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে (২য় বর্ষ) ৯৮০ জন ও ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে (১ম বর্ষ) ১০০০ জন। শিক্ষক ৫৩ জন। এমপিওভুক্ত কর্মচারী ১৬ জন ও ননএমপিওভুক্ত ৬ জন। বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর নূরল আলম ও অধ্যক্ষ আলমগীর মো. আব্দুল মালেক।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd