অধ্যায় ৯ : শিক্ষা

রাজশাহী সরকারী সিটি কলেজ


১৯৫২ সালে রাজশাহী কলেজে নৈশ ইন্টারমিডিয়েট কমার্স কলেজ খোলা হলে সেখানকার উত্তীর্ণ কতিপয় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের চেতনায় রাজশাহী সিটি কলেজ ১৯৫৮ সালে জন্ম লাভ করে।৮৯ তখন রাজশাহী কলেজে বিকম পড়ানো হতো না। তাই বিকম পড়ার জন্য জনসাধারণ একটি নৈশ বি.কম কলেজের প্রয়োজন অনুভব করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৬ সালের জুন মাসে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান শামশ-উল-হকের আহবানে মিউনিসিপ্যাল হলে ডিএম কেরামত আলীর সভাপতিত্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং নৈশ মহাবিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর ১৯৫৭ সালের শেষ পর্যায়ে রাজশাহী মিনিসটেরিয়াল অফিসার্স এসোসিয়েশনের৭৯৪ উদ্যোগে কালেক্টরের এজলাসে আর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় নৈশ মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ডিএম ওসমানকে সভাপতি করে একটি গভর্নিং বডি তৈরি করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ ছিলেন জেলা বোর্ডের সভাপাতি, মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান, সদর এসডিও, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আজিজুল ইসলাম, কসির উদ্দীন মৃধা, লোকনাথ স্কুলের সম্পাদক অ্যাডভোকেট রহমত আলী, আব্দুল মৌঈজ প্রমুখ। সভায় আরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল লোকনাথ স্কুলে ভাড়ায় রাতে কলেজের ক্লাস ও অন্যান্য কাজ আরম্ভ হবে। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়েছিল বিখ্যাত গাণিতিক আবদুল করিম মণ্ডলকে। তিনি ছিলেন কলেজের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।১ ১৯৮২ সালের ১ মে কলেজটি সরকারি হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৩ তারিখের তথ্যানুসারে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। শিক্ষক সংখ্যা ৬৪ জন।৮৯ 
১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে আই. এ. ক্লাসে প্রথম ছাত্র ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। অফিসিয়াল কাজ শুরু হয় ১৯৫৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ আবদুল করিম মণ্ডলের বাসভবনে (বর্তমান করিম সুপার মার্কেট)। একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল লোকনাথ হাই স্কুলে। ১৯৬০ সালে রাজার হাতা মহল্লায় নাটোরের রাজা বীরেন্দ্র কুমার রায়বাহাদুরের পরিত্যক্ত কাচারি বাড়িতে স্থানান্তর হয়। বর্তমান সেখানেই আছে। ১৯৬২ সালে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।৭৯৪

রাজশাহী সরকারী সিটি কলেজের বর্তমান ভবন (দক্ষিণমুখী গেট)

১৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (স্মমান) ও স্নাতন (পাস কোর্স) শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ে। উচ্চ মাধ্যমিক কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান শাখা আছে। স্নাতক পর্যায়ে আছে ১৯টি বিষয়। এর মধ্যে ১৫ টি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) পড়ানো হয়। আরো ৪টি বিষয়ে সম্মান পড়ানোর অনুমোদন পাওয়া গেছে। সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক সংখ্যা ৬০ জন। নিয়মিত কর্মচারী আছেন ৬ জন ও অনিয়মিত কর্মচারীর সংখ্যা ১৯ জন। এইচএসসি পরীক্ষা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর অধীনে ও স্নাতক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd