অধ্যায় ৭: সংসদ সদস্য

মোহাম্মদ কবীর হোসেন


মোহাম্মদ কবীর হোসেন

রাজশাহী মহানগরীর প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ কবীর হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ৫ম, ৭ম ও ৮ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৫ম ও ৭ম সংসদে তিনি রাজশাহী-২ (পবা-বোয়ালিয়া) আসন থেকে এবং ৮ম সংসদে বাঘা-চারঘাট আসন থেকে নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৪১ সালের ১৬ এপ্রিল ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম তাহের হোসেন ও মাতার নাম মোসাম্মৎ ফাতেমা। 
কবীর হোসেনের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ১৯৪৬ সালে বরিশাল এ.কে. হাই স্কুলে এবং ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি নার্গিস বেগমকে বিয়ে করেন। এ দম্পতি ২ কন্যা ও ১ পুত্রের জনক-জননী। পুত্রের নাম অস্থির।
কবীর হোসেন নামের স্বাধীনচেতা মানুষটি ব্যাংকের চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে রাজশাহী জেলা জজ আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। তিনি দেশ স্বাধীনের পূর্ব থেকেই বাম রাজনীতির আদর্শ পোষণ করতেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জাসদ) জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। রাজশাহী জেলা নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিএনপি’র বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক কারণে ১৯৮৫ সালে ও ১৯৮৭-৮৮ সালে কারাবরণ করেন। দুবারই তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। তার কারাবরণের সময় ছিল প্রায় ১ বছর। এডভোকেট মহসীন, মুজিবুল হক বকু, এখলাক হোসেন প্রমুখ তার কারা সঙ্গী ছিলেন।২১৫ 
১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-২ (পবা-বোয়ালিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বচিত হন। তিনি ৮১ হাজার ১৪টি ভোট পান।২১৬ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তন হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে তিনি বিএনপি-র প্রার্থী হয়ে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ১,০৮,৪৭১টি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছিলেন ৭৫,৮০৩টি ভোট।২১৬ ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় বিএনপি-র প্রার্থী হয়ে রাজশাহী-৫ (বাঘা-চারঘাট) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮৮,১৭৩টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. রায়হানুল পেয়েছিলেন ৫৪,৮৮২টি ভোট।২১৭
কবীর হোসেনের শখ গল্প, উপন্যাস ও জীবনী গ্রন্থ পাঠ। রবীন্দ্র সংগীত প্রিয় গান। বর্তমানে তিনি ১৭১/৩ হাউজিং এস্টেট, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।২১৮ এর পূর্বে তিনি রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া ঘোড়ামারায় বাস করতেন। ৭ম সংসদ নির্বাচনের কিছুকাল পর তিনি বর্তমান স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd