অধ্যায় ৫: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন

মো. রেজাউন নবী দুদু


মো. রেজাউন নবী দুদু 

মো. রেজাউন নবী দুদু রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়ায় ১৯৫৫ সালের ১৩ এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা রইস উদ্দিন ১৯৪৩ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং আইনজীবী পেশা গ্রহণ করেন। সমাজ সেবার প্রেরণা থেকে ১৯ শ সালের ষাটের দশকের শুরুর দিকে তিনি রাজশাহী পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মা মাজেদা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ২০০৭ সালে তিনি মারা যান। এ দম্পতির ৫ পুত্র ও ৪ কন্যার মধ্যে দুদু সবার বড়।
দুদুর একাডেমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল তৎকালীন রাজশাহী শহরের সর্বাধুনিক প্রতিষ্ঠান প্রিপারেটরী স্কুলে। তখন স্কুলটির অবস্থান ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের জায়গায়। বর্তমানে স্কুলটির নাম রাজশাহী কালেক্টরেট রিভারভিউ স্কুল। প্রিপারেটরী স্কুলে কেজি শ্রেণিতে ভর্তি হন দুদু। সে সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এক বিদেশিনী। এখানে স্ট্যান্ডার্ড ওয়ান পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন ও ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। এরপর রাজশাহী লোকনাথ হাই স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৭০ সালে কলা গ্রুপে এসএসসি পাস করেন। এরপর রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১৯৭২ সালে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭২-১৯৭৩ সেশনে তিনি রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্সে ভর্তি হন এবং সেশনজটের কারণে ১৯৭৮ সালে অনার্স পাস করেন। ধারাবাহিক একাডেমিক শিক্ষার এখানেই সমাপ্তি ঘটে। তবে দীর্ঘদিন পর ২০০৯ সালে ইউআইটিএস থেকে এলএলবি পাস করেন। তাঁর পেশা জীবন শুরু হয়েছিল ব্যাংকার হিসেবে। কয়েক বছর পর ব্যাংকের চাকরিতে ইস্তফা দেন। পরবর্তীতে ঠিকাদারী ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট হন।
দুদু ১৯৮৮ সালে রাজশাহী পৌর কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। তৎকালীন ১০ নং ওয়ার্ড বর্তমান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড। এরপর আরও দু’বার ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড থেকে কমিশনার নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ১১ জুন মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু গ্রেফতারের পূর্বে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব প্রদান করেন। ২০০৮ সালের ৪ আগষ্ট রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন এবং ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
দুদু ছাত্র জীবনেই ১৯৭৬ সালের ২৭ এপ্রিল দরগাপাড়া নিবাসী মো. হাফিজ উদ্দিনের কন্যা রুখসানাকে বিয়ে করেন। এ দম্পতি দু’কন্যা সাবরিনা মোমেন, শারমিনা মোমেন ও এক পুত্র মো. রাশিদ উন নবীর জনক-জননী। 
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ দুদুর বড় কৃতিত্ব। তাঁর তথ্যানুসারে প্রথমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মো. আব্দুল হাদীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। নভেম্বর মাসে তিনি ৭ নং সেক্টরের ৪নং সাব সেক্টরে পাহাড়পুর লালগোলা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দুদু ক্রীড়াসহ সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd