অধ্যায় ৫: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন

আলহাজ মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বাবলু


আলহাজ মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বাবলু২০০

আলহাজ মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বাবলু, অ্যাডভোকেট  এম.আব্দুল হাদী  ও  দুরুল হুদার পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনোনীত হন।  মেয়র  ছাড়াও  তিনি  প্রতিমন্ত্রীসহ  রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ  পদে  অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ১ জানুয়ারি ১৯৪১ তারিখে রাজশাহী মহানগরীর মালোপাড়ায় কলেজ রোডের বাড়িতে (সোনাদিঘির মোড়) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আফাজউদ্দিন এবং মা মোসা. নজিফুন্নেসা।
বাবলুর পূর্ব পুরুষের নিবাস ভারতের পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায়। বাবা আফাজ উদ্দিন ১৯০৮ সালে মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি রাজশাহী কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৪৭ সালে সম্পত্তি বিনিময়ের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীতে চলে আসেন ও রাজশাহীর আদালতের মুক্তার হন। ১৯৭৭ সালের ২৮ জানুয়ারি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মুসলিম লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে সাধারণ সম্পাদক হন। গত শতাব্দীর পঞ্চাশ দশকের শেষ কিংবা ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি রাজশাহী পৌরসভার কমিশনার ছিলেন। ১৯৪০ সালে তিনি মুর্শিদাবাদের ডোমকুল নিবাসী ষোড়শী মোসা. নজিফুন্নেসাকে বিয়ে করেন। নজিফুন্নেসা ৯ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে সকাল সাড়ে দশটায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।২০৪ মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।২০৪ ঐ দম্পতির ৫ সন্তানের মধ্যে ৩ জন ছেলে এবং ২ জন মেয়ে। তাদের মধ্যে বাবলু সবার বড়। বাবলু মহানগরীর পিএন বালিকা বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়াশুনা করার পর গোয়ালপাড়া পাঠশালায় (বর্তমানে হোসেনীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি উত্তীর্ণ হন। এরপর রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং অকৃতকার্য না হয়ে ১৯৫৮ সালে কলা বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। রাজশাহী কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়ে মাত্র কয়েক মাস ক্লাস করে পাকিস্তান চলে যান। সেখানে তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সেন্ট্রাল গভ. কলেজ, নাজিমাবাদে ভর্তি হন এবং ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেন। কিন্তু রেজাল্ট স্থগিত হওয়ার কারণে আর পড়াশুনা করেননি। ঐ কলেজে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করেন। সে সময় ৩৬ জন বাঙালি ঐ কলেজে পড়াশুনা করতেন। বাবলুই ছিলেন প্রথম বাঙালি ছাত্র, যিনি ঐ কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম বাঙালি সদস্য ছিলেন। 
১৯৬২ সালে রোকেয়া বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রোকেয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্সসহ মাস্টার্স করেন। ঐ দম্পতির ৬ সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে এবং ৪ ছেলে। মেয়ে দুজন সবার বড়। বাবলু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০-৮৩ সালে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের ডাইরেক্টর ও ১৯৮২-৮৪ সালের রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হন। ১৯৮৩-৮৪ সালে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সহ-সভাপতি ও বিসিএসআইআর (বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিসার্চ) এর পরিচালক, ১৯৮৪-৮৫ সালে ন্যাশনাল কমিশন অব মানি ব্যাংকিং অ্যান্ড ক্রেডিট এর সদস্য হন। ২ আগস্ট ১৯৮৫ থেকে ২৩ মার্চ ১৯৮৬ ও ২৫ মে ১৯৮৬ থেকে ৮ জুলাই ১৯৮৬ তারিখ পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং ৯ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ১০ আগস্ট ১৯৮৭ তারিখ পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের শিল্প প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭-৯০ সালে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক, ১৯৮৮-৯০ সালে বিনিয়োগ বোর্ড, অডিট বিভাগের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৯-৯০ সালে মিউনিসিপ্যাল কমিশনের সদস্য ও ৬ নভেম্বর ১৯৯০ হতে ৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ তারিখ পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ৩য় ও ৪র্থ সংসদে তিনি রাজশাহী পবা-বোয়ালিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে তার নিকট থেকে জানা যায়, তিনি ঢাকায় অবস্থান করে দি স্পন্দন লি. এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বরত আছেন। 
টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা চলাকালীন তিনি ২৯ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে ভোর ৬ টার দিকে ঢাকা বিমানবন্দর মসজিদে বয়ান শোনার সময় হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতুবরণ করেন। সে দিনই বাদ আসর ঢাকার উত্তরা জামে মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান গোরস্থানে দাফন করা হয়।২৬৭ 
 


রাজশাহীর কথা

আনারুল হক আনা

তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল 2018

প্রকাশনা : DesktopIT


www.desktopit.com.bd